ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: বিরোধীদলীয় নেতা

ফন্ট সাইজ:

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। জোরজবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে ব্যাংকটির শেয়ার ডাকাতি করা হয়েছিল, অবিলম্বে তাদের কাছে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, এস আলমের অপকর্মের দোসর ও দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে এক সাধারণ আলোচনার ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদে ‘দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের শেয়ারসমূহ বৈধ ও প্রকৃত মালিকদের নিকট প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় অন্যায় হস্তক্ষেপ বন্ধ’ করার দাবিতে এ আলোচনার প্রস্তাব করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জবাব দেন ড. শফিকুর রহমান। শেয়ারহোল্ডারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কীভাবে তারা শেয়ারহোল্ডার হয়েছেন সেটা পরে দেখা যাবে। এটা পরে কেন? এটা তো আগেই এক্সপোজড, সারা দুনিয়া জানে। এই ব্যাংক থেকে এস আলম তার নিজের নামেই ৮২ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন। আর সমুদয় যে শেয়ার তিনি কিনেছেন, যার মাধ্যমে তিনি ৮২ শতাংশের মালিক হয়েছেন, সেগুলোর মূল্য হচ্ছে মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ তিনি শুধু কইয়ের তেল দিয়ে কই ভাজেননি, সন্যাশও ভেজেছেন। সব ব্যাংক থেকে ডাকাতি করা টাকায় তিনি শেয়ার কিনেছেন। একটি বিশেষ এজেন্সির মাধ্যমে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে যুগ যুগ ধরে ব্যাংকের সঙ্গে থাকা প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়েছিল। এভাবেই ব্যাংকটিকে ডাকাতি করে দেউলিয়া করেছে বিগত সরকার।’

ব্যাংকটিতে অবৈধ নিয়োগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘১০ হাজার কর্মচারীকে সামান্য কোনো নিয়মনীতি না মেনে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে, কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। একটি কাগজে কেউ না কেউ সই করে দিয়েছে। ৫ আগস্টের পর আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, তাদের সবাইকে আবার পরীক্ষায় বসার জন্য ডাকা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, বিনা পরীক্ষায় চাকরি নিয়েছেন, এখন নিয়মের মধ্যে পরীক্ষায় আসুন। কিন্তু তারা কেউ আসেনি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা এক অভিযোগের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) ৭০০ কোটি টাকার লোন কোনো একটি দলের নির্বাচনী ফান্ডে যাওয়ার কথা বলেছেন। উনি যদি এর দ্বারা জামায়াতে ইসলামীকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে আমি চ্যালেঞ্জ নিচ্ছি। এটা প্রমাণ করতে পারলে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি মেডেল দেব। কার ছেলে বা কার নাতি, চুরি-ডাকাতি বা অসততার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আমি শফিকুর রহমান হলেও আমাকে যেন ছাড় দেওয়া না হয়।’
বিগত সময়ে অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের দেওয়া ‘জামায়াত ইসলামী হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে’ বয়ানের ভিত্তিতেই ব্যাংকটি দখল করে সাড়ে ১২ বছর দুঃশাসন চালানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাড়ে ১২ বছরে তো তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। এখনো যদি অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলা হয়, তবে আমরা কি আবার দ্বিতীয় আবুল বারাকাত হতে যাচ্ছি? আরডিএস প্রকল্প কোনো দলের নয়, কোনো ধর্মেরও নয়। আমি নিজে বোর্ডে ছিলাম, আমি জানি এখানে সব ধর্মের মানুষ সুবিধাভোগী।’

নিজেকে ইসলামী ব্যাংকের ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহক উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমার ১০ টাকা মূল্যের একটি শেয়ার আছে। আমি রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, একজন গ্রাহক ও মালিক হিসেবে আমার অধিকার রক্ষার কথা বলছি। এই ব্যাংকে সব দল ও ধর্মের মানুষের অ্যাকাউন্ট আছে। এই ব্যাংক কারো একার নয়।’
ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যানের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করেছেন। সেই এস আলম আবারও ফিরে আসার প্রমাণ হলো বর্তমান চেয়ারম্যান। তিনি যখন রংপুরের রিজিওনাল ম্যানেজার ছিলেন, তখন তার বিরুদ্ধে ৫২ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল এবং শাস্তিও পেয়েছিলেন। স্বৈরাচার ও দুষ্কৃতকারী হওয়ার কারণে ৫ আগস্টের পর তিনি বাধ্য হয়ে চলে গিয়েছিলেন। তিনি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন এস আলমের সব অপকর্মে সহযোগিতা করেছেন। সেই পুরস্কার হিসেবে এক্সিম ব্যাংক থেকে তার স্ত্রীর নামে অস্তিত্বহীন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে সাড়ে তিন কোটি টাকা লোন দেওয়া হয়েছিল। এমন একজন অসৎ লোককে একটি বিধ্বস্ত ব্যাংকের মাথার ওপর বসিয়ে দেওয়া কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়া যায় না।’

অর্থনীতিতে ইসলামী ব্যাংকের অবদান ও বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক আস্থার একটি পিরামিড। এই পিরামিড ধসে পড়লে ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা তৈরি হবে। আমি হজের সফরে গিয়ে প্রবাসীদের মুখে এই ব্যাংক নিয়ে সরাসরি উদ্বেগের কথা শুনেছি। দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? বর্তমানে মাত্র চার দিনে গ্রাহকরা ৭০ হাজার কোটি টাকা তুলে ফেলেছেন।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ করব, কোনো পূর্বধারণা থেকে নয়, বাস্তবতার ভিত্তিতে এই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে হবে। এই ব্যাংক আগের জায়গায় ফিরে এলে পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরবে। এখনই ৫টি ব্যাংকের গ্রাহকরা রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষুকের মতো ঘুরছেন, আমানত ফেরত পাচ্ছেন না। সর্ববৃহৎ ব্যাংকটিরও যদি একই বিপর্যয় ঘটে, তাহলে আমরা গিয়ে কোথায় দাঁড়াব? ব্যাংকটি বাঁচুক, আমরা এটাই চাই।’

ট্যাগসমূহ:

Abdul Matin Sikder

১ ঘন্টা আগে

অর্থনিতী মাটির সাথে মিশে যায় যাক, জনগন চায় ইসলমাীব্যাংক লুট করে সেই টাকা দিয়ে হাসিনাস্টাইলে ইলেকশন ইন্জিনিয়ারিং সাজানো শত্রু দেশের গুপ্ত কুকুর জামাতী মোনাফিকদের কঠিন বিচার।

Md Shamsul Hoque

২ ঘন্টা আগে

We demand immediate resignation of newly appointed Chairman. A real Banker like Lutfur Rahman Sarker can be appointed as a Chairman. It should be settled without any delay.

মন্তব্য করুন