মাধুরী দীক্ষিতের ৪৮ কোটি রুপির বাসা যেন এক জাদুঘর

মাধুরী দীক্ষিতের ৪৮ কোটি রুপির বাসা যেন এক জাদুঘর

ফন্ট সাইজ:

বলিউডের হার্টথ্রব অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। তিনি ও তার স্বামী ড. শ্রীরাম মাধব নেন মুম্বইয়ে বসবাস করেন ৪৮ কোটি রুপির অ্যাপার্টমেন্টে। সমুদ্রমুখী বাড়িটি সত্যিই একটি শিল্পকর্মের জাদুঘরের মতো। এটা বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল ফিদা হুসেনের একটি ইচ্ছাও পূরণ করেছে। ৫৫০০ বর্গফুটের এই অ্যাপার্টমেন্টটি ৫৩তম তলায় অবস্থিত। একে শুধু ‘এলিগ্যান্ট’ বলা যথেষ্ট নয়, এটি এমন একটি নকশা, যেখানে হাজারো ভিন্ন উপাদান একসঙ্গে মিশে গেছে। কিন্তু প্রতিটি উপাদান নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে এবং পুরো জায়গাটি পরিচ্ছন্ন ও গুছানো। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, আর্কিটেক্ট অপরূপা শ্রুফের ডিজাইন করা এই আধুনিক বাসস্থানটি উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করে। এখানে প্রতিটি শিল্পকর্ম, আসবাবপত্র এবং উপাদান একে অপরের সঙ্গে সাবলীলভাবে যুক্ত হলেও আলাদা করে চোখে পড়ে।

মাধুরী দীক্ষিত ২০২২ সালের মার্চে যখন তার অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণাধীন ছিল তখন বলেন, এটা আমার বেবি, আমি চাই এটা সত্যিই সুন্দর ও নিখুঁত হোক। আর্কিটেক্ট শ্রফ জানান, দীক্ষিত ও নেনে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতেন। ফলে কাজ দ্রুত ও সহজভাবে শেষ করা সম্ভব হয়। ২০২২ সালে জাপকি ডট কমের পাওয়া নথি অনুযায়ী, এই অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য প্রায় ৪৮ কোটি রুপি। নিচে এই বাড়িটির একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরা হলো।

অ্যাপার্টমেন্টের অন্দরমহল

একটি বড় কমলা রঙের দরজা, আধা-বৃত্তাকার ভিনটেজ হ্যান্ডেলসহ স্বাগত জানানো এই অ্যাপার্টমেন্ট একটি আরামদায়ক ক্রিম ও সাদা রঙের লিভিং রুমে নিয়ে যাবে আপনাকে। কোনো কঠিন বিভাজন ছাড়াই ডাইনিং স্পেসের সঙ্গে যুক্ত তা। নীল-ধূসর রঙের সোফার সঙ্গে ম্যাপল কাঠের টোন সুন্দরভাবে মানিয়ে গেছে। পুরো ঘরটি এমএফ হুসেনের রঙিন চিত্রকর্মে সাজানো। মাধুরী দীক্ষিত আর্কিটেকচারাল ডাইজেস্ট ইন্ডিয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, সবকিছুই খুব গুছানো। সোজা লাইন, সুন্দর কিন্তু আর্টিস্টিক। তিনি আরও জানান, হুসেন একসময় বলেছিলেন তিনি তার অ্যাপার্টমেন্টকে একটি মিউজিয়ামে পরিণত করতে চান। দেয়ালগুলোতে ছবি আঁকতে চান। কিন্তু মাধুরী তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, আমি ছবিগুলো পছন্দ করি, কিন্তু দয়া করে আমার দেয়ালে আঁকবেন না।

লিভিং রুমের বারান্দা থেকে শহরের অসাধারণ দৃশ্য দেখা যায়। একদিকে আরব সাগরের বিশাল জলরাশি। আর অন্যদিকে ঘনবসতিপূর্ণ শহরের দৃশ্য। শান্ত ও ভালোভাবে আলো পাওয়া করিডরটি বিভিন্ন ঘরে নিয়ে যায়। তাদের দুই ছেলে আরিন ও রায়ানের আলাদা ঘর আছে। সেখানে নীল ও ধূসর রঙের শান্ত টোন, আধুনিক আলো, হালকা কাঠের আসবাব এবং সাদা পর্দা ব্যবহার করা হয়েছে। ড. নেনের প্রিয় অংশগুলোর একটি হলো পুরোপুরি কালো ও ধূসর রঙের গুরমে কিচেন। তিনি বলেন, ‘আমার সবসময়ই একটি ভালো গুরমে কিচেন ছিল’। রান্না করার সময় বড় বড় জানালা দিয়ে শহরের দৃশ্য দেখা যায়। রান্নাঘরের বিন্যাস এমনভাবে করা হয়েছে যাতে কাজ সহজ ও ঝামেলাহীন হয়।

এ দম্পতির শোবার ঘরে ধূসর দেয়াল, বড় আলমারি, ইনডোর গাছপালা এবং সাদা কুশনযুক্ত কিং-সাইজ বেড আছে। নীল রঙের চেয়ারের ব্যবহার, সাদা পর্দা এবং বিভিন্ন শিল্পকর্ম ঘরটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এখান থেকেও তারা শহরের চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করেন।

এই অ্যাপার্টমেন্টটিতে একটি মিউজিক রুমও রয়েছে, যেখানে পুরো পরিবার সময় কাটায়। দেয়ালে গিটার সাজানো, একটি হোম থিয়েটার সিস্টেম রয়েছে, ড্রাম সেটও আছে এবং মাঝখানে বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে- যা জ্যামিং ও পারিবারিক আড্ডার জন্য উপযুক্ত।
ডিজাইন সম্পন্ন হওয়ার পর ডিজাইনার একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘একটি তারকাখচিত বাড়ি! এভাবেই জাদু তৈরি করা যায় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মাধুরী দীক্ষিত নেনে এবং ড. শ্রীরাম নেনের জন্য।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন