সিলেটে পরিবহন ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। তাদের ভাষায় সেটি হচ্ছে কর্মবিরতি। নগরের কদমতলী টার্মিনালে সংঘর্ষের ঘটনায় সিলেটের শীর্ষ স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এ কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান নেতারা। গত ১৯শে মে সিলেট বিভাগে আহূত পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতি পুলিশ প্রশাসনের আশ্বাসে স্থগিত করা হলেও প্রশাসন ৬ই জুন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের জরুরি সভায় উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দেন।
সভায় জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ৮২টি রোড উপ-কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন। সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজী ময়নুল ইসলামের সভাপত্বিতে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনের পরিচালনায় দক্ষিণ সুরমা ভাবনা পয়েন্টস্থ সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি সাহেব আলী, সহ-সভাপতি মানিক মিয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মিয়া মবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত, প্রচার সম্পাদক হারিছ আলী, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ, কার্যকরী সদস্য শেখ আজিজ, আতিক মিয়া, সাইফুল ইসলাম, শাহাব উদ্দিন ও শেখ ফরিদ। সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন- হাজী ময়নুল ইসলাম, আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দের ওপর দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেট বিভাগে গত ১৯শে মে থেকে আহূত অনির্দিষ্টকালের পরিবহন শ্রমিক কর্মবিরতির ঘোষণা দেন পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
এর প্রেক্ষিতে গত ১৭ই মে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার সঙ্গে মতবিনিময় শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির জরুরি সভায় ৬ই জুন পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। ওই সভায় এসএমপি কমিশনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নির্দোষ নেতৃবৃন্দকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া না গেলে নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করা এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু ৯ই জুন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। ফলে আবারো কর্মবিরতির ঘোষণার ব্যাপারে শ্রমিক নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। সভায় কোনো ধরনের সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনের ঐক্যকে সুসংহত ও শক্তিশালী করার উপর জোর দেয়া হয়। এ ছাড়া সভায় ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার জন্য চালক ভাইদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। গত ২৭শে এপ্রিল কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে শ্রমিকদের দুইপক্ষের সংঘর্ষে দুইজন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
