আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা:

উচ্চ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় গতি পাচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। সরকারি ছাপাখানা (বিজি প্রেস) থেকে ছাপানো পেপারবুক সোমবার হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছেছে।

হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আছিয়া খাতুনের মামলার পেপারবুক ইতিমধ্যে হাইকোর্টে এসেছে। এখন এটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরে রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। জানা গেছে, পেপারবুক রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পৌঁছানোর পর মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত হিসেবে বিবেচিত হবে। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ নির্ধারণ করবেন। এরপর হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে গত ৭ই জুন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। ওই সুনির্দিষ্ট বেঞ্চেই শিশু রামিসা ও আছিয়ার মতো আলোচিত হত্যা ও ধর্ষণ মামলার শুনানি হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ই মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একইসঙ্গে মামলার অপর ৩ আসামিকে খালাস দেয়া হয়। পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায় ও মামলার নথিপত্র গত বছরের ২১শে মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। সেখানে মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
আইন অনুযায়ী, কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াই ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। একইসঙ্গে দণ্ডিত আসামি রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল, নিয়মিত আপিল কিংবা অন্যান্য আবেদন করতে পারেন। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স, জেল আপিল ও সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে মামলার পেপারবুক তৈরি করা হয়। এতে এজাহার, অভিযোগ গঠন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, আলামত, বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংযুক্ত থাকে।

এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৫শে জুন হাইকোর্টে আপিল করেন হিটু শেখ। ওই আপিলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শেষে গত বছরের ১লা জুলাই হাইকোর্ট আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে বিচারিক আদালতের রায়ে আরোপিত অর্থদণ্ড স্থগিত করেন আদালত। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ায় আলোচিত এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শিগগিরই শুরু হবে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন