আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ছাড়পত্রের জটিলতায় আটকা হামের জিনোম সিকোয়েন্সিং’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইপিএইচ) চলমান হামের ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং করার পর নমুনা ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক রেফারেন্স পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু এ জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের। এ ধরনের আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতায় গত কয়েক বছর কোনো নমুনা বিদেশে পাঠানোই যায়নি। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, জরুরি পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির বাধ্যবাধকতা যৌক্তিক নয়।
বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে রোগজীবাণুর জিনগত বৈশিষ্ট্যের প্রতিবেদন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) পাঠাতে হয়। দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং (জিনের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ) করার আন্তর্জাতিক অনুমোদন নেই বলে কাজটি করতে হয় ডব্লিউএইচও অনুমোদিত কয়েকটি আঞ্চলিক রেফারেন্স পরীক্ষাগারে।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, চলতি বছর দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পর তাদের আওতাধীন ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) ৩০টি নমুনার জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সব কটি নমুনাতেই ভাইরাসের ‘বি-৩’ ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। দেশের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের এই ফল ডব্লিউএইচওর আন্তর্জাতিক নথি ও গ্লোবাল ম্যাপিংয়ে যুক্ত করার জন্য নমুনাগুলো এবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জীবাণুবিদ ও পরীক্ষাগারসংশ্লিষ্টরা জানান, ডব্লিউএইচওর গ্লোবাল মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কের (জিএমআরএলএন) অধীনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের ১১টি দেশের জন্য ল্যাবের মান নিয়ন্ত্রণের কঠিন শর্ত রয়েছে। বাংলাদেশের আইপিএইচের ল্যাবটি হাম ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য ডব্লিউএইচওর অ্যাক্রেডিটেশন বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। তবে ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য এখনো স্বীকৃত নয়। সে কারণে প্রতিবছর দেশ থেকে দৈবচয়ন ভিত্তিতে কিছু নমুনা আঞ্চলিক ল্যাবে পাঠাতে হয়। আঞ্চলিক ল্যাব তা পুনরায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে।
আইপিএইচের দুজন জীবাণুবিদ আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অতীতে কয়েক বছর অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অতীতে দেশের কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা বিদেশি ল্যাব ব্যবসায়িক স্বার্থে রোগীদের রক্ত ও ডিএনএ নমুনা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বিদেশে পাঠাত। এ থেকে সম্ভাব্য ‘বায়োপাইরেসি’ বা জিনগত তথ্য চুরি রোধে আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং রপ্তানি নীতি আদেশের আওতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করে সরকার।
আইপিএইচ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে প্রতিষ্ঠানটি ইপিআইয়ের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দেয়। চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশব্যাপী হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় নমুনাগুলোর মধ্যে সেরাম (রক্তের উপাদান) ও পিসিআর প্রোডাক্ট দ্রুততম সময়ের ভেতরে থাইল্যান্ডে পাঠানো প্রয়োজন।
আইপিএইচের পরিচালক ডা. মো. মোমিনুর রহমান বলেন, বৈজ্ঞানিক নমুনা কুরিয়ারে বিদেশে পাঠাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ছাড়পত্র লাগে।...এর আগেও বিদেশে নমুনা পাঠানোর ছাড়পত্রের জন্য চিঠি দেওয়ার পর অগ্রগতি হয়নি।
জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়ম হওয়া উচিত, কোনো স্বীকৃত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা, গবেষণা বা মানের নিশ্চয়তার উদ্দেশ্যে অবাণিজ্যিক নমুনা বিদেশে পাঠাতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। এ রকম জনস্বাস্থ্য-বিষয়ক জরুরি বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির বাধ্যবাধকতা যৌক্তিক নয়। তাঁরা উল্লেখ করেন, আইসিডিডিআরবি নিয়মিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে নমুনা বিদেশে পাঠাতে পারলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো স্তরভিত্তিক দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিকতার কারণে তা পারছে না। ব্যাপক হামের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে নমুনাগুলো দ্রুত বিদেশে পাঠানোর জন্য স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।
নমুনা বিদেশের ল্যাবে পাঠাতে আইপিএইচের চিঠির বিষয়ে ইপিআইয়ের সহকারী পরিচালক ডা. হাসানুল মাহমুদ বলেন, ‘আইপিএইচের চিঠি আমরা পেয়েছি। ফাইলটি প্রসেসিংয়ে রয়েছে (প্রক্রিয়াধীন)। এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর চূড়ান্ত ছাড়পত্রের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অতীতে এই ধরনের অনুমোদনের প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, তা আমরা পূর্ববর্তী বছরগুলোর নথি দেখে যাচাই করছি।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান বিষয়টি ব্যাখ্যা করে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে ছাড়পত্র নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমরা এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ওপর নির্ভর করি। তাদের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ থাকলে দ্রুততম সময়ে অনুমতি দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ে এই ফাইল আটকে রাখা হয় না। যথাযথ আবেদন পেলে দুই দিনের বেশি সময় লাগে না। আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়মিত এই ছাড়পত্রেই নমুনা বাইরে পাঠাচ্ছে।’
আগের কয়েক বছর সরকারি প্রতিষ্ঠান আইপিএইচের অনুমতি না পাওয়ার বিষয়ে আবদুর রহিম বলেন, ‘তখন আমি এই দায়িত্বে না থাকায় সুনির্দিষ্ট কারণ এই মুহূর্তে বলতে পারব না। তবে এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ পাঠানো হলে সর্বোচ্চ এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই অনাপত্তিপত্র ইস্যু করে দেব।’
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইরোলজির অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে ডব্লিউএইচও এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় হাম নির্মূলকরণ কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচির প্রধান শর্তই হলো প্রতিবছর দেশে ভাইরাসের কোন ধরনটি ছড়াচ্ছে, তা নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে গ্লোবাল নেটওয়ার্কে রিপোর্ট করা।’
হাম-রুবেলা নির্মূলবিষয়ক ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান এবং রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘নমুনা বিদেশে পাঠানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদন লাগবে, এই জটিলতা গত কয়েক বছর ধরে চলছে। এর জেরে দীর্ঘ সময় জিনোম-সংক্রান্ত তথ্য পাঠানো না গেলে হাম মোকাবিলায় বৈশ্বিক কর্মসূচিতে সহায়তা বা নির্মূলের সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’
প্রথম আলো
‘ব্যবসায় মন্দা, কর্মসংস্থান কম, চোখ বাজেটে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সাভারের লিটল স্টার স্পিনিং মিলস একটি রপ্তানিমুখী সুতা উৎপাদনের কারখানা। এটি চালাতে গ্যাস লাগে।
মালিকপক্ষ জানিয়েছে, তাঁদের কারখানায় গ্যাসের অনুমোদিত চাপ ১০ পিএসআই (গ্যাসের চাপ পরিমাপের একক)। তবে তাঁরা পান দেড় থেকে দুই পিএসআই।
গ্যাস না পেয়ে কারখানাটির কর্তৃপক্ষ সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ব্যবস্থায় ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তবু বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সমস্যার সমাধান হয়নি। কারখানাটি উৎপাদন সক্ষমতায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে।
লিটল স্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু গ্যাস–সংকটের কারণে গত চার বছরে আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে।’
গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানা ভুগছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে দেশে রাজনৈতিক আন্দোলন ও রূপান্তর ঘটে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীলতা এসেছে। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ইরান যুদ্ধ। বেড়ে যায় জ্বালানির দাম।
অন্যদিকে দেশ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে রয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পণ্যের চাহিদা কমতির দিকে। সব মিলিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব। নতুন বিনিয়োগ কম। চলছে ব্যয় সাশ্রয় ও কর্মী ছাঁটাই। নতুন নিয়োগের সংখ্যা প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়।
এমন প্রেক্ষাপটে ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণা করবেন। এটিই নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসায় গতি ফেরানো, বিনিয়োগ চাঙা করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোই এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকে নজর থাকবে সবার।
জানতে চাইলে দেশের সুপরিচিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আনোয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রথমেই সরকারের উপলব্ধি করা দরকার, দেশের অর্থনীতি এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই অর্থনীতির সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগবে। তিনি বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের আগে বর্তমানে সংকটে থাকা বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে বিদ্যমান বিনিয়োগই অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার পরিবর্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিনিয়োগের কী হাল
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বিনিয়োগকে দেখা হয় মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির অনুপাতে। তিন বছর ধরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের হার ছিল ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। পরের দুই অর্থবছরে কমে হয় যথাক্রমে ২৪ দশমিক ১৮ এবং ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। সর্বশেষ গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) সাময়িক হিসাবে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের হার ছিল ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
দেশি-বিদেশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অবস্থা বোঝার জন্য কয়েকটি পরিসংখ্যানের দিকে চোখ বোলানো যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলা গত অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। একইভাবে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির ঋণপত্র নিষ্পত্তি কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। ঋণপত্র খোলা ও নিষ্পত্তি কম হওয়ার অর্থ হচ্ছে, নতুন বিনিয়োগ বা সম্প্রসারণ কমেছে।
উচ্চ সুদের হার ও বৈশ্বিক অস্থিরতার বেসরকারি খাতে ঋণ নেওয়া রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। গত এপ্রিলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই হার সাধারণত ১০ শতাংশের ওপরে থাকে।
বিষয়টি নিয়ে এনপলি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রিয়াদ মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যবসা অর্ধেক কমে গিয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ব্যবসা এখনো ১৮-২০ শতাংশ কম। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা কম থাকায় প্রতিষ্ঠানে চলতি মূলধনে টান পড়েছে।
ব্যবসার পরিবেশে উন্নতি নেই
দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি কমে যাওয়ার বিষয় পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআই সূচকেও উঠে এসেছে। অর্থনীতির প্রধান চার খাত—উৎপাদন, কৃষি, নির্মাণ ও সেবা নিয়ে এই সূচক প্রণয়ন করা হয়। পিএমআই অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে অর্থনীতি সম্প্রসারণের গতি কমেছিল। পরের মাসে গতি কিছুটা বাড়লেও মার্চে কমে। গত এপ্রিলে পিএমআই সূচকের মান সামান্য বেড়ে হয় ৫৪ দশমিক ৫ পয়েন্ট।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ব্যবসার খরচ কমাতে বাজেটে বেশ কিছু উদ্যোগ থাকবে। অন্তত ১৯ ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ও স্থানীয় পর্যায়ে উৎসে করের হার কমানো হতে পারে। তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের কর ছাড়ের সুবিধা দিতে পারে সরকার। এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে যেসব লাইসেন্স ও অনুমোদন লাগে, সেগুলো স্বল্প সময়ে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে একগুচ্ছ ঘোষণাও থাকতে পারে বাজেটে।
বাজেটের আগেই দেশের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা বন্ধ শিল্পকারখানার জন্য থাকছে। এই ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল থেকে গড়ে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবে বেসরকারি খাত।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘পুশইন মানবে না ঢাকা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের অবৈধ পুশইন চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের সীমান্ত এলাকাগুলো, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে। দুই দেশের মধ্যে অবৈধ নাগরিক ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকলেও, তা পাশ কাটিয়ে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ভারতের এমন আগ্রাসী আচরণের প্রতিবাদে এবং প্রচলিত নিয়ম মানতে এরই মধ্যে দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক ডজনেরও বেশি চিঠি দিয়েছে ঢাকা। দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে, পুশইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সীমান্তে টহল ও নজরদারি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সোমবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইনের কথা শোনা যাচ্ছে। বিজিবি কোনো পুশইন করতে দিচ্ছে না। সরকার পুশইন অ্যালাউ (মেনে নেওয়া) করছে না। কারণ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবৈধ নাগরিক ফেরত আনার একটি ম্যাকানিজম (আইনি প্রক্রিয়া) বিদ্যমান আছে। ভারতকে এ ম্যাকানিজম ফলো করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে পুশইন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ১২ থেকে ১৩টি চিঠি দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে পুশইন বন্ধে দিল্লিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অবৈধ নাগরিকদের নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ে আইনি প্রক্রিয়া মানতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, পুশইন বন্ধে দিল্লি কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করে ঢাকা। পুশইনের মতো ঘটনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।
বাংলাদেশের এমন অবস্থানের পরও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ধারাবাহিকভাবে সীমান্তে একের পর এক পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। গেল এক সপ্তাহে দেশের ১৩ জেলার অর্ধশত স্থান দিয়ে প্রায় ৫ শতাধিক মানুষকে পুশইনের চেষ্টা করেছে তারা। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ দেশের সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। তাদের দাবি-ক্রমাগত পুশইন চেষ্টায় সীমান্তে তৈরি হবে অস্থিরতা। লঙ্ঘন হবে মানবাধিকার।
বিজিবি জানিয়েছে, তারা অবৈধ পুশইন শক্ত হাতে দমন করছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সতর্ক অবস্থান। বৃদ্ধি করা হয়েছে টহলকার্যক্রম। তাদের এসব কাজে সহযোগিতা করছেন সীমান্ত অঞ্চলের মানুষ।
এদিকে রোববার বিজেপির একটি প্রশিক্ষণ শিবির উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত জেলার অস্থায়ী নিবাসকেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও ৮৩৬ জনকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধকে তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় না থাকা অবৈধ অভিবাসীদের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অতীতে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। ফলে বহু অবৈধ অভিবাসী দীর্ঘ সময় বিভিন্ন সরকারি কেন্দ্রে অবস্থান করেছে।
যদিও শুভেন্দু অধিকারীর এমন তথ্য মানতে নারাজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি। তাদের দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশের সীমান্ত দিয়ে একজনও পুশইন করাতে পারেনি বিএসএফ। তবে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রায় দুই হাজার ৩০০ জনকে পুশইন করে তারা। এর মধ্যে ১২৬ জন ছিল ভারতীয় নাগরিক। আর ৪০-৫০ জন রোহিঙ্গা। বাকি দুই হাজার ১২৪ জন বাংলাদেশি। পুশইনের পর ১২৬ জন ভারতীয় নাগরিককে যথাযথ প্রক্রিয়া ও আইনের মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি।
কালের কণ্ঠ
‘ভ্যাটের জালে সব ব্যবসা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নতুন বাজেট প্রায় চূড়ান্ত। বিএনপি জোট সরকার বিশাল বাজেট করছে, যেখানে রাজস্ব আয়েরও বিরাট লক্ষ্যমাত্রা।
তা অর্জনে এবার ভ্যাট খাতে বড় ধরনের সাহসী সংস্কার আনতে চাচ্ছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের জালের আওতায় আনা হচ্ছে।
কোনো ব্যবসাই আর ভ্যাট নিবন্ধন ছাড়া ভ্যাটের জালে সব ব্যবসাচালানো যাবে না। শুধু তা-ই নয়, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ঋণ নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া থেকে শুরু করে জরুরি সাত সেবায়ও ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হচ্ছে।
পাশাপাশি ভ্যাট বাড়ানোয় নতুন অর্থবছরে ব্যয়বহুল হবে মদ্যপান। এ পণ্যটিতে লিটারপ্রতি নতুন করে ভ্যাট দিতে হবে ৫০০ টাকা। তবে স্বর্ণালংকার, নারীদের কসমেটিকস, মোবাইলের সিম কার্ড আরো সহজলভ্য হবে। অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকারি হিসাবেই দেশে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক কোটি ১৭ লাখ। নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় থাকার বাধ্যবাধকতা আছে। তবে কোটির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মাত্র সাত লাখ ৭৫ হাজার। ফলে বিপুলসংখ্যক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কোনো ভ্যাটই দেয় না। এ বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ আসছে বাজেটে।
কোনো প্রতিষ্ঠানই আর ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকতে পারবে না। সে লক্ষ্যে বাজেটে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকেই ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এমন ভাবে শর্তের মারপ্যাঁচ রাখা হচ্ছে, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠানই চাইলেও আর ভ্যাট নিবন্ধন না করে পারবে না। নতুন অর্থবছরে জরুরি সাতটি সেবার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) নিতে হবে।
ব্যবসায়ীরা গণহারে সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে শর্তের জালে ফেলে ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়ার পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। নিট পোশাক খাতের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যবসায়ের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া, বিদ্যু-গ্যাস সংযোগ নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রয়োজন হয়। এসব ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করলে তা ব্যবসা সহজীকরণের পথে অন্তরায়। সরকারের প্রতিশ্রুতি ছিল ব্যবসা সহজ করা। নতুন শর্ত যোগ করে তা কঠিন করা নয়। তবে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন যদি করতেই হয়, তাহলে বিআইএন নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ অনলাইনে, স্বয়ংক্রিয় ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। এনবিআর কার্যালয়ে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন থাকলে দুর্ভোগ ও অনিয়মের ঝুঁকি বাড়বে।’
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হবে, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, এনবিএফআই বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চলতি হিসাব বা এসটিডি হিসাব খোলা ও পরিচালনা, ঋণ নেওয়া, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসে মার্চেন্ট হিসাব খোলা, ট্রেড বডির সদস্য পদ গ্রহণ-নবায়ন, প্রতিষ্ঠানের নামে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নেওয়া ও বিআরটিএ থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহনের নিবন্ধন নিতে ভ্যাট নিবন্ধিত হতে হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় আরো বলছে, ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বাজেটে ব্যবসায়ী বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে, যিনি আমদানি, ক্রয়, অর্জিত বা অন্য কোনোভাবে সংগ্রহ করা পণ্যের আকৃতি, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য বা গুণগত পরিবর্তন না করে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি বা হস্তান্তর করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, যাদের ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আসা উচিত, তাদের ভ্যাটের আওতায় আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা থাকলে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানও ভ্যাট দিতে বাধ্য হবে। নিবন্ধন নিয়ে বিকাশ, নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে ভ্যাট দিতে পারবে। এতে অন্তত ২০ লাখ প্রতিষ্ঠান নতুন করে ভ্যাটের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা এক কোটি ১৭ লাখ, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ। এর মধ্যে ৯৯ শতাংশেরও বেশি হলো কুটির, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র ব্যবসা। যার ৭৪ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার। তবে গ্রামীণ অর্থনীতির এই বিশাল বিস্তারের প্রতিফলন করের চিত্রে দেখা যাচ্ছে না।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বাজেটের অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন নির্বাচিত সরকার আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় বাজেট দিতে যাচ্ছে। প্রথম বাজেটেই বিএনপি সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিকে ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বড় বাজেট ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। তবে অর্থের সংস্থানকে বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে খোদ অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব এক পর্যালোচনায় আরও কিছু চ্যালেঞ্জের উল্লেখ করা হয়েছে।
আগের বছরের চেয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাত হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি হতে যাচ্ছে। এর আগে সাধারণত বাজেটের আকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হতো। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার দ্রুত বাস্তবায়নের চাপ থেকেই বাজেটের আকার বড় হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে একসঙ্গে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ভর্তুকির ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া, উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ সঞ্চালন নিশ্চিত করা, ঋণ ধারণ সক্ষমতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ালেও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ মনে করছে, কৃচ্ছসাধন নীতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চাপও বাজেট ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের ভর্তুকি খরচ মেটানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চাপও বাজেট ব্যবস্থাপনাকে জটিল করে তুলবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সারের ভর্তুকি খরচ মেটানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বোর্ড (এনবিআর)। বিত্তশালী ব্যক্তিদের ওপরও সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল সংস্থাটি; কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়ায় আপাতত এসব কর আরোপের চিন্তা থেকে পিছু হটেছে এনবিআর। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চ বাজেট ব্যয়ের অর্থসংস্থান নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
সাবেক অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ সমকালকে বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান সক্ষমতা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নতুন বাজেটে যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা উচ্চাভিলাষী। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব না হলে অর্থায়নের চাপ আরও বাড়বে এবং পুরো বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ইত্তেফাক
‘বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করতে শিক্ষা কাঠামোতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ৬ বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করা হচ্ছে। এসব বিষয় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে আইটি ও কারিগরির বিষয় বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ বাড়াতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়। এছাড়া কলেজ পর্যায়েই চালু হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল ইত্তেফাককে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। সকলের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। পরে একাধিক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি হবে। শিক্ষাবিদরা বলেন, কর্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে না দেশের প্রচলিত শিক্ষা। এজন্য দিন দিন শিক্ষিত ও তরুণ বেকারের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনক। দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার গত ১৩ বছরে আট গুণ বেড়েছে। দেশে ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অপ্রাতিষ্ঠানিক।
এদিকে পাবলিক পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সূচির কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো এবং স্কুল-কলেজগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান সচল রাখতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সবচেয়ে বড় দুটি পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসির বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের কর্মদিবস উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হওয়ায় হাজার হাজার স্কুলে স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ থাকে। এতে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা (লার্নিং আওয়ার্স) মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীরাও অসহনীয় মানসিক চাপে ভোগে। এই জটলা ও চাপ কাটানোই সরকারের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
সরকার ২০২৮ সাল থেকে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরমধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গে ‘বড় অধ্যায়’ যুক্ত হতে পারে। সোমবার বিকালে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে, বাস্তব সম্মতভাবে এটাকে আমরা রিভাইজ করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর টোটাল চেইঞ্জ যেটা আশা করছেন, সেটা আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পারবেন, এখন নয়। কারিকুলাম খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে।’
এরআগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নতুন শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘১৬ বছরের সব সমস্যা হয়তো এক দিনে এক বছরে সমাধান করা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। যতটা দ্রুত সম্ভব আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনব। এখানে কারিকুলামের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় আমরা যুক্ত করছি।’
সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার বড় রূপান্তরের পথে হাঁটছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘প্রশাসনে সুদূরপরাহত মেধার মূল্যায়ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার আগেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মেধা, সক্ষমতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে (মেরিটোক্র্যাসি) পদোন্নতি ও পদায়নের জোরালো ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতেও মেরিটোক্র্যাসির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়। তবে সরকার গঠনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের বাস্তব চিত্রে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্টো অনেক সৎ, দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক ‘ট্যাগ’ দিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) বা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্য দিকে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী এবং পূর্ববর্তী কর্মস্থলে অসততা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড থাকা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ, এমনকি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবেও পদায়ন করা হয়েছে। এসব বিতর্কিত পদায়নের কারণে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে কোনো কোনো সিদ্ধান্ত বাতিল করতেও বাধ্য হয়েছে সরকার। ফলে সামগ্রিকভাবে জনপ্রশাসনে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া, ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
কাটেনি বিশৃঙ্খলা, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধ্যত্ব
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একাংশ জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রে একধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো স্থবির হয়ে পড়ে প্রশাসনও। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার নানাভাবে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি সফল হয়নি; অনেক সময় সকালে নেয়া সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায় বদলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কর্মকর্তাদের আশা ছিল, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে প্রশাসনে দ্রুত চেইন অব কমান্ড ও শৃঙ্খলা ফিরবে। কিন্তু তিন মাস পরেও সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে সরকারের সচিব পদমর্যাদায় ২১ জন কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক কর্মরত আছেন, যাদের বয়স ৬৫ থেকে ৭৫ বছর পর্যন্ত। এসব কর্মকর্তা অতীতে অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ফলে তাদের মেধার পূর্ণাঙ্গ সুবিধা পাচ্ছে না সরকার। এ ছাড়া দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর প্রশাসনের বাইরে থাকায় তারা বর্তমানে কর্মরত ব্যাচগুলোর কর্মকর্তাদের চেনেন না। ফলে যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের সঠিক স্থানে পদায়ন করতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের এই স্থবিরতার পেছনে কেবল বয়স বা শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা কাজ করছে। ২১ জন সচিবকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার অর্থ হলো বর্তমান প্রশাসনের ওপরের স্তরে তীব্র যোগ্য নেতৃত্বের সঙ্কট রয়েছে অথবা সরকার ঝুঁকি এড়াতে পুরনো বিশ্বস্তদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান নিচের স্তরের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে, যার ফলে প্রশাসনের ভেতরে একধরনের ‘প্রচ্ছন্ন অসহযোগিতা’ তৈরি হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর ‘মেরিটোক্র্যাসি’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে বড় বাধা।
বণিক বার্তা
‘৩৯২ সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কেবল ১০৮টি’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সরকারি মালিকানাধীন ৩৯২টি কোম্পানি, সংস্থা, করপোরেশন, কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে চিঠি দিয়েছিল অর্থ বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)।
এর মধ্যে ২৮৪টি প্রতিষ্ঠানই প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ২৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো চিঠি সংস্থাটির কাছে ফেরত এসেছে। কেবল ১০৮টি প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এফআরসির পক্ষ থেকে প্রথম দফায় গত বছরের নভেম্বরে ২৯২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের জানুয়ারিতে আরো ১০০টি প্রতিষ্ঠানকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হয়। প্রতিবারই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য তিন সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল।
এফআরসির কর্মকর্তাদের ধারণা, আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি না করার কারণেই হয়তো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তা জমা দিতে পারেনি। যদিও প্রতি বছর এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে জনগণের করের অর্থ ব্যয় করছে সরকার। এ অবস্থায় করদাতাদের অর্থের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরীক্ষা কার্যক্রম ও আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি কঠোরভাবে পরিপালন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন অডিট অধিদপ্তরের আওতাধীন ৩৯২ প্রতিষ্ঠানের কাছেই মূলত আর্থিক প্রতিবেদন চেয়েছিল এফআরসি। এর মধ্যে সিভিল অডিট অধিদপ্তরের তিনটি, প্রতিরক্ষা অডিট অধিদপ্তরের আট, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন অডিট অধিদপ্তরের ২৫, আইটি ও জনসেবা অডিট অধিদপ্তরের ১০, মিশন অডিট অধিদপ্তরের আট, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান অডিট অধিদপ্তরের এক, সামাজিক নিরাপত্তা অডিট অধিদপ্তরের ১৯, স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের ১৭, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অডিট অধিদপ্তরের ৪০, পূর্ত অডিট অধিদপ্তরের ১১, পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের ১৩, বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের ১৫২, ডাক, টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি অডিট অধিদপ্তরের ৩০, কৃষি ও পরিবেশ অডিট অধিদপ্তরের ১৭, বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের এক এবং শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ১৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন কাউন্সিল, সংস্থা, কোম্পানি, করপোরেশন, কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ, বোর্ড, ফেডারেশন, একাডেমি, ফাউন্ডেশন, কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট, কমিশন, ট্রাস্ট, তহবিল, জাদুঘর, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ধরনের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এফআরসির কর্মকর্তারা বলছেন, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতি বছর আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিরীক্ষা করতে হবে। কারণ আর্থিক প্রতিবেদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়, সম্পদ, দায় ও আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন থাকা প্রয়োজন। এটি শুধু আইনি বাধ্যবাধকতাই নয়, বরং সুশাসন ও কার্যকর আর্থিক ব্যবস্থাপনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এ বিষয়ে এফআরসির চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানে আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিতভাবে আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা অপরিহার্য। যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠান সরকারের অর্থে পরিচালিত হয়, তাই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাদের আর্থিক প্রতিবেদন থাকা বাধ্যতামূলক। এ কারণেই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যারা এখনো জমা দেয়নি, তারা হয়তো প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে পারেনি। আমরা তাদের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আবারো রিমাইন্ডার দেব। যদি তারা প্রতিবেদন প্রস্তুত করে না থাকে তাহলে দ্রুত প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে উৎসাহিত করা হবে।’
সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের বাজেট ও অর্থ প্রদানের বিষয়টি তদারক করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলছেন, সব প্রতিষ্ঠান আদৌ আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কিনা এ মুহূর্তে তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। কারণ সব প্রতিষ্ঠান সরাসরি একইভাবে অর্থ বিভাগের মনিটরিংয়ের আওতায় পড়ে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের তদারকির দায়িত্ব তাদের নিজ মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ওপরও বর্তায়। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আলাদা আইন ও বিধান কার্যকর রয়েছে।
কর্মকর্তাদের মতে, অডিট অধিদপ্তর ও সিএজি কার্যালয়ের আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকলেও সেগুলোর প্রকৃতি ও কাঠামো এক নয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে সাধারণভাবে কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকার, পাবলিক করপোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা—এ ধরনের বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের আয় দিয়ে পরিচালিত হয়, কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে বাজার স্থিতিশীল রাখা বা সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। ফলে সবার অডিট ও আর্থিক রিপোর্টিং কাঠামোও এক রকম নয়। এক্ষেত্রে দুই ধরনের অডিট ব্যবস্থা রয়েছে—একটি সিএজি বা সরকারি নিরীক্ষা, অন্যটি স্বাধীন বা ইনডিপেনডেন্ট অডিট। কোম্পানি আইন অনুযায়ী অর্থবছর শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অডিট সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকার ৭৮ গ্রুপে এখন ধনীর দুলালরাও’। খবরে বলা হয়, গত ১৮ মে রাত ১০টায় রাজধানীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী পকেট গেট মসজিদসংলগ্ন সড়কের ঘটনা। এক ব্যক্তিকে ঘিরে শাসাচ্ছে কয়েকজন উঠতি তরুণ। তাদের চোখে-মুখে উগ্রতা, এবড়ো-থেবড়ো চুলের কাটিং, হাতে স্টিলের ব্রেসলেট, কারও কারও চোখে কালো সানগ্লাস, পরনে নানা জায়গায় ছেঁড়া জিন্সের প্যান্ট। দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না এরা সবাই কিশোর গ্যাং সদস্য।
এরা দোলাইরপাড় ঢাল দিয়ে কুতুবখালী হয়ে যাত্রাবাড়ী গোল চত্বরে যাওয়া পণ্যবাহী ট্রাকের মালামাল হরহামেশাই ছিনতাই করে। চক্রের দুই সদস্য সেদিন ট্রাকের পেছন দিয়ে উপরে উঠে তরকারির বস্তা ছিনতাই করছিল। চালক-হেলপার বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ট্রাক থামিয়ে এদের ধরতে যান। তখনই আশপাশে থাকা চক্রের অন্য সদস্যরা মিলে চালক-হেলপারকে শাসাতে শুরু করে। ততক্ষণে ওই ট্রাকের কারণে সড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্য পরিবহন চালকদের পীড়াপীড়িতে চালক দ্রুত ট্রাকটি চালিয়ে চলে যান। তবে হেলপার ইয়ামিনকে ট্রাকে উঠতে দেয়নি গ্যাং সদস্যরা। পাশের একটি গলির মুখে নিয়ে তাকে অনবরত মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে। লোকজন জড়ো হলে ‘নিজেদের বিষয়’ বলে সবাইকে সরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ইয়ামিনের পকেট থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে ঘটনার বিস্তারিত জানান ভুক্তভোগী ইয়ামিন। কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইলে বলেন ‘কী হবে থানায় গিয়ে। ১ হাজার ৮০০ টাকার জন্য আবার মামলা করব? আপনারা তো দেখেছেন, আমাদের মালামাল নিয়ে যাচ্ছিল। বাধা দেওয়ায় উল্টো আমাদের হেনস্তা করেছে, টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় জড়িতরা স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘কামরুল বাহিনী’র সদস্য। কামরুল হাসান ওরফে পলাশের নেতৃত্বে ওই এলাকায় ভোররাতে ছিনতাই, মসজিদসংলগ্ন গলি ও আশপাশের সিএনজি গ্যারেজে মাদক বিক্রি হয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি একই স্থানে চেকপোস্টে ব্যাগ তল্লাশির সময় কনস্টেবল শাহ আলমকে ছুরিকাঘাত করে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায় কয়েকজন। ঘটনার তিন মাসেও জড়িত কাউকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করছি, ব্যবস্থা নিচ্ছি। ঢাকা শহরকে অপরাধমুক্ত করতে, এদের লাগাম টেনে ধরতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’
দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে কামরুল বাহিনীর মতো ঢাকায় অন্তত ১৪৩টি কিশোর গ্যাং গ্রুপের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব বাহিনীর সদস্যরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখলে সহায়তা, ইন্টারনেট সংযোগ, ক্যাবল টিভি (ডিশ) ব্যবসা ও ময়লা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ, উত্ত্যক্ত করা, যৌন হয়রানি করা, হামলা, মারধরসহ নানা অপরাধে জড়িত। নামে কিশোর গ্যাং হলেও বেশিরভাগ সদস্যের বয়স ১৮ বছরের বেশি। এদের কেউ কেউ গাড়ির হেলপার, গ্যারেজ মিস্ত্রি, দোকানের কর্মচারী, নির্মাণ শ্রমিক, ভাঙারি পণ্যের ক্রেতা, সবজি বিক্রেতা। আধিপত্য বজায় রাখতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়ায় এরা। এহেন কর্মকা-ে নিরুপায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও। প্রতিনিয়ত অভিযান, গ্রেপ্তার, মামলা দিয়েও লাগাম টানা যাচ্ছে না গ্যাং বাহিনীর। জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপকর্মে যুক্ত হচ্ছে তারা। এক সময় ভাসমান ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাং চক্রে নাম লেখালেও সাম্প্রতিককালে প্রভাবশালী পরিবার, ধনীর দুলালরাও গ্যাং সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়েছে বলে সরেজমিন অনুসন্ধান এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ঢাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ১৪৩ গ্রুপের প্রতিটিতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন করে সদস্য রয়েছে। সে হিসাবে খোদ রাজধানীতেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে আড়াই হাজারের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্য। রমনা বিভাগে খোঁজ মিলেছে ৯টি গ্রুপের, লালবাগ বিভাগে ১৩টি, মতিঝিল বিভাগে ১৪টি, তেজগাঁও বিভাগে ২৯টি, মিরপুর বিভাগে ৩৪টি, ওয়ারী বিভাগে ১৭টি, গুলশান বিভাগে ১৩টি এবং উত্তরা বিভাগে ১৪টি। সবচেয়ে বেশি গ্যাং গ্রুপ রয়েছে মিরপুর বিভাগের সাত থানা এলাকায়। এই বিভাগে ৩৪টি গ্রুপ রয়েছে। এর মধ্যে পল্লবী থানা এলাকায় সর্বাধিক ১৪টি গ্রুপ সক্রিয়। মিরপুরের পরই তেজগাঁও বিভাগের ছয় থানা এলাকায় ২৯টি গ্রুপ সক্রিয়। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা এলাকায়ই সর্বাধিক ১৬টি গ্রুপ সক্রিয়। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তালিকায় রাজধানীতে এই গ্যাং গ্রুপের সংখ্যা ১১৮টি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘ঋণের ফাঁদে আটকা মানুষ’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, জীবনযাত্রার ‘বিরতিহীন’ ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত আয় এবং সঞ্চয়ের অভাবে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বড় একটি অংশ ক্রমেই ঋণের ফাঁদে আটকে পড়ছে। পরিবারের কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে, সন্তানদের বিয়ে, শিক্ষা কিংবা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত খরচ মেটাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করছেন, কেউবা সুদে টাকা ধার নিচ্ছেন কিংবা এনজিও ও ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা মেটাতেই অনেক পরিবার ঋণে জর্জরিত হয়ে পথে বসে যাচ্ছে। অনেকে ঋণের বোঝা সইতে না পেরে আত্মগ্লানি থেকে আত্মহত্যার মতো সর্বনাশী পথও বেছে নিচ্ছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও যেসব পরিবার সামান্য হলেও সঞ্চয় করতে পারত, এখন তাদের বেশির ভাগই মাসিক আয় দিয়ে নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষার ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যয় আকাশচুম্বী হলেও বাড়েনি আয়। সীমিত আয় ও সীমাহীন ব্যয়ের হিসাব মেলাতে হিমশিম সাধারণ মানুষ। সঞ্চয় তো দূরের কথা, এখন পরিবারের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতেই গলদঘর্ম।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশের কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘দুই বছর আগে স্ত্রী অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ধার করতে হয়। পরে সেই ঋণ শোধ করতে জমি বিক্রি করেছি। এখন আবার ছেলের পড়াশোনার খরচ চালাতে নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে।’ একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক রুবিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘বেতন সামান্য বাড়লেও বাজারের খরচ আরও অনেক বেশি বেড়েছে। কোনো জরুরি খরচ এলেই আত্মীয়স্বজন বা এনজিওর কাছ থেকে ধার নিতে হয়। ঋণ শোধ করতে গিয়ে আবার নতুন ঋণ নিতে হচ্ছে।’
ঢাকায় ধোলাইপাড়ের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আলতাফ হোসেন জানান, ‘বেতন যা পাই, তা দিয়ে মাসের ২০ তারিখের পর আর চলা যায় না। বাড়ি ভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন আর কাঁচাবাজারের খরচ দিতেই পকেট খালি। সঞ্চয় করব কী, প্রতি মাসেই পরিচিতদের কাছ থেকে কিছু না কিছু ধার করতে হচ্ছে।’ অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের একটি বড় অংশ নানা কারণে ঋণের জালে আবদ্ধ হচ্ছে। অতিরিক্ত খরচের চাপে তাদের আপৎকালীন সঞ্চয় বা ডিপিএস ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এখন অনেক পরিবারকে নীরবে ঋণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসা, সন্তানের উচ্চশিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ-এই তিনটি খাতেই চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তদের মধ্যে।’ তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নীতি প্রয়োজন, পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার বিস্তৃতিও জরুরি। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সচেতন আর্থিক পরিকল্পনা, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো এবং সঞ্চয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’ পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বিপদের মাত্রা রূপ নিচ্ছে চরম ট্র্যাজেডিতে। দেশের চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সরকারি হাসপাতালে সিট না পাওয়া বা ওষুধের বাড়তি দামের কারণে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছে পরিবারগুলো। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী প্রতি বছর শুধু চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। চড়া সুদে স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে চিকিৎসার খরচ মেটাতে হচ্ছে, যা পরবর্তীতে আর শোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আর্তনাদ যেন দেখারও কেউ নেই!
