ওমানে প্রাইভেটকারের ভেতর এসি এক্সজস্ট থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ অবশেষে দেশে এসে পৌঁছেছে। জীবিত একমাত্র ভাইয়ের ইমামতিতে হবে ৪ ভাইয়ের জানাজা। বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি।
বুধবার ভোর ৬টার দিকে দু’টি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের লালানগর এলাকার তাদের বাড়িতে মরদেহগুলো আনা হয়। রাঙ্গুনিয়ার লালানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দাফনের জন্য বন্দাররাজা পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানে পাশাপাশি খনন করা হয়েছে চারটি কবর।
এরআগে মঙ্গলবার (১৯মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে কফিনগুলো গ্রহণ করেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
লালানগরের বান্দারাজার পাড়ার আবদুল মজিদের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার আহাজারি। সাদা কাফনে মোড়ানো চার ভাইয়ের নিথর দেহ ঘিরে স্বজনদের বিলাপে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। প্রতিবেশীরাও বলছেন, একসঙ্গে একই পরিবারের চার ভাইয়ের মরদেহ বাড়িতে ফেরার এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।
ওমানে মারা যাওয়া চার ভাই হলেন রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। জীবিকার সন্ধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওমানের আল মিলিদ্দা এলাকার আল মোছানা স্টেট অব আল বাতিনাহতে একটি গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। খবরটি দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মে মঙ্গলবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় কেনাকাটা শেষে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্কিং করা গাড়ির ভেতরে এসি চালু করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চার ভাই। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি লক থাকায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে অবশ ও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গাড়ির ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তারা।
