পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথিত বাংলাদেশি অভিবাসী নিয়ে কঠোর মনোভাব প্রকাশ করে চলেছেন। নির্বাচনের প্রচারণা পর্ব থেকেই বিজেপি বলে আসছে, তারা অবৈধ অভিবাসীদের রাজ্য থেকে তাড়াবে। বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসতেই নিজেদের প্রতিশ্রুতি মতো পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গতকাল পুলিশ প্রশাসনকে সাফ জানিয়েছেন, অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী ধরা পড়লেই আর আদালতে পেশ করার দরকার নেই। সোজা সীমান্তে বিএসএফের চৌকিতে পাঠিয়ে দেবেন। এমনকি প্রতি সপ্তাহে কতো জন অবৈধ অভিবাসী ধরা পড়ছেন, সেই হিসাবও মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠাতে হবে। ধরপাকড়ের সংখ্যা প্রতি সপ্তাহে রাজ্য পুলিশ প্রধানের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাতে হবে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে ডিপোর্ট আইন কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) অন্তর্ভুক্ত যারা নন, তাদের গ্রেপ্তার করে সরাসরি তুলে দেয়া হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ই মে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রের পাঠানো গত বছরের ওই নির্দেশিকা বুধবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে অবৈধ অভিবাসী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তার মনোভাব ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন। শুভেন্দু এদিন বলেন, পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন হাওড়া দিয়ে প্রতিদিন বহু যাত্রী যাতায়াত করেন। এ অবস্থায় অবৈধ অভিবাসী ধরতে হাওড়া স্টেশন চত্বরে কড়া নজরদারি রাখতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ কমিশনার এবং আরপিএফ-কে বলে দেয়া হয়েছে, সিএএ (নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন)’র আওতায় পড়েন না এমন বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী হাওড়া স্টেশনে ধরা পড়লে, তাকে কোর্টে পাঠাবেন না। তাকে ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে সোজা বনগাঁ পেট্রাপোল সীমান্তে, নইলে বসিরহাটে বিওপি (সীমান্ত চৌকি)’র কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ঠা এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিএএ’র আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা ছ’টি জনগোষ্ঠীকে শরণার্থীর মর্যাদা দেয়া হয়। ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসা, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিষ্টানদের শরণার্থীর মর্যাদা দেয়া হবে। ভারত সরকার তাদের তাড়িয়ে দেবে না।
এদিকে রাজ্য জুড়ে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অভিবাসীদের। অভিবাসীদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে বাড়ির মালিকদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে যাওয়া রাজ্যের সংখ্যালঘুদেরও বাড়িওয়ালা বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Nadim Ahammed
১৮ দিন আগেবিদেশি নাগরিক বা পাসপোর্ট ছাড়া কারো পক্ষে ভারতে সরাসরি স্থাবর সম্পত্তি কেনা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা আইন (FEMA) অনুযায়ী অবৈধ। কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখা এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে যে কীভাবে কিছু অ-নাগরিক ভুয়া বা জাল আধার ও ভোটার কার্ড তৈরি করে কলকাতায় বিপুল সংখ্যক ফ্ল্যাট বা বেনামি সম্পত্তি কিনেছে.সাধারণ সংখ্যালঘু ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক: এই ব্যাপক চিরুনি অভিযানের কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে যাওয়া সাধারণ সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বহু জায়গায় বাড়িওয়ালারা আইনি ঝামেলা এড়াতে বা ভয়ের কারণে ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ বা তার আগে আগত রিফিউজিদের (যারা সিএএ-র আওতাভুক্ত) কোনো ধরনের হেনস্তা করা হবে না. পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করলেও, তাঁর মা গায়ত্রী অধিকারী মূলত বাংলাদেশের বরিশাল জেলা থেকে এসেছিলেন। তাঁর পটভূমি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জন্মস্থান: শুভেন্দু অধিকারী ১৯৭০ সালের ১৫ই ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের করকুলিতে জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক বংশপরিচয়: তাঁর বাবা শিশির অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের একজন বিশিষ্ট ভারতীয় রাজনীতিবিদ। তবে, শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে বলেছেন যে তাঁর মায়ের পরিবার পূর্ব পাকিস্তান (আধুনিক বাংলাদেশ) থেকে আসা উদ্বাস্তু ছিলেন, যাঁরা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে পালিয়ে এসে ১৯৬০ সালে বরিশাল থেকে ভারতে এসেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা: তিনি ২০২৬ সালের ৯ই মে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রথম ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) নেতৃত্ব দেন।