উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ স্বার্থ রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার থেকে কখনো সরে যাবে না চীন। কিম জং উনের প্রতি সমর্থনেও কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে না। এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত বিরল শীর্ষ বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
শি জিনপিং বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশকে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে হবে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ দুই দিনের সফরটি ছিল গত সাত বছরে উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের প্রথম সফর। রাশিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও সামরিক সম্পর্কের কারণে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে, যা কিম জং উনকে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শি জিনপিং বলেন, আমি গভীরভাবে আনন্দিত এবং একই সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি করছি। তিনি আরও বলেন, কমরেড জেনারেল সেক্রেটারি কিম জং উনের নেতৃত্বে কোরীয় গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রের (ডিপিআরকে) সমাজতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের যৌথ স্বার্থ ও কৌশলগত পরিবেশ রক্ষার দৃঢ় সিদ্ধান্তও পরিবর্তিত হবে না।
চীনা প্রেসিডেন্ট ও কিম জং উনকে উত্তর কোরিয়ার প্রথম নেতা কিম ইল-সুং স্কয়ারে একটি লাল গালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে ছিলেন কিমের স্ত্রী রি সল জু। শিশুদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানাতে দেখা যায় এবং ২১ বার তোপধ্বনি করা হয় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন ঐতিহাসিক সূচনায় দাঁড়িয়ে আছে। তিনি কূটনীতি, সামরিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য হয়েছে এবং সোমবার সন্ধ্যায় কিম আয়োজিত নৈশভোজে তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে শি জিনপিং আধিপত্যবাদ, কর্তৃত্ববাদ এবং সামরিকতাবাদ পুনরুজ্জীবিত করার সব ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করার আহ্বান জানান, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শি-কিম বৈঠক দেখায় যে বেইজিং এখনো পিয়ংইয়ংকে একটি কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ সেন্টারের বিশ্লেষক সিডনি সাইলার বলেন, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন কিম জং উনের ওপর ওয়াশিংটন ও সিউলের চাপ উপেক্ষা করার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

Jahangir Alam
২ ঘন্টা আগেডোনাল ট্রাম্প ভাদিমির পুতিন যেখানে শির সাথে গিয়ে দেখা করে, অথচ শি গিয়ে দেখা করে কিমের সাথে। তাহলে আসল বস কি ……!