পাবনায় একদিনে মর্গে ৬ লাশ আতঙ্কে মানুষ

ফন্ট সাইজ:

পাবনায় কয়েকদিন ধরে ঘটে যাওয়া হত্যা, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে জনমনে। মঙ্গলবার একদিনেই মর্গে ৬টি মরদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ৫ জন বিভিন্ন সহিংস ঘটনার শিকার এবং ১ জন আত্মহত্যা করেছেন। ধারাবাহিক এসব অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সর্বশেষ, পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুরে স্কুলছাত্রী রিয়া খাতুন (১৫) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের জেরে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২ জন মঙ্গলবার ভোরে এবং ১ জন সোমবার রাতে। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ জনে। মঙ্গলবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সদর উপজেলার পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ এবং নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির। এর আগে সোমবার রাতে পাবনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একই এলাকার ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩রা জুন বিকালে ভাড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া খাতুনের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় বাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আশপাশের বেশ কয়েকজন মানুষ দগ্ধ হন। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১ জন সোমবার এবং ২ জন মঙ্গলবার মারা গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে রিয়া হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া তার কথিত প্রেমিক নাঈমসহ ৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে, গত সোমবার পাবনা শহরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে ২ জন নিহত হয়েছেন। শহরের জামিয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার সামনে ছেলের সামনেই গুলিতে নিহত হন হোসেন আলী (৫৫)। একইদিনে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম (২২)। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত পৃথক ঘটনায় আরও কয়েকটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মঙ্গলবার মোট ৬টি মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধপ্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন