খাঁটি বাঙালির যেমন মাছে-ভাতে না হলে চলে না, উত্তর ইউরোপের দেশ নরওয়ের ফুটবলারদেরও নাকি তেমনই অবস্থা! মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে গোলমেশিন আর্লিং ব্রুট হালান্দ ও অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডদের চাই ঘরের খাবারের স্বাদ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ মাতাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেই অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়ে বসেছে নরওয়েজিয়ানরা। খেলোয়াড়দের ঘরের আবহ দিতে উত্তর ক্যারোলিনার গ্রিনসবোরো অনুশীলন ক্যাম্পে তারা উড়িয়ে এনেছে ৩০০ কেজিরও বেশি ঐতিহ্যবাহী মাছ এবং ১১৬ কেজি বিখ্যাত ‘ব্রাউন চিজ’ বা বাদামি পনির!
১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। গ্রুপ ‘আই’-তে ফ্রান্স, সেনেগাল এবং ইরাকের সঙ্গে লড়বে তারা। তবে বুটের ধার বাড়ানোর পাশাপাশি পেটের আস্থার দিকেও শতভাগ নজর দলটির। খেলোয়াড়দের পুষ্টি ও রসনাতৃপ্তির জন্য অলিম্পিকজয়ী রন্ধনশিল্পী অ্যারন এস্পেল্যান্ড এবং এরিক টুফটেকে উড়িয়ে এনেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। আমেরিকার মাটিতে ঘরের স্বাদ আনাটা অবশ্য মোটেও সহজ ছিল না। নরওয়েজিয়ান
সংবাদমাধ্যম ‘ভিজি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শেফ অ্যারন এস্পেল্যান্ড বলেন, ‘আমরা খাঁটি নরওয়েজিয়ান উপাদান দিয়ে সেরা খাবারটা খেলোয়াড়দের পাতে দিতে চাই। তবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে আমেরিকায় আধ টন মাছ-পনির নিয়ে আসার এই রসদ সরবরাহ মোটেও সহজ কাজ ছিল না।’ ১৯৯৯ সালে জন্ম নেয়া ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্দের জন্য এই বিশ্বকাপ এক আজন্ম স্বপ্নপূরণের গল্প। ২০১৯ সালে অভিষেকের পর থেকেই দেশকে বিশ্বমঞ্চে তোলার তাড়না ছিল তার বুকে। রোমাঞ্চ আর চাপ সামলে হালান্দ বলেন, ‘২০১৯ সালে অভিষেকের পর থেকেই আমার বড় লক্ষ্য ছিল নরওয়েকে বিশ্বকাপ ও ইউরোতে নিয়ে যাওয়া। আমার ওপর প্রবল চাপ আছে জানি। তবে এই চাপ আমি উপভোগ করি। আমাদের এখন একটা দুর্দান্ত প্রজন্ম আছে, আমি নরওয়েকে ফুটবলের পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’ আগামী ১৬ই জুন রাতে ফক্সবোরোর জিলেট স্টেডিয়ামে ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ভাইকিংরা।
