চট্টগ্রামে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মোছা নিয়ে এনসিপি ও বিএনপি’র স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমনকি, দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ এসে উভয় পক্ষকেই সরিয়ে দেয়।
রোববার রাত ১১টার দিকে নগরীর টাইগারপাস এলাকায় সিটি করপোরেশন অফিসের প্রবেশ মুখে সড়কের ওপর এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রামের ওয়াসা মোড় থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত নবনির্মিত ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পিলারে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আঁকা জুলাই অভ্যুত্থানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গ্রাফিতি সম্প্রতি কে বা কারা মুছে ফেলে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এবং স্মৃতিগুলো ধরে রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি’র পক্ষ থেকে রোববার রাতে নতুন করে ‘জুলাই গ্রাফিতি’ আঁকার একটি বিশেষ কর্মসূচি দেয়া হয়। দলটির নেতা-কর্মীরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে ফ্লাইওভারের নিচে বিভিন্ন পিলারে গ্রাফিতি আঁকার কাজ শুরু করেন। তবে গভীর রাতে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে যাওয়ার মূল সড়কের দেয়ালে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে সরাসরি দায়ী করে বেশ কিছু আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক স্লোগান লিখে দেয়া হয়। মেয়রের বিরুদ্ধে এমন আপত্তিকর লেখার খবর পেয়ে ছাত্রদল ও যুবদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা দ্রুত টাইগারপাস এলাকায় জড়ো হন এবং এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
একপর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা দেয়ালে লেখা মেয়রের বিরুদ্ধে স্লোগানগুলো কালো রঙ দিয়ে মুছে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপি ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং উভয়পক্ষ একে অপরের মুখোমুখি হয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। এতে করে ওই এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি’র সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘আমরা জানি বর্তমান মেয়র মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র। উনার মেয়াদ চলে গেছে। কিন্তু আমরা জানতাম না, উনার ব্রেইনেরও মেয়াদ চলে গেছে। গ্রাফিতি মুছে দেয়ার পর সেখানে লিখে দিয়েছে, বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন। এটা নিশ্চিত সিটি করপোরেশন করেছে।’
এদিকে রাত সোয়া ১২টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরের লালখান বাজার এলাকায় যান চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় নিজের ওপর হওয়া নির্যাতন ও হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
মেয়র বলেন, ‘গ্রাফিতি নিয়ে আমার অবস্থান পরিষ্কার করার পরও এনসিপি’র এক বিতর্কিত নেতা শহরকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে। জুলাই বিপ্লবের সময় আমার বাসায় হামলা হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে, ১৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার সামনে মায়াকান্না করে লাভ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের দিয়ে নান্দনিক গ্রাফিতি অঙ্কন করা হবে। চসিক এজন্য টাকা দেবে। যদি চসিক না পারে, তাহলে আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করবো।’
এদিকে, রাত ১২টা ৪৪ মিনিটে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম নগরীকে নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিল্পসমৃদ্ধ নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে সকাল ১০টায় টাইগার পাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত সড়কের দেয়ালে ব্যতিক্রমধর্মী গ্রাফিতি অঙ্কন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি মোছা নিয়ে এনসিপি-বিএনপির উত্তেজনা
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে
অনলাইন
২২ দিন আগে
১৮ মে (সোমবার), ২০২৬, ৯ঃ৫৯ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
