পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তার দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি সম্পূর্ণভাবে বদলে গেছে। দ্য সানডে টাইমস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি পাকিস্তানের ইতিহাসের উজ্জ্বল মুহূর্তগুলোর একটি। শেহবাজ শরিফ দাবি করেন, পাকিস্তান এখন একটি সৎ মধ্যস্থতাকারী। তার ওপর বৈশ্বিক নেতৃত্ব আস্থা রাখে। তার ভাষায়, ইসলামাবাদের প্রচেষ্টায় একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে, যা এখনো বহাল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জিও নিউজ।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আশা করছে ইসলামাবাদে আবারও সরাসরি আলোচনার একটি নতুন পর্ব আয়োজন হবে, যা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, শান্তি কখনো সহজে অর্জিত হয় না। এর জন্য ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা দরকার। শেহবাজ শরিফ জানান, পাকিস্তান এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেন এই শান্তি উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে রূপ নেয়। তিনি বলেন, আমরা এখনো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যেন ইসলামাবাদে আরেকটি বৈঠকের মাধ্যমে এই শান্তি প্রক্রিয়া সফল হয়।
তিনি দাবি করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় আস্থা রেখেছে। তার ভাষায়, সৌভাগ্যক্রমে ইরান পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে, যেমন বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন এবং উপসাগরীয় দেশগুলোও। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান’কে। তিনি বলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব একসঙ্গে কাজ করেছে। বিশেষভাবে তিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, যা আমরা দেখছি তা রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টা। ফিল্ড মার্শাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা ইতিহাসে লেখা থাকবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
