কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির পর এক গৃহবধূ ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা যায়, ৮-১০ জনের ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়। এসময় এক স্কুল ছাত্রী ও তার মাকে মারধর ও গণধর্ষণ করার অভিযোগও উঠেছে। আহতরা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সোমবার রাত ২টার দিক মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ার ফুরুক আহমদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এদিকে ঘটনার পরপর চকরিয়া সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাসের নেতৃত্বে চকরিয়া থানার ওসি মো. মনির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন রেজাউল করিম (৩৩), তোফাজ্জল হোসেন (২২), কেফায়েত হোসেন (২৫), মোহাম্মদ তানজিদ (২৩), মেহেদী হাসান (২১) ও মোহাম্মদ তারেক (২৪)। তাঁরা সবাই একই উপজেলার বাসিন্দা। তবে আরেকজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয়রা ও পুলিশ জানান, সোমবার রাত ২টার দিকে ৮-১০ জনের একটি সশ^স্ত্র ডাকাতদল প্রবাসী ফুরুক আহমদ চৌধুরীর বাড়ির গ্রীল কেটে বাড়িতে ডুকে পড়ে। বাড়ির লোকজনদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মা, মেয়কে মারধর ও গণধর্ষণ করেছে। এসময় ডাকাতদল আলমারী থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ও স্থানীয় জনতা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জন ডাকাতকে আটক করেছেন।
ভোক্তভাগী স্কুল ছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম ফারুক বলেন, আমার বোন ও ভাগিনীকে ডাকাতদল পাশবিক গণধর্ষণ করেছে। আমার ভাগিনীর অবস্থা আশংকাজনক। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। গৃহবধূর মা (৬৫) বলেন, ‘এমন বর্বর ঘটনা এ এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। কারও কাছেও শুনি নাই। আমার মেয়ে ও নাতনির ওপর যারা পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে ফাঁসি দেওয়া হোক। আর কোনো চাওয়া নেই।’
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক (ওসি) মো. মাসুদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডাকাতদল ডাকাতির পাশাপাশি মা-মেয়েকে গণধর্ষণ করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ছয়জন ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিৎ দাস বলেন, প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলেও স্বীকার করেছেন।
