নাটোরের লালপুরে পদ্মার চরে একটি স্পিডবোট থেকে আজিজুল হক ঝড়ু ওরফে ঝড়ু মাস্তান (৩৫) নামে গুলিবিদ্ধ এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চরজাজিরা চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তি পাশ্বর্বর্তী বাগাতিপাড়া উপজেলার পাবনাপাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে। বালুমহালকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের সংঘর্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। লালপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও রাজশাহীর বাঘা থানার সীমান্তবর্তী হবির চর এলাকায় বালুমহাল নিয়ে বেলাল গ্রুপ ও কাকন গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য পেয়ে বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদীতীর এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে পুলিশ। পরে চরজাজিরা এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে একটি স্পিডবোটের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় আজিজুল হক ঝড়ুর মরদেহ পাওয়া যায়। জানা গেছে, আজিজুল হক ঝড়ু রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় একটি বালু উত্তোলন কেন্দ্রে কাজ করতেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ মানবজমিনকে বলেন, খবর পেয়ে লালপুর থানা পুলিশ, ভেড়ামারা থানা পুলিশ ও লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাস্থল নদী এলাকা হওয়ায় লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ি মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ ব্যাপারে লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) খন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি সবুজ ও নীল রঙের স্পিডবোট জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পদ্মার চরে বালু নিয়ে গোলাগুলি গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
১০ জুন (বুধবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
