জাতীয় সংসদে বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরায় প্রশংসায় ভাসছেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। তিনি এমপি নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের সহায়তায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি-অনিয়ম, মাদক, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। জেলার মধ্যে সর্বপ্রথম রায়পুরা পৌরসভাকে টোল মুক্ত ঘোষণা, রায়পুরা পান্থশালা মেঘনা নদীর খেয়াঘাটে জনসাধারণ চলাচলে ইজারার নামে অতিরিক্ত ভাড়া ও টোল আদায় বন্ধ, মানুষকে হয়রানি মুক্ত করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মেঘনা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ, চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা, রেললাইনের পাশ দিয়ে শ্রীরামপুর টু ভৈরব পযর্ন্ত রাস্তা নির্মাণ, রায়পুরায় বিসিক নগরী স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
সর্বশেষ ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) পদ্ধতিতে স্থানীয় ঠিকাদারদের বঞ্চনা এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখার পর রায়পুরাজুড়ে নতুন করে আলোচনায় ওঠে এসেছেন ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল। জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ‘ই-জিপি ব্যবস্থায় পূর্ববর্তী সরকারের সুবিধাভোগী অনেক ঠিকাদার শক্তিশালী প্রোফাইলের কারণে সহজেই সরকারি কাজ পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে স্থানীয় ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ একাধিক ধাপে হাতবদল হয়ে নিম্নমানের বাস্তবায়নের অভিযোগ ওঠছে।’ তিনি বলেন, ‘এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেয়া হলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।’
রায়পুরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই দাবিকে সংসদে তুলে ধরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বকুল। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বকুলের বক্তব্যের জবাবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং ই-জিপি সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনার কথা জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদে রায়পুরার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো নিয়মিতভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে আশরাফ উদ্দিন বকুল নিজেকে একজন সক্রিয় ও জনমুখী সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতির বিষয়গুলো নিয়ে তার ধারাবাহিক অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এদিকে, রায়পুরার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আশরাফ উদ্দিন বকুলকে দেখতে চান। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষিত সমাজ ও সাধারণ জনগণের অনেকেই মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে তার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং এলাকার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে নরসিংদী ও রায়পুরাসহ সারাদেশে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
রাজনৈতিক ব্যক্তিরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদে এলাকার মানুষের কথা দৃঢ়ভাবে তুলে ধরা এবং উন্নয়নমুখী বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার কারণে আশরাফ উদ্দিন বকুল এখন শুধু একজন সংসদ সদস্য নন, বরং রায়পুরাসহ সারাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার অন্যতম প্রতিনিধিতে পরিণত হয়েছেন। তাই ভবিষ্যতে তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান অধিকাংশ মানুষ। স্থানীয়দের ভাষ্য, রায়পুরার উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থে যেভাবে আশরাফ উদ্দিন বকুল কাজ করছেন, তাতে তিনি মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেলে শুধু রায়পুরা নয়, জাতীয় পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
