বিশ্বকাপ ফুটবলের মহারণ শুরু হতে বাকি মাত্র দুদিন। ঠিক তার আগে পরিসংখ্যানের পাতা থেকে উঠে এলো দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দুই বিপরীতধর্মী চিত্র। একদিকে লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা দল যখন তাদের রক্ষণভাগকে রূপ দিয়েছে দুর্ভেদ্য এক দুর্গে, অন্যদিকে সেলেসাওরা ক্লিন শিটের দিক থেকে তলানিতে থাকলেও, বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোল করার দিক থেকে ধরে রেখেছে নিজেদের শীর্ষস্থান।
২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আলবিসেলেস্তেরা খেলছে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের মতোই। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো স্পোর্তে’র পরিসংখ্যানভিত্তিক মাসকট ‘গাতো মেস্ত্রে’র ২০২৩ সাল থেকে করা হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৪৮টি দলের মধ্যে ক্লিন শিট বা গোল হজম না করার হারে সবার ওপরে আর্জেন্টিনা। এই চক্রে ৩৯টি ম্যাচ খেলে রেকর্ড ২৮টিতেই (৭১.৮ শতাংশ) কোনো গোল খায়নি তারা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা হজম করেছে মাত্র ১৪টি গোল। রক্ষণভাগের এই ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা আগামী ১১ই জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে রাখবে। এ তালিকায় মরক্কো ৬৩.৮% ক্লিন শিট নিয়ে দ্বিতীয় এবং সেনেগাল (৫৯%) তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
আর্জেন্টিনা যখন নিজেদের জাল সুরক্ষিত রাখতে ব্যস্ত, তখন ব্রাজিলের রক্ষণভাগের চিত্র ঠিক উল্টো। কার্লো আনচেলোত্তির দল ২০২৩ সাল থেকে ৩৭টি ম্যাচ খেলে মাত্র ১১টিতে (২৯.৭ শতাংশ) ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে। বিপরীতে গোল হজম করেছে ৪২টি। ফলে ৪৮টি দলের মধ্যে রক্ষণভাগের এই ব্যর্থতায় ব্রাজিলের অবস্থান ৪৩তম। এমনকি বিশ্বকাপের ঠিক আগে নিজেদের শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল খেয়েছে তারা। শুধু পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরাই নয়, ফ্রান্স, স্পেন বা পর্তুগালের মতো ফেভারিটরাও এই তালিকায় শীর্ষ ১০-এর বাইরে রয়েছে।
রক্ষণভাগ নিয়ে ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ থাকলেও, বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে আক্রমণভাগে তাদের চেয়ে সফল কেউ নেই। একমাত্র দল হিসেবে বিশ্বকাপের ২২টি আসরেই অংশ নেয়া সেলেসাওরা ১১৪ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩৭টি গোল করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে। তাদের ঠিক পেছনেই ১১২ ম্যাচে ২৩২ গোল নিয়ে অবস্থান করছে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ব্রাজিলের ২৩৭ গোলের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো নাজারিও (১৫)। জার্মানদের তথা বিশ্বকাপেরই শীর্ষ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসা (১৬)। ১৫২ গোল নিয়ে তিনে থাকা আর্জেন্টিনার সেরা গোলদাতা অধিনায়ক লিওনেল মেসি (১৩)।
এছাড়া, গোল করার গড় দক্ষতায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে ১০ নম্বরে থাকা হাঙ্গেরি। মাত্র ৯টি আসরে ৩২ ম্যাচ খেলে তারা করেছে ৮৬ গোল, যেখানে তাদের ম্যাচপ্রতি গোলের গড় ২.৭২!
