মোসাদ্দেকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

মোসাদ্দেকের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ফন্ট সাইজ:

গল্পটা যেন রূপকথার হারানো নায়কের ফিরে আসার। দীর্ঘ ৪ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত গতকাল মিরপুরে লিখলেন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের এক গল্প। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে খেললেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ৮৬ রানের এক অপরাজিত ইনিংস। মোসাদ্দেকের ৭০ বলের এই ঝলমলে ইনিংসটিই মূলত সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্বাগতিক বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সম্মানজনক পুঁজি। বল হাতেও দুই উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক।

দলে ফেরার পেছনের গল্পটা মোসাদ্দেকের চরম ত্যাগ ও লড়াইয়ের। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে আবাহনীর হয়ে ৭ ইনিংসে ৬৭.৩৩ গড় এবং ১৩৩.৩৩ স্ট্রাইক রেটে ৩৩৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও শিকার করেছিলেন ১২ উইকেট। গতকাল ম্যাচে যখন নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রান করে বিদায় নিলেন, দল তখন ধ্বংসস্তূপ। ২৫.৩ ওভারে মাত্র ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন গভীর সংকটে, ঠিক তখনই উইকেটে আসেন মোসাদ্দেক। মাঠে নেমে শুরু থেকেই জাম্পার ওপর চড়াও হন তিনি। নিজের মুখোমুখি হওয়া পঞ্চম বলেই এই লেগস্পিনারের বলকে লং অফের উপর দিয়ে সীমানাছাড়া করে যেন প্রত্যাবর্তনের ঘণ্টা বাজান। এর আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলা ২৭ বলে ৫২ রান। গতকাল তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়। ধীরস্থির ও সতর্ক ব্যাটিংয়ে তাওহীদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তোলার মিশন শুরু করেন মোসাদ্দেক। অবশ্য তার সঙ্গী হৃদয় গতকাল উইকেটে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন। ৫১ বল খেলে মাত্র ১টি চারের সাহায্যে ৩১ রান করে হৃদয় সাজঘরে ফিরলে উইকেটে আসেন অধিনায়ক মিরাজ। অন্যপ্রান্তে মোসাদ্দেক আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলে ৪৯ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন। তার ফিফটি ছোঁয়ার ঠিক পরের ওভারেই মিরাজ ১২ বলে মাত্র ৩ রান করে আউট হলে বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও ঘনীভূত হয়। ইনিংসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে প্রতিপক্ষের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়ায় দুই দফায় জীবন পান মোসাদ্দেক, একবার ব্যক্তিগত ২২ রানে কনোলি ও পরে ব্যক্তিগত ৭৯ রানে জাম্পা তার সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন। জীবন পেয়ে মোসাদ্দেক বোলারদের ওপর আরও চড়াও হন।

জাম্পার করা ৪৪তম ওভারের পরের তিন বলেই পরপর দুই চার ও এক ছক্কায় তিনি দ্রুত তুলে নেন ১৬ রান। ইনিংসের শেষভাগে পেসার তাসকিন আহমেদকে সঙ্গী করে পুরো ৫০ ওভার পর্যন্ত টেনে নেন মোসাদ্দেক। লোয়ার ও টেইল অর্ডারের বাকি ব্যাটসম্যানদের চরম ব্যর্থতার দিনেও তিনি অবিচল থেকে দলকে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জিং স্কোর এনে দেন। শেষ ওভারে স্কটের বলে রিভার্স সুইপে চমৎকার চার মারাসহ শেষ পর্যন্ত ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার সাহায্যে ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। বাংলাদেশ দল দীর্ঘদিন ধরেই মিডল অর্ডারে একজন যোগ্য ফিনিশারের অভাব অনুভব করছিল, যেখানে আফিফ হোসেনকে খেলানো হলেও তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হন। নির্বাচকরা অবশেষে মোসাদ্দেকের ওপর যে অগাধ আস্থা রেখেছিলেন, প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তার শতভাগ প্রতিদান দিলেন তিনি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন