পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র চারদিন বাকি। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন নগরবাসী। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোতে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও অনেক বাজারেই দেখা গেছে ক্রেতার উপস্থিতি কম। রাজধানীর কয়েকটা বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতা কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
কোরবানির এই ঈদে মাংসের নানা পদের রান্নার কারণে স্বাভাবিকভাবেই তেলের পাশাপাশি মসলার চাহিদাও থাকে সবচেয়ে বেশি। খুচরা বাজারে আদার দাম চড়া থাকলেও এলাচ, দারচিনি, জিরা বা রসুনের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় মসলার দাম খুব একটা বাড়েনি। বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই।
বিশেষ করে আবাসিক এলাকার বাজারের চেয়ে বড় বাজারে প্রতি কেজি মসলায় ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন স্থানীয় খুচরা বিক্রেতারা।
এদিকে বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পাইকারি বাজারে মসলার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। বন্দরে আমদানি ও খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় এবার আদা ছাড়া অন্য কোনো মসলার দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে যায়নি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি আদা জাতভেদে ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। আদার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও স্বস্তি দিচ্ছে পিয়াজ ও রসুন। প্রতি কেজি দেশি পিয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং মানভেদে আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বাজারে দেশি রসুনের দাম আরও কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতা জিল্লুর জানান, এক সপ্তাহ আগে আদার দাম কেজিতে আরও ২০ টাকা বেশি ছিল আদা ছাড়া পিয়াজ, রসুন, শুকনো মরিচ বা অন্য কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। খুচরা বাজারে প্রতি ১০০ গ্রাম জিরা ৬০-৭০ টাকা, এলাচ ৪৫০-৫০০ টাকা, কালো এলাচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, দারচিনি ৪৫-৫০ টাকা, লবঙ্গ ১৩০-১৫০ টাকা, গোলমরিচ ১৪০-১৫০ টাকা ও তেজপাতা ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ পাইকারি গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির এক কর্মকর্তা জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার মসলার আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেক ভালো। পাইকারি বাজারে কোনো ঘাটতি নেই।
