কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিষিদ্ধ তিন চাকার যান আটককে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে অটোরিকশাচালকদের অভিযোগ, হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা একজন অটোরিকশাচালককে মারধর করেছেন। এতে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেন দিয়ে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উল্টো পথে আসছিল। এ সময় ময়নামতি হাইওয়ে থানার পুলিশ দুটি অটোরিকশা থামায়। তখন আরেকটি অটোরিকশা দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল।
হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা ওই অটোরিকশাচালককেও থামতে বলেন। এ নিয়ে চালকের সঙ্গে পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় হাইওয়ে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশাটি কাত হয়ে যায় এবং চালক নিচে পড়ে ব্যথা পান। এমন পরিস্থিতিতে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা প্রথমে পুলিশ সদস্যদের মারধর করে। একপর্যায়ে তারা রড, পাইপ ও কাঠ দিয়ে হাইওয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। স্থানীয় অটোরিকশাচালক বলেন, নিমসার বাজার এলাকায় কাঁচামাল পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাকে কেন্দ্র করে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে চালকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাচালক ক্ষমা চাইলেও এক পুলিশ সদস্য ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়ির সামনের গ্লাসে আঘাত করেন। এতে গ্লাস ভেঙে যায় এবং চালক আহত হন। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারে উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা সরে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান বলেন, এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছে। যারা পুলিশের গাড়িতে হামলা চালিয়েছেন, তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। কুমিল্লার ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিন চাকার যানচলাচল নিষিদ্ধ। অবৈধ যান চলাচলে বাধা দেয়ায় হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা হয়েছে। খবর পেয়ে দ্রুত আমাদের অতিরিক্ত সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সময় আমাদের ছয়জন পুলিশ সদস্য সেখানে ছিল। অতিরিক্ত সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং ভাঙচুর হওয়া গাড়িটি সরিয়ে আনে।’এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় মামলা করা হয়েছে । জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে।
