নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত

ফন্ট সাইজ:

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল খালেক (৩০) কক্সবাজার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১-এর ব্লক-সি এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি আকাশমনি বাগানে দিনমজুর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেজু আমতলী সীমান্ত এলাকায় কাজ করার সময় হঠাৎ একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে আব্দুল খালেক গুরুতর আহত হন।

বিস্ফোরণে তার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ডান পায়েও মারাত্মক আঘাত লাগে। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উখিয়ার কুতুপালংস্থ এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। জানা গেছে, ঘটনাস্থলটি রেজু আমতলী বিওপি’র অধীন সীমান্ত পিলার-৪০-এর পশ্চিমে প্রায় ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে, গত ২০ দিনে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় ধারাবাহিক মাইন বিস্ফোরণে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪শে মে ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভালুকিয়াপাড়া এলাকার অং ক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা, চোপোচিং তঞ্চঙ্গ্যা ও চিংক্ষং চাকমা, মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন।

এ ছাড়া গত ২রা জুন ঘুমধুমের বাইশফাঁড়ি এলাকার ৩৯-৪০ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে মাইন বিস্ফোরণে সুমিনাই তঞ্চঙ্গ্যা নামে এক যুবক প্রাণ হারান। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকালে আব্দুল খালেকের মৃত্যুর ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাগান মালিক, শ্রমিক ও জুমচাষিরা ঝুঁঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাইনমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।


ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন