শিশু রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে, দ্রুত শুনানির উদ্যোগ রাষ্ট্রপক্ষের

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে পেপারবুক তৈরির কাজ সম্পন্ন হবে। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর আগামী রোববার থেকে প্রধান বিচারপতির গঠিত নতুন বেঞ্চে মামলাটির শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে পুলিশ পাহারায় ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন স্বাক্ষরিত রায়ের নথিপত্র হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নিম্ন আদালত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। বর্তমানে মামলার নথিটি সুপ্রিম কোর্টের আদান-প্রদান শাখায় গ্রহণ করা হয়েছে। জনমনে প্রত্যাশা রয়েছে, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। তবে আসামিপক্ষ জেল আপিল করতে চাইলে তাদের আইনগত সুযোগ দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ধরনের অযৌক্তিক সময়ক্ষেপণ বা মুলতবির আবেদন করা হবে না। দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে মামলাটির জন্য বিশেষ আইনজীবীও মনোনীত করা হয়েছে। দ্রুত শুনানির মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৭ই জুন রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াই ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত। ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন