জন্মদিন উদ্‌যাপন শেষে ফেরার পথে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

জন্মদিন উদ্‌যাপন শেষে ফেরার পথে ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে জন্মদিন উদ্‌যাপন শেষে বাড়ি ফেরার পথে নাহিয়ান রবিন (২৪) নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর শহরের মাজারবাড়ি রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে রাজিব (৪২) নামে একজনকে আটক করেছে গফরগাঁও থানা পুলিশ। নিহত রবিন পৌর শহরের মহিলা কলেজ রোডের শিলাসী এলাকার রাজমিস্ত্রি মো. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সূত্র, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ৯ই জুন ছিল রবিনের জন্মদিন।

এ উপলক্ষে তার বন্ধুরা শহরের বউ বাজার/ডাকবাংলো এলাকায় জন্মদিনের আয়োজন করেন। জন্মদিন উদ্‌যাপন শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্ধু শাকিবুল হাসান মাসুমের মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন রবিন। পথে মাজারবাড়ি রোড ও কলাবাগান রোডের মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওতপেতে থাকা কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। এ সময় হামলাকারীরা প্রথমে রবিন ও মাসুমের চোখে-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। পরে তাদের মারধর করা হয়। মাসুম কোনোভাবে দৌড়ে পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেও রবিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় ও স্বজনরা রবিনকে উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়। আহত মাসুম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটানোয় হামলাকারীদের চিনতে পারেননি। নিহতের বাবা মোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলেকে সন্ত্রাসীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আমি হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। তিনি আরও দাবি করেন, শহরের কলেজ রোডের ব্যবসায়ী মোতালেব মিয়ার ছেলে রাজীবের সঙ্গে রবিনের বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জেরেই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে শহরের কলেজ রোডের মোতালেব প্লাজা এলাকা থেকে রাজীব নামে একজনকে আটক করা হয়। গফরগাঁও থানার ওসি এএসএম আতিকুর রহমানের দাবি, আটক রাজীব যুবলীগের কর্মী। তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন ও তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ওসি এএসএম আতিকুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আটক রাজীবের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন