৬৭ বছরে এসেও রগরগে ভিডিওতে ম্যাডোনার সীমা অতিক্রম

৬৭ বছরে এসেও রগরগে ভিডিওতে ম্যাডোনার সীমা অতিক্রম

ফন্ট সাইজ:

আবারও সীমা অতিক্রম করলেন ম্যাটেরিয়াল গার্লখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, অভিনেত্রী ম্যাডোনা। ৬৭ বছর বয়স তার। এই বয়সে এসেও তিনি শরীরকে পুঁজি করে গানের সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মাতিয়ে রাখছেন। এবার তিনি এমন এক মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে তার সবচেয়ে বিতর্কিত ও সাহসী কাজগুলোর একটি। ভিডিওটিতে তার সঙ্গে দেখা গেছে সুপারমডেল কেট মস’কে।

এ নিয়ে রিপোর্ট করতে গিয়ে ভিডিওর অংশবিশেষ প্রকাশ করেছে অনলাইন ডেইলি মেইল। ম্যাডোনার ১০ মিনিটের ‘কনফেশন্স টু’ ভিজ্যুয়াল ভিডিওর একটি চমকপ্রদ দৃশ্যে দেখা যায়, ৬৭ বছর বয়সী এই পপ তারকা একটি নাইটক্লাবের বাথরুমে পার্টির সময় একজন তরুণকে টেনে টয়লেট কিউবিকলে নিয়ে যান যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ ঘটনার জন্য। ‘কুইন অব পপ’ ম্যাডোনা প্রথমে হাঁটু গেড়ে বসেন। আর পাশের কিউবিকলের ওপার থেকে আরেকজন পুরো দৃশ্যটি অবাক হয়ে দেখেন। এর পরের যে দৃশ্য তা প্রকাশ করার মতো নয়। এটি স্পষ্ট নয় যে তারা কেবল একটি উসকানিমূলক নাচের রুটিন করছেন, নাকি এর চেয়ে বেশি কিছু দেখানো হয়েছে তাতে। চমকে দেয়া এই মিউজিক ভিডিওটি তার আসন্ন অ্যালবাম ‘কনফেশন্স টু’-এর প্রচারের জন্য তৈরি একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।

এই বড় বাজেটের ভিডিওতে বহু তারকার ক্যামিও রয়েছে। এর মধ্যে আছেন কেট মস, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, ওডেসা আ’জিয়ন এবং জুলিয়া গার্নার, যিনি ভবিষ্যতে ম্যাডোনার বায়োপিকে ম্যাডোনার ভূমিকায় অভিনয় করবেন। ভিডিওটিতে ‘কনফেশন্স টু’ অ্যালবামের প্রথম ছয়টি গান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একজন ভক্ত সংক্ষিপ্ত ওই প্রচার বিষয়ক ভিডিও দেখে লিখেছেন, আজকের যুগে যেখানে ২ মিনিটের গান এবং ১৫ সেকেন্ডের মোবাইল ভিডিও জনপ্রিয়, ম্যাডোনা আমাদের ১০ মিনিটের সিনেমাটিক মিউজিক অভিজ্ঞতা দিয়েছেন। আরেকজন লিখেছেন, যখন মিউজিক ভিডিও প্রায় গুরুত্ব হারিয়েছে, ম্যাডোনা আবার প্রমাণ করলেন কেন তিনি সত্যিকারের শেষ পপস্টার।

এর আগে নিউইয়র্কে গে প্রাইড ইভেন্টে তার পারফরম্যান্স নিয়েও তিনি আলোচনায় আসেন। সেই পারফরম্যান্সের এক পর্যায়ে ম্যাডোনা দর্শকদের চমকে দেন একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট করে। তিনি এমন একটি মঞ্চে পারফর্ম করছিলেন, যা দর্শকদের থেকে উঁচুতে ছিল। নিরাপত্তার জন্য মঞ্চের প্রান্তে একটি স্বচ্ছ রেলিং ছিল। কিন্তু তিনি সাহসীভাবে তার একটি পা সেই রেলিংয়ের ওপর তুলে দেন।

লাইভস্ট্রিমের একটি দৃশ্যে দেখা যায়, তিনি আংশিকভাবে মঞ্চে এবং আংশিকভাবে রেলিংয়ের বাইরে ঝুলে আছেন। তিনি গোলাপি ও নীল করসেট এবং থাই-হাই বুট পরে বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন। তার সেটলিস্টে ছিল নতুন গান যেমন ‘আই ফিল সো ফ্রি’, ‘ব্রিং ইওর লাভ’ ও ‘লাভ সেনসেশন’। পাশাপাশি পুরনো হিট ‘গেট টুগেদার’, ‘আই লাভ নিউ ইয়র্ক’ ও ‘হাং আপ’। তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন ইংলিশ ডিজে স্টুয়ার্ট প্রাইস। এর সঙ্গে ম্যাডোনার সম্পর্ক ২০০৫ সালের ‘কনফেশন্স অন এ ড্যান্সফ্লোর’ অ্যালবাম তৈরির সময় থেকে। প্রাইস এই ‘কনফেশন্স টু’ অ্যালবামের প্রযোজক হিসেবেও কাজ করছেন, যা ৩ জুলাই মুক্তি পাওয়ার কথা। একই দিনে টেইলর সুইফট নাকি ট্র্যাভিস কেলসকে বিয়ে করছেন বলে খবর রয়েছে।

এর আগে ম্যাডোনা ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে তার চেহারা নিয়ে সমালোচনার জবাব দেন। সেখানে তিনি ‘এইজ-ইজম এবং মিসোজিনি’র বিরুদ্ধে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করি, যেখানে ৪৫ বছরের পর নারীদের উদযাপন করা হয় না, বরং তারা শক্তিশালী, পরিশ্রমী এবং সাহসী হলে তাদের শাস্তি দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তিনি আরও বলেন, তিনি তার সৃজনশীল সিদ্ধান্ত বা নিজের চেহারা ও পোশাক নিয়ে কখনোই ক্ষমা চাইবেন না। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এটিকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখেন এবং ভবিষ্যৎ নারীদের জন্য পথ তৈরি করতে তিনি খুশি।

গত সপ্তাহে প্রাইড মাস শুরু করতে ম্যাডোনা একটি সাহসী ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিওতে একটি মুহূর্তে তার পোশাক থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে শরীর প্রকাশ পেয়ে যায়, যা তিনি প্ল্যাটফর্মের নিয়ম মানতে কালো বার দিয়ে ঢেকে দেন। ভিডিওতে তাকে ধূমপান করতে ও মাটিতে হামাগুড়ি দিতে দেখা যায়। তিনি ক্যামেরার খুব কাছে এসে অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেন। এরপর হাসিমুখে কিস ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘হ্যাপি প্রাইড! হ্যাপি প্রাইড।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন