১১ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী লিহানার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ চলমান ৭০ হাজার শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার অভিযোগ পুনঃপর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
লিহানা গত ২৯ মে ফ্রান্সের ফ্লোরেন্স শহর থেকে নিখোঁজ হয়। কয়েকদিন পর একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এ ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, অতীতে তিনি অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
ঘটনার পর আইনমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ স্বীকার করেন যে রাষ্ট্র ও বিচারব্যবস্থার পক্ষ থেকে গুরুতর ব্যর্থতা ঘটেছে। তিনি দেশের সব প্রসিকিউটরকে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধসংক্রান্ত অভিযোগগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না এবং কোথাও অবহেলা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘটনাটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এ মামলায় প্রশাসনিক ও বিচারিক ত্রুটি ছিল কি না তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে লিহানার স্মরণে হাজারো মানুষ নীরব মিছিলে অংশ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা শিশু সুরক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা, বিচারিক জবাবদিহিতা এবং যৌন অপরাধের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ফরাসি রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশু সুরক্ষা, যৌন অপরাধের তদন্ত এবং বিচারিক জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় বিতর্ক শুরু হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, লিহানার মৃত্যু শুধু একটি ফৌজদারি তদন্তের বিষয় নয়, বরং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে সামনে নিয়ে এসেছে।
