‘আমরা ফেভারিট নই, তবে যেকোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি’, আত্মবিশ্বাসী কোম্যান

২০২৬ বিশ্বকাপ

‘আমরা ফেভারিট নই, তবে যেকোনো দলকেই হারানোর ক্ষমতা রাখি’, আত্মবিশ্বাসী কোম্যান

ফন্ট সাইজ:

ডাচ ফুটবল মানেই নান্দনিকতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের এক নিখুঁত রচনা। অথচ তিন-তিনবার ফাইনালে গিয়েও সোনালী ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখার সোভাগ্য হয়নি তাদের। ইতিহাস ও আক্ষেপের এই দোলাচলেই আরেকটি বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে নেদারল্যান্ডসের দরজায়। উত্তর আমেরিকার মহাযজ্ঞে নামার আগে ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যান ফিফাকে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ডার্ক হর্স হিসেবেই তারা এবারের আসর কাঁপাতে চান।
২০১৮তে প্রথম দফায় নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নেয়া কোম্যান ২০২২-এ পুনরায় জাতীয় দলের কোচিংয়ে ফেরেন। আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে ফিফাকে তিনি বলেন, ‘মানুষ হয়তো আমাদের বিশ্বকাপের ফেভারিট ভাবছে না।

তবে নেদারল্যান্ডসের আসল শক্তি হলো— আমাদের স্কোয়াডে যে প্রতিভা আছে, তা দিয়ে আমরা পৃথিবীর যেকোনো দলকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি।’ ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনাল অথবা ন্যাশনস লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে পেনাল্টি শুটআউটের দুর্ভাগ্যসহ সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু হৃদয়ভাঙা অধ্যায় পার করেছে ডাচরা। তবে মাঠের খেলায় পরাজয় বরণ করলেও কোম্যানের দল মাঠ ছেড়েছে মাথা উঁচু করেই, উপহার দিয়ে গেছে দৃষ্টিনন্দন আক্রমণাত্মক ফুটবল।

এবারের তরুণ ও প্রতিভাবান ডাচ প্রজন্ম নিয়ে বেশ আশাবাদী ৬৩ বছর বয়সী কোম্যান। জুরিয়েন টিম্বার, মিকি ভ্যান ডে ভেন কিংবা তিজানি রেইন্ডার্সের মতো একঝাঁক তরুণ তুর্কি খেলছেন প্রিমিয়ার লীগের মতো তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মঞ্চে। কোম্যান বলেন, ‘এই নতুন প্রজন্ম এখন ডাচ জাতীয় দলের মূল চালিকাশক্তি। টেকনিক্যাল স্কিলের পাশাপাশি তারা শারীরিকভাবেও দুর্দান্ত। প্রিমিয়ার লীগে খেলার কারণে তাদের খেলার তীব্রতা ও গতি অনেক বেশি, যা আমাদের জন্য অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট।’

এই তরুণদের পথ দেখাতে নেপথ্য কাণ্ডারি হিসেবে থাকছেন লিভারপুলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইক। ৩৫ বছর বয়সী অধিনায়কের প্রশংসা করে কোম্যান আরও বলেন, ‘ভ্যান ডাইক এমন একজন অধিনায়ক, যা যেকোনো কোচের জন্য স্বপ্নের মতো।’ ১৯৯৪ বিশ্বকাপে হল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেয়া কোম্যানের চোখে সর্বকালের সেরা অধিনায়ক অবশ্য কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ।

সবশেষে কোম্যান মনে করিয়ে দিলেন, বিশ্বমঞ্চে ছোট দল বলে কিছু নেই। তাই অতি-আত্মবিশ্বাসে গা না ভাসিয়ে, প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়ে বিশ্বকে আরও একবার ডাচ ফুটবলের প্রেমে ফেলতে চায় অরেঞ্জ বাহিনী।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন