জুলাইয়ের ৭৯৮ মামলায় ৫০৭৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

সহযোগীদের খবর

জুলাইয়ের ৭৯৮ মামলায় ৫০৭৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জুলাইয়ের ৭৯৮ মামলায় ৫০৭৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ৪ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বাংলামটরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে বেলাল হোসেন রাব্বি নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর মা জেসমিন আক্তার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।

পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার তদন্তে নেমে এজাহারে উল্লেখ আসামিদের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে রাব্বি হত্যাকাণ্ডে কোনো সংশ্লিষ্টতা পায়নি। তবে এজাহারভুক্ত ১২ জনের পাশাপাশি এবং তদন্তে নতুনভাবে শনাক্ত আরও ছয়জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আদালতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে পিবিআই।

শুধু রাব্বি হত্যা মামলা নয়; জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে হয়রানিমূলক আসামি করা হয়েছিল বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এ জন্য ৭৯৮টি মামলায় ৫ হাজার ৭৪ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ।

পাশাপাশি অন্তত ৪০টি মামলায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কোনো মামলা তদন্ত করার পর সাক্ষ্য-প্রমাণ না পেলে বা মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করে সেটিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বলে।

এ ছাড়া পুলিশ গত ১৬ মে পর্যন্ত জুলাইয়ের ১৭৫টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। এতে মোট আসামি ১৩ হাজার ৮২৪ জন। পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলা ৭৯৯টি, হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য ধারায় ১ হাজার ৫৬টি।

অভিযোগপত্র দেওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ৪৯টি হত্যা মামলা। এতে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি সংখ্যা ৪ হাজার ৭২৩। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৭১ জন এজাহারনামীয়, বাকি ১ হাজার ৪৫২ জনের নাম পুলিশের তদন্তে উঠে আসে। এ ছাড়া হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য ধারার ১২৬টি মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা ৯ হাজার ১০১। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৭৪ জন এজাহারনামীয়, বাকি ২ হাজার ৯২৭ জনের নাম পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।

ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থাকে জনবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-১৮৯৮ এ ধারা ১৭৩ (এ) সংযোজন করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। এই ধারা অনুযায়ী, হয়রানিমূলক কারও নাম কোনো মামলার প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকলে তদন্ত কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন এবং আদালত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দিতে পারবেন। এই ধারার আওতায় ডিএমপির বিভিন্ন থানার ৩৫৪ মামলায় ৩ হাজার ৮৪৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ।

এর বাইরে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানার ৩৯টি মামলায় ১৪৪ জনকে, চট্টগ্রামে (সিএমপি) ১৯টি মামলায় ৫২ জন, গাজীপুরে (জিএমপি) ১২টি মামলায় ২১ জন, রাজশাহীতে (আরএমপি) ১০টি মামলায় ২৫ জন, বরিশালে (বিএমপি) ৩টি মামলায় ৬ জন, খুলনায় (কেএমপি) ১টি মামলায় ৫ জন ও রংপুরে (আরপিএমপি) ২টি মামলায় ৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

একইভাবে ঢাকা রেঞ্জের ৯টি জেলার ২১১টি মামলায় ৪৮৫ জন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ৬টি জেলার ৩৪টি মামলায় ৯৫ জন, খুলনা রেঞ্জের ৮টি জেলার ২৮টি মামলায় ৫৮ জন, রংপুর রেঞ্জের ৪ জেলার ৫টি মামলায় ৮ জন, রাজশাহী রেঞ্জের ৩ জেলার ১২ মামলায় ২৮ জন, ময়মনসিংহের ৪ জেলার ১৮টি মামলায় ৬০ জন, বরিশাল রেঞ্জের ২ জেলার ২ মামলায় ১৭ জন এবং সিলেট রেঞ্জের ৩ জেলার ২০টি মামলায় ১৪০ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন সমকালকে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তে ধারাবাহিক অগ্রগতি হচ্ছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (এ) ধারার কার্যকর প্রয়োগ বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে নিরপরাধ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ, তদন্তে স্বচ্ছতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মান আরও উন্নত হয়।

প্রথম আলো

‘সড়ক প্রকল্পের টাকায় ভবনবিলাস’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছিল টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক সম্প্রসারণের জন্য। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এই প্রকল্পে যুক্ত করা হয় গবেষণাগার উন্নয়নের নামে ভবন নির্মাণসহ নানা বিলাসী উপকরণ। যেমন মাল্টিপারপাস হল, সেমিনার হল, কনফারেন্স হল, লাউঞ্জ, দেড় শতাধিক পাঁচ তারকা হোটেলের সমমানের থাকার কক্ষ। আরও যোগ হয়েছে সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম, ইনডোর গেমস সরঞ্জাম বিলিয়ার্ড, স্নুকার, কার্ড রুম ইত্যাদি।

সবই করা হচ্ছে বড় বড় গাছ কেটে, পুকুর ভরাট করে। বর্তমান সরকার সারা দেশে বৃক্ষরোপণে জোর দিয়েছে। অথচ সরকারেরই একটি সংস্থা গাছ কেটে বিলাসী ভবন তৈরি করছে।

প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের। প্রকল্পটির নাম সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২। আর বিলাসী ভবনগুলোর নির্মাণকাজ চলছে মিরপুরের পাইকপাড়ায় সড়ক গবেষণাগার এলাকায়। জায়গাটি মূল সড়ক থেকে ভেতরে, গাছগাছালিতে ঘেরা। এখানে নতুন ভবন নির্মাণ করতে ভাঙা হয়েছে পুরোনো স্থাপত্যশৈলীর ভবন। এগুলোর নকশা করেছিলেন স্থপতি মাজহারুল ইসলাম।

প্রকল্পে বিলাসী উপকরণ যোগ হওয়ার সঙ্গে বেড়েছে ব্যয়ও। শুরুতে এসব ভবন ও কিছু যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স (এনডিই) নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। শুরুতে তারা কাজটি পেয়েছিল ২৩২ কোটি টাকায়। তিন দফা ব্যয় বাড়িয়ে এখন ৩৩৫ কোটি টাকায় ঠেকেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভবনের লিফট, এসি ও এ-সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির পেছনেই ব্যয় করা হচ্ছে ২৫ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ব্যয় করা হবে ২০ কোটি টাকার বেশি। অফিস ফার্নিচার, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি টাকার বেশি। অথচ প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক ল্যাব সরঞ্জাম মিরপুরের গবেষণাগার এবং নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ব্রিজসংলগ্ন সওজের গবেষণাকেন্দ্রে পড়ে আছে। দক্ষ জনবল ও ব্যবহার না থাকায় এগুলো বিকল হচ্ছে।

সওজের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ঠিকাদার সওজের প্রাক্কলনের চেয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ ছাড়ে (লেস) মূল্য প্রস্তাব করে কাজটি পান। অনেক উপকরণের (আইটেম) মূল্য কম দেখিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেন। কিন্তু পরে যেসব আইটেমের মূল্য কম দেখানো হয়েছিল, এর বেশির ভাগই বাদ দেওয়া হয়। আর নতুন নতুন পণ্য ও কাজ যোগ করা হয়, যেগুলোর মূল্য বেশি। মূলত বাড়তি লাভের জন্যই এই কারসাজি করেছেন ঠিকাদার। কর্তৃপক্ষও তা অনুমোদন করেছে। সব মিলিয়ে ঠিকাদার কাজ নেওয়ার পর কৌশল করে প্রায় ৪৫ শতাংশ ব্যয় বাড়িয়েছেন, যা খুবই অস্বাভাবিক।

হাতিরঝিলে দৃষ্টিনন্দন ভবন

ঢাকার তেজগাঁওয়ে হাতিরঝিলের পাশেই ২০২৩ সালের শেষের দিকে সওজের নতুন প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। আধুনিক নকশা এবং দৃষ্টিনন্দন এই ভবন যে কারও নজর কাড়বে। এর পাশেই আরেকটি গোলাকার দৃষ্টিনন্দন ভবন তৈরি করা হয় একই সময়। এটির একাংশ ব্যবহার করে সওজ, অন্য অংশ ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। দুটি ভবনই ১৩ তলাবিশিষ্ট।

এই প্রধান কার্যালয়ে ৭০০ আসনবিশিষ্ট মিলনায়তনসহ বিভিন্ন আকারের সম্মেলনকক্ষ, বড় মসজিদ, পাবলিক প্লাজা, পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া, ডে কেয়ার সেন্টার, ২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আছে। সব মিলিয়ে দুটি ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৩৫ কোটি টাকা। দুটি ভবনে এক হাজারের মতো কর্মকর্তা-কর্মচারীর কক্ষ ও বসার জায়গা রয়েছে। অন্যদিকে সওজের গবেষণাগারে সাকল্যে লোকবল আছে ৫০ জনের মতো। তারপরও খরচ করা হচ্ছে দুই ভবনের সমান টাকা।

দৃষ্টিনন্দন ভবন থাকা সত্ত্বেও নতুন করে বিলাসী ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সড়ক ভবনে সেমিনার হলসহ অন্যান্য সুবিধা থাকার পরও নতুন করে একই ধরনের বিলাসী স্থাপনা করার যৌক্তিকতা নেই। প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর এটা একটা কৌশল। বিগত আমলে এগুলো স্বাভাবিক হয়ে পড়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে এই ধারা অব্যাহত রাখা খুবই হতাশাজনক।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় কয়েক গুণ বেশি এমনি এমনি হয়নি। বিলাসী ব্যয়, যোগসাজশ করে উপকরণ কমানো-বাড়ানো—এভাবেই ব্যয় বাড়ে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে কীভাবে এগুলো পাস হয়, তা বড় প্রশ্ন। নিশ্চয়ই বিভিন্ন স্তরে সুবিধাভোগী রয়েছে। স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ দিয়ে এগুলো তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে ঋণদাতা সংস্থাও দায় এড়াতে পারে না বলে তিনি মনে করেন।

সওজ সূত্র জানায়, মিরপুরের গবেষণাগারে বিলাসী স্থাপনা নির্মাণসহ দুটি প্যাকেজের কাজ পাওয়া এনডিই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালের শেষ দিকে সওজে ঠিকাদারি শুরু করে। পরবর্তী ছয় বছরে তারা সড়কে একক ও যৌথভাবে সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার ঠিকাদারি পেয়েছে, যা মোট কাজের ১০ শতাংশ। অন্য কোনো ঠিকাদার এত কাজ পাননি।

সওজ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, এনডিই ঠিকাদারি কাজ পেতে আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করত। ওবায়দুল কাদের কর্মকর্তাদের বলে দিয়েছিলেন যে প্রতিষ্ঠানটির পেছনে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। এমনকি শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানারও পরিচয় দিতেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধারেরা।

প্রথম আলোর আরেক খবরে বলা হয়, ‘আবার নাগরিকত্ব ছাড়ার আবেদন এস আলমের’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করতে আবারও আবেদন করেছেন এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। নিজের, স্ত্রী ফারজানা পারভীন এবং দুই ছেলে আশরাফুল আলম ও আসাদুল আলম মাহিরের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছেন তিনি। বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ আবেদন করা হয়।

তবে চলমান আইনি ও আর্থিক জটিলতার কারণে সরকার আপাতত সাইফুল আলম (এস আলম) পরিবারের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করতে চাইছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন মঞ্জুর করা হলে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, দেশে থাকা সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সালিসি মামলায় বাংলাদেশের আইনি অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এস আলমের আবেদন পর্যালোচনা করে সরকার প্রাথমিকভাবে দুটি বড় ঝুঁকি দেখছে। প্রথমত, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন মঞ্জুর হলে সেই অর্থ ফেরত আনার আইনি প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সাইফুল আলম নিজের সম্পদ সুরক্ষার দাবি তুলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে মামলা করেছেন। নাগরিকত্বের প্রশ্নে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী হলে ওই মামলায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

এর আগে ২০২০ সালেও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন করেছিলেন এস আলম গ্রুপের কর্ণধার। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, ওই সময় আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের ২০২০ সালের ১৯ জুলাইয়ের একটি স্মারক দেখিয়ে বলা হয়, সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব গ্রহণের কারণে সাইফুল আলমের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মঞ্জুর করেছিল।

তবে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ইসলামী ব্যাংক গত বছরের নভেম্বরে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সাইফুল আলমের নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া (আওয়ামী লীগ সরকার আমলের) স্মারক স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ফলে সাইফুল আলমের (এস আলম) বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রশ্নটি এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এস আলমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে তিনি ব্যাংক দখল, ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এস আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিদেশে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আর দেশে ফেরেননি।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘খাতা খুলে ঘুস ভাগাভাগি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাসপোর্ট অফিসের ঘুস ভাগাভাগিতে ‘শিয়ালের আলু ভাগের’ সেই গল্পের মতো এক বিশেষ পদ্ধতি দীর্ঘদিন চালু রয়েছে। দালাল-চ্যানেলে আসা ঘুসের টাকা দুভাগে ভাগ করা হয়। এর একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট অফিসপ্রধান নিজের কাছে রেখে দেন। বাকিটা অফিসের কেরানি থেকে শুরু করে নিরাপত্তা প্রহরী পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে নির্ধারিত হারে ভাগাভাগি করা হয়। ‘চ্যানেল মাস্টার’ বা ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে রীতিমতো খাতায় হিসাব কষে এমন ঘুস বাণিজ্য চলে।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জেরার মুখে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির এমন অভিনব পদ্ধতি ফাঁস করে দেন। দুদক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, পাসপোর্টের এমন ঘুস বাণিজ্য সহসা বন্ধ হওয়ার নয়। কারণ, ঘুসচক্রের সঙ্গে খোদ উচ্চপর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা জড়িত। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের অসাধু সদস্য এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের পকেটেও যায় ঘুসের টাকা।
আবেদন যত, ঘুস তত : ঘুসের অঙ্ক নির্ধারিত হয় পাসপোর্ট আবেদনের সংখ্যার ওপর। অর্থাৎ যেসব অফিসে আবেদন বেশি, সেখানে ঘুসের অঙ্কও তত বড়। মোট আবেদনের অন্তত ৮০ শতাংশ আসে বিশেষ চ্যানেলে, অর্থাৎ দালালের মাধ্যমে। এসব আবেদনে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে ‘চ্যানেল খরচ’ হিসাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। আবেদনপ্রতি যার অঙ্ক দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা।
সূত্র জানায়, দালাল-চ্যানেলে আসা বিশেষ চিহ্নযুক্ত প্রতিটি আবেদন গুনে রাখা, ঘুসের টাকা সংগ্রহ এবং ভাগবাঁটোয়ারার জন্য প্রায় সব অফিসেই একজন কর্মচারী দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন। তাকে বলা হয় ‘চ্যানেল মাস্টার’। সাধারণত হিসাবরক্ষক বা ডিএডি (উপসহকারী পরিচালক) পদমর্যাদার কর্মচারীদের কেউ চ্যানেল মাস্টার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, সারা দেশে প্রায় ৬৯টি অফিসে পাসপোর্ট আবেদন জমা নেওয়া হয়। দৈনিক আবেদন জমার ওপর ভিত্তি করে অফিসগুলো ‘এ, বি এবং সি’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। দৈনিক ২০০ থেকে ২৫০টি আবেদন জমা হলে সংশ্লিষ্ট অফিস ‘এ’ ক্যাটাগরি হিসাবে চিহ্নিত। এছাড়া কোথাও দুইশর নিচে আবেদন জমা হলে ‘বি’ এবং একশর নিচে হলে সেগুলোকে ‘সি’ ক্যাটাগরির অফিস বলা হয়।
সূত্র জানায়, মূলত পোস্টিং বাণিজ্যের জন্য সরকারি অফিসের এমন ক্যাটাগরি করা হয়। বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে-এমন অফিসগুলোয় পোস্টিং পেতে হলে মোটা অঙ্কের ঘুস দিতে হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তরে এমন ৩৩টি অফিস ‘এ’ ক্যাটাগরির বা ব্যাপক ঘুসপ্রবণ হিসাবে পরিচিত। এছাড়া ২৪টি অফিস ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং বাকি ১২টি ‘সি’ ক্যাটাগরিভুক্ত।
চ্যানেল: পাসপোর্ট অফিসে ঘুসের হিসাব অনেকটা সরল অঙ্কের মতো। একেবারেই সহজ। আবেদনপ্রতি ন্যূনতম ঘুস দেড় হাজার টাকা। কোনো অফিসে দৈনিক একশ আবেদন জমা পড়লে এর ৮০ শতাংশ আসে দালাল চ্যানেলে। এতে গড়ে দৈনিক ঘুসের অঙ্ক দাঁড়ায় কমপক্ষে এক লাখ টাকা, যা সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসে ৫ লাখ টাকা। মাসের হিসাবে ২০ লাখ টাকা। তবে এর বাইরে তথ্য সংশোধন এবং দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়াসহ নানা খাতে ঘুস বাণিজ্যের পথ খোলা।
সূত্র জানায়, ন্যূনতম ঘুসের এ হিসাব সবচেয়ে খারাপ পোস্টিং হিসাবে পরিচিত ‘সি’ ক্যাটাগরির অফিসে। দৈনিক এক হাজার থেকে দেড় হাজার আবেদন জমা হয়-এমন অফিসে পোস্টিং পেলেই মূলত পাসপোর্ট ঘুসের প্রকৃত স্বাদ মেলে। কারণ, এসব অফিসে ঘুসের টাকা আসে অনেকটা জোয়ারের পানির মতো। কোনো কোনো অফিসে সপ্তাহে ঘুসের অঙ্ক দাঁড়ায় ৪০ লাখ টাকারও বেশি। প্রতিমাসে দেড় কোটি টাকা। এসব অফিসকে বলা হয় ‘এ’ ক্যাটাগরির অফিস।
কালের কণ্ঠ
‘হত্যা মামলায় বিক্ষত সাংবাদিকতা’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গলা ছেড়ে স্লোগান—‘তুমি কে, আমি কে/রাজাকার, রাজাকার’; ‘এক দফা, এক দাবি, স্বৈরাচার কবে যাবি’। মিছিলের সামনে-পেছনে ছুটছেন সাংবাদিকরা। কেউ ক্যামেরায় বন্দি করছেন উত্তাল মুহূর্ত, কেউ মোবাইল ফোনে পাঠাচ্ছেন লাইভ আপডেট। রাষ্ট্রযন্ত্রের কঠোর নজরদারি, হুমকি, হামলা আর বাধা পেরিয়ে তাঁরাই পৌঁছে দিয়েছেন খবর।
কিছু খবর প্রকাশিত হয়েছে, কিছু হারিয়ে গেছে অদৃশ্য সেন্সরের অন্ধকারে। তবু দমে যাননি সাংবাদিকরা। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে কর্তৃত্ববাদী সরকারের। পাল্টে যায় রাজনৈতিক পটভূমি।
আন্দোলনে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে একের পর এক মামলা হয়। আর সেসব মামলার আসামির তালিকায় উঠে আসে এমন কিছু নাম, যাঁদের হাতে বন্দুক নয়, ছিল কলম, ক্যামেরা, বুম, মাইক্রোফোন। তাঁরা আর কেউ নন—নিবেদিতপ্রাণ তথ্যসেবক সাংবাদিক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী দেড় বছরের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, যে সাংবাদিক জীবন বাজি রেখে আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করেছেন, তিনিই হয়ে গেছেন আসামি। যে মানুষ রাষ্ট্রের দমন-পীড়নের সাক্ষ্য বহন করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁকেই দাঁড় করানো হয়েছে কাঠগড়ায়।
ইতিহাসের এক নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে গেছেন সাংবাদিকরা। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ হলো—আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ। আর সংবাদমাধ্যম হলো এদের নজরদার, প্রহরী। তাই সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমকে বলা হয় রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আগে-পরের কিছু বিষয়কে হাতিয়ার বানিয়ে রাষ্ট্রের সেই চতুর্থ স্তম্ভকে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করা হয়েছে—এমনটাই মনে করেন আইনবিদসহ বিশিষ্টজনরা।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে নজিরবিহীন নিগ্রহের শিকার হন সাংবাদিকরা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জর্জরিত করা হয় গোটা সংবাদমাধ্যমকে। হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ ৪৯টি মামলায় আসামি করা হয় দেশের অন্তত ২৮২ জন সাংবাদিককে। এর মধ্যে ১৭৪ জন সাংবাদিক হত্যা মামলা, ১২ জন হত্যাচেষ্টা মামলা, ৩৭ জনকে নাশকতা মামলা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে; অনেককে আত্মগোপনে, অনেককে আবার কাটাতে হচ্ছে যাযাবরের জীবন।
ইউনূস জামানার দেড় বছরে সাংবাদিক নিপীড়নের বিষয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের তৈরি গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করেছে কালের কণ্ঠ। অভ্যুত্থান-পরবর্তী ১৮ মাসে অন্তত ৮১৪ জন সাংবাদিক বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংগঠনটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতিত সাংবাদিকদের মধ্যে বেশি ছিলেন সরাসরি হামলার শিকার। এ সময় ৫৮৫ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হন। হত্যা মামলার শিকার হয়েছেন ১৭৪ জন, হত্যাচেষ্টা মামলার শিকার ১২ জন, নাশকতা মামলার শিকার ৩৭ জন এবং সরাসরি হত্যার শিকার হয়েছেন ছয়জন সাংবাদিক।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই বছর ৬২২ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার হন। এর মধ্যে হামলা করা হয় ৪৫৮ জনকে, হত্যা মামলায় জড়ানো হয় ১৪০ জনকে, নাশকতা মামলার শিকার হন ২১ জন এবং একজন সাংবাদিক নিহত হন।
২০২৪ সালের আগস্ট-ডিসেম্বর সময়ে মোট ১৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হন। এ সময় ৮৫ জন হামলার শিকার হন, ৩১ জন হত্যা মামলা, ১০ জন হত্যাচেষ্টার মামলা এবং ১৬ জন নাশকতা মামলার শিকার হন। একই সময় পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৪৫ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে এমএসএফ। এর মধ্যে ৪২ জন হামলার শিকার এবং তিনজন হত্যা মামলার শিকার হয়েছেন।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১৭ মাসে অন্তত ৪২৭টি হামলায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক নিগ্রহের শিকার হন। এতে ছয়জন নিহত, ৩৭৯ জন আহত, ১০৩ জনকে হুমকি ও ৩৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ২১৮ জন সাংবাদিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
অন্যদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। ১৮৯ জন সাংবাদিক চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলেও তথ্য টিআইবির।
গতকাল আবার সম্পাদক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম জানিয়েছেন, তাঁরা বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ২৮২ জন, এর মধ্যে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৯৪ জন সাংবাদিকের তালিকা প্রতিকারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়ে এসেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেটা ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন।
সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিষয়টি প্রতিকারের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে আগেই নির্দেশ দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছে সেগুলো প্রমাণ করা কঠিন হবে। ফলে প্রকৃত ভুক্তভোগীর পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ ভুল বা কাল্পনিক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা চলায় বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।
‘স্বৈরাচারের দোসর’ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের আইনে এই নামে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের ধারা নেই এবং এটি মূলত একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে এমন একটি সময় আসবে যখন তাঁরা তাঁদের ওপর হওয়া এই অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
অদ্ভুত যত মামলা: সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে কালের কণ্ঠ অনুসন্ধানী সেল। এতে দেখা যায়, অনেক মামলাই মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের দাঁড় করানোর এক ধরনের কূটকৌশল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, হত্যার শিকার ব্যক্তির পরিবার মামলা সম্পর্কে জানেই না। তারা চেনে না বাদী কে, আসামি কে।
আমরা অনুসন্ধানের যত গভীরে যাই ততই বিস্মিত হই। কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার বুড়াবুড়ী সাতভিটা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে আশিকুর রহমান দীর্ঘদিন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছিলেন। আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে জানতে পারেন, ছাত্র পরিচয় দিলেই ফ্রিতে চিকিৎসা মেলে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চাচার কূটকৌশলে বিবাহিত-অছাত্র আশিক হয়ে যান ছাত্র। আন্দোলনের সঙ্গে লেশমাত্র সম্পর্ক নেই, অথচ বনে যান আন্দোলনকারী। বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে মৃত্যুর পর এই আশিক হয়ে যান জুলাই শহীদ। গেজেটেও ওঠে তাঁর নাম, মেলে সরকারি অর্থ সহায়তাও। আর চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা হয়, যেখানে আসামি করা হয় স্থানীয় সাংবাদিকদের।
এই মামলায় আসামি করা হয় কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আব্দুল খালেক ফারুক, নিউজ২৪ টেলিভিশনের প্রতিনিধি হুমায়ুন কবির সূর্য এবং এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের প্রতিনিধি ইউসুফ আলমগীরকে।
মামলার নথিতে দেখা যায়, এ মামলার বাদী কুড়িগ্রাম পৌর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি রুহুল আমিন। আন্দোলনে সম্পৃক্ত নেতৃস্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে অংশ নেননি। তবু কেন তিনি এ মামলার বাদী হলেন, সাংবাদিকদেরই কেন আসামি করলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আমরা যোগাযোগ করি রুহুল আমিনের সঙ্গে।
গতকাল দুপুরে সরাসরি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি আপত্তি জানান। মোবাইলে এ বিষয়ে আলাপ করতে গেলে প্রশ্ন শুনেই তিনি খেপে যান। রাগান্বিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আপনি তো স্বৈরাচারের দোসর।’
সাংবাদিকদের আসামি করা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা থাকতে আপনি কেন বাদী হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি একজন জুলাইযোদ্ধা, এটি আমার দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই আমি বাদী হয়েছি।’ এক পর্যায়ে তিনি মামলার এজাহার দেখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এজাহারে যা উল্লেখ করেছি, সেটাই সত্য। আপনার আরো কিছু জানার থাকলে কোর্টে শুনানি হবে, সেখানে আসেন, কথা হবে, দেখা হবে।’
ইত্তেফাক
‘জামায়াত-এনসিপির যাওয়া অনিশ্চিত’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১৮তম সংশোধনীর লক্ষ্যে সরকারি দল বিএনপি যে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে তাতে বিরোধী দল জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাম দেওয়া অনিশ্চিত। জামায়াত-এনসিপি সংবিধান সংশোধন নয়, সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। এ লক্ষ্যে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এখনো ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে অনড়। এই দাবিতে জোটটি রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করছে। তবে, এ নিয়ে মতবিরোধের শুরু থেকেই বিএনপি বলছে, বিদ্যমান সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের কোনো সুযোগ নেই।
সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ২৯ এপ্রিল এই ১৭ সদস্যবিশিষ্ট বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচ জনের নাম দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে, জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিনই সংসদে বলেছেন, এ কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। প্রস্তাবটি নিয়ে নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি করার বিষয়ে ১২ জনের নামের তালিকা তারা (সরকারি দল) ঠিক করেছেন। যেখানে বিএনপির সাত জন এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচ জন রাখা হয়েছে। আর বিরোধী দল থেকে পাঁচ জনের নাম দিলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যদের শতাংশ হিসেবে বিরোধী দলের ২৬ শতাংশ আসে। সেখানে তারা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচ জনের নাম চাচ্ছেন। বিরোধী দল পাঁচ জনের নাম দিলে পরদিন বৃহস্পতিবারই (৩০ এপ্রিল) কমিটি সম্পর্কিত প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপনের কথা বলেছিলেন তিনি। তবে, বিরোধী দল নাম না দেওয়ায় প্রথম অধিবেশনে এই বিশেষ কমিটি আর গঠিত হয়নি।
আইনমন্ত্রীর প্রস্তাবের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সংসদের চিফ হুইপ (নূরুল ইসলাম মনি) আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনার বিষয় আছে। এখন মত দিতে পারব না। কারণ, আমরা চেয়েছি রিফর্ম (সংস্কার), কিন্তু এখানে হচ্ছে সংশোধন। এই জায়গাটায় আগেও আমাদের মতপার্থক্য ছিল, এখনো এটা রয়েছে। প্রস্তাব ওনারা (সরকারি দল) দিয়েছেন, সেটাকে আমরা নিলাম, শুনলাম। কিন্তু পরে জানাব। এখনই কিছু বলছি না এ ব্যাপারে।’
তবে, ৩০ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর গতকাল রবিবার ১৭ দিন গেলেও এখনো নাম দেয়নি জামায়াত ও এনসিপি। বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই আগামী ৭ জুন শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন, যা বর্তমান সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, জামায়াতের পক্ষ থেকে বিশেষ কমিটিতে কোনো নাম দেওয়া হবে না। আগামী ৭ জুন সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই কমিটিতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই বিশেষ কমিটি গণভোটের রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে পারবে না। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে।
সেই অনুযায়ী জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের ৭৭ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। কিন্তু, বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করতে তৎপর ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅ-ভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকারের মাত্র দেড় বছরের শাসনকালকে বিতর্কিত করতে পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সুবিধাভোগী (বেনিফিশিয়ারি) চক্র নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গেল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই গণহত্যার দায় মাথায় নিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা পতিত আওয়ামী লীগ ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এর দায় তখনকার সরকার বিশেষ করে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ওপর চাপিয়ে বিষোদগারে মাঠে নেমেছে পতিত দলটির সমর্থিত লোকজন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে গুজব ছড়িয়ে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে একটি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতিতে দ্রুত পুনর্বাসন, অবৈধ সুবিধা ভোগ অব্যাহত রাখা এবং দুর্নীতি, লুটপাট ও জুলাই গণহত্যার বিচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য মূলত পলাতক ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় হুমড়ি খেয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলগুলো মনে করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের অনুসারীরা প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এখনো বসে আছেন, যারা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে বা ধীরগতিতে কাজ করে সরকারকে অকার্যকর করার চেষ্টা করছেন। একইসাথে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য একটি ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারকে ব্যর্থ ও বিতর্কিত প্রমাণ করতে নানা ধরনের গুজব, মব-ভিত্তিক সহিংসতা এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, যাতে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারকে কেন বিতর্কিত করতে চাইছে?
বিচার ও জবাবদিহিতা এড়ানো: বিগত ১৬ বছরের (২০০৮-২০২৪) অপশাসন, দুর্নীতি ও জুলাই গণহত্যার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সুবিধাভোগীরা অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়েছে। পতিত সরকারের সময় যারা গুম, খুন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সাথে জড়িত ছিল, ফ্যাসিবাদের সহযোগীরা মনে করে ওই অন্তর্বর্তী সরকার তাদের বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করেছে। বিশেষ করে জুলাই গণহত্যার বিচারের কাজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গত দেড় বছরে দ্রুত গতিতে এগিয়েছে। ওই বিচারে পতিত ফ্যাসিবাদ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ ফেঁসে যাচ্ছেন। যার ফলে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিতর্কিত করে তারা বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতি বা বন্ধ করতে চাইছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
রাজনৈতিক পুনর্বাসন: ফ্যাসিবাদের দোসররা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন দেশের সাথে বিশেষ করে চীন, আমেরিকা ও পাকিস্তানের সাথে করা চুক্তি বা সমঝোতাগুলোকে ব্যর্থ হিসেবে তুলে ধরে বর্তমান সরকারের সহানুভূতি অর্জন করতে চাইছে। এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের দোসররা নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং নতুন করে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।
প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা: ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো ঘাপটি মেরে আছে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে জনপ্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন স্তরে বসে থাকা সুবিধাভোগীরা অসহযোগিতামূলক মনোভাব ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পতিত সরকারের সুবিধাভোগীরা বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নেয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিষোদগার করছে এবং এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারের আস্থাভাজন হয়ে ভেতরে ভেতরে শক্তি যুগিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোকে অস্থিতিশীল রেখে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চেষ্টা করছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
বণিক বার্তা​
‘সাবেক চার ব্যাংক এমডি জেলে, আতঙ্কে অনেকেই’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, একসময় রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের দাপুটে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ।
২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে টানা ছয় বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়েরকৃত মামলায় বর্তমানে তিনি কারাগারে। চলতি বছরের মার্চে আদালতে জামিন চাইতে গেলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে এননটেক্স গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আব্দুছ ছালাম আজাদের মতোই কারাগারে রয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদ। গত বছরের ১৯ নভেম্বর দুদকের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ১৮৯ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির একটি মামলায়। এ ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল এক যুগেরও বেশি সময় আগে, যখন ওবায়েদ উল্লাহ মাসুদ অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ছিলেন।
প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে আছেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি মনিরুল মওলা। আর এক্সিম ব্যাংকের সাবেক এমডি ফিরোজ হোসেন কারাগারে আছেন ছয় মাসের বেশি সময় ধরে। তারা উভয়েই গ্রেফতার হয়েছেন দুদকের মামলায়। এর মধ্যে মনিরুল মওলা গ্রেফতার হয়েছেন ২০২৫ সালের ২২ জুন। তার বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাতে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আর ফিরোজ হোসেন গ্রেফতার হন গত বছরের ৫ নভেম্বর। এক্সিম ব্যাংক থেকে ৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন, আত্মসাৎ ও পাচারে সহযোগিতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কারাদণ্ডের ঘটনা অনেক দেশেই দেখা যায়। বিশ্বব্যাপী ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পেছনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অনেক ব্যাংকারের ভূমিকার কথা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের গবেষণায় উঠে আসে। দেখা গেছে, সে সময় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক সংকটের পেছনে দায় ছিল এমন ৪৭ ব্যাংকারকে বিভিন্ন সময়ে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ব্যাংকাররা অর্থনৈতিক সংকটে ভূমিকা রাখা কিংবা তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনিয়মের মাধ্যমে ধ্বংস করার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় শাস্তি পেয়েছেন।
কারাদণ্ড পাওয়া ব্যাংকারদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি আইসল্যান্ডে। এ দেশের ২৫ শীর্ষ ব্যাংকার কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। স্পেনে ২০১২ সালে ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ে যুক্ত ১১ ব্যাংকারকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নামটি রদ্রিগো রাতো। এই রাতো আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক প্রধান। তিনি স্প্যানিশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাঙ্কিয়ার চেয়ারম্যান থাকাকালেই সেটি বিপর্যয়ে পড়েছিল। আয়ারল্যান্ডে সাজা পেয়েছেন সাত ব্যাংকার।
২০০৮-এর অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম উৎসস্থল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ বিপর্যয়ে যুক্ত থাকার অভিযোগে একজন ব্যাংকারকে কারাদণ্ড দিয়েছে। ক্রেডিট সুইসের প্রাক্তন ট্রেডার করিম সেরাগেলদিনকে সাবপ্রাইম মর্টগেজের মূল্য কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর জন্য ৩০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ আর্থিক পণ্যটিই ছিল ওয়াল স্ট্রিটের পতনের মূল কারণ।
এদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় কারাদণ্ড পেয়েছেন এক ব্যাংকার। সিটিব্যাংক সিঙ্গাপুরের সাবেক রিলেশন ম্যানেজার ওয়াং কিমিংকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ওয়াং কিমিংকে এ সাজা দেন আদালত।
দেশে কারাগারে থাকা শীর্ষ নির্বাহীদের বাইরে আরো ডজন খানেক ব্যাংক এমডির বিরুদ্ধে এরই মধ্যে দুদক মামলা করেছে। আর অভিযোগ অনুসন্ধান ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে আরো ১০-১২টি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর বিরুদ্ধে। এমডিরা ছাড়াও প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বহু কর্মকর্তাকে। এর মধ্যে এএমডি, ডিএমডি, বিভাগীয় প্রধান, শাখাপ্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন। গ্রেফতার ও শাস্তি এড়াতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের এমডি-ডিএমডিরা বিদেশে পালিয়েছেন। চাকরিচ্যুত হয়েছেন এমন এমডিরা দেশে থাকলেও লোকচক্ষুর অন্তরালেই দিন কাটাচ্ছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে যারা এখনো কর্মরত, তাদের দিন কাটছে আতঙ্কে।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘বিলুপ্ত নয়, আরও সক্রিয় করা হচ্ছে র‍্যাবকে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের করা গুম কমিশনও র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান বিএনপি সরকার র‍্যাবকে বিলুপ্ত নয়, বরং সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় বাহিনীটিকে আরও সক্রিয়, জবাবদিহিমূলক ও কাঠামোগতভাবে পুনর্গঠন করে অপরাধ দমনে কাজে লাগাতে চায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রে এসব জানা গেছে। সূত্র বলছে, এলিট ফোর্স র‍্যাবকে শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যে নানান উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
র‍্যাবের জন্য নতুন সরঞ্জাম কিনতে বরাদ্দ, আলাদা প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনায় রয়েছে। র‍্যাবের জন্য প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৩টি গাড়ি কেনারও অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
একই সঙ্গে র‍্যাবের অপারেশনাল কার্যক্রমে নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আলাদা আইনের খসড়া করা হয়েছে। সরকার চায়, একটি সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় র‍্যাব পরিচালিত হবে।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন রয়েছে। এত দিন র‍্যাবের কোনো স্বতন্ত্র আইন ছিল না। যেমন ইচ্ছা তেমন চলেছে। এখন আমরা র‍্যাবকে আইনের আওতায় আনতে চাই। এ বিষয়ে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে।’
বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ আটটি বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। সংঘবদ্ধ অপরাধ ও জঙ্গিবাদ দমনে দ্রুত অভিযানের কারণে শুরুতে র‍্যাব প্রশংসিত হয়। বর্তমানে সারা দেশে র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে প্রতিষ্ঠার কয়েক বছর পর ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে র‍্যাবের বিরুদ্ধে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো বাহিনীটির কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ জানাতে থাকে। বিশেষ করে ২০১১-২০১৬ সালের মধ্যে কয়েকটি আলোচিত গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে র‍্যাব তীব্র সমালোচিত হয়।
পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনেও ধারাবাহিকভাবে বাহিনীটির বিরুদ্ধে উদ্বেগ জানানো হয়। সবশেষ ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব ও এর কয়েকজন সাবেক ও তৎকালীন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছিল, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনে র‍্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে র‍্যাব বিলুপ্তির আলোচনা আরও জোরালো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি তুলেছিল নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুম কমিশন র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে র‍্যাবের দৃশ্যমান অভিযান কমিয়ে পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সঙ্গে যৌথ অভিযান বাড়ানো হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপির সরকার। সূত্র বলেছে, বর্তমান সরকার র‍্যাবকে আরও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।
দেশ রূপান্তর
‘ভূ-রাজনীতির চক্করে বাংলাদেশ’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ভূ-রাজনীতির চক্করে পড়েছে বাংলাদেশ। এক দেশকে ব্লক ইজারা দিলে অন্য দেশ বাংলাদেশ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে সরকারকে এমন বিবেচনা করতে হয়। এতে করে বছরের পর বছর বাংলাদেশের গভীর এবং অগভীর সমুদ্র তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের স্থলভাগে নতুন গ্যাসের মজুদ পাওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। অন্যদিকে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে গত ২৩ বছরের প্রচেষ্টায় খুব একটা সাফল্য দেখা যায়নি। বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্র এলাকার নিকটবর্তী মিয়ানমার এবং ভারত তাদের সমুদ্রসীমা থেকে গ্যাস তুলছে। কিন্তু এর বিপরীত চিত্র বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। প্রতিদিন অন্তত ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট আমদানি করা গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে। চলতি বছর বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় করতে হবে ৫৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বিপুল এই ব্যয়ে দেশের অর্থনীতি চাপে পড়ছে। ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানির এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেলে অর্থনৈতিক দুর্দশা ঘোচানো কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অতি সম্প্রতি সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) অনুমোদন করেছে। নতুন পিএসসির আলোকে শিগগিরই সরকার সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করতে যাচ্ছে। তবে এ ধরনের দরপত্র বাংলাদেশে নতুন নয়। দফায় দফায় দরপত্র আহ্বান করেও সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে খুব বেশি সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দরপত্রের বাইরে গিয়ে যারা তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করতে এসেছে তাদেরও বাংলাদেশ কাজ দিতে পারেনি।
পিএসসি অনুমোদনের পর বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহ্বান করবে বাংলাদেশ।
পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, নতুন অনুমোদন পাওয়া পিএসসির শর্তে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানির (আইওসি) মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর আগে যেসব কাজ করা হয়েছে সেখানে সরকার নিজেদের ইচ্ছার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের পিএসসির বিভিন্ন শর্তকে প্রাধান্য দিয়েছে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, ‘আমি নির্বিঘেœ ক্ষমতায় থাকতে পারি যদি তাদের সেন্টমার্টিন দিয়ে দিই।’
বঙ্গোপসাগর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা বরাবর চোখে পড়ার মতো। সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কোম্পানি এক্সন মবিল বাংলাদেশে গভীর সমুদ্রে ১৫টি ব্লক ইজারা চেয়ে সরকারকে চিঠি দেয়। সাবেক সরকার এক্সন মবিলকে কাজ না দেওয়ার জন্য নীতিগতভাবে সম্মতি নিয়ে লোক দেখানো একটি যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করে।
জ্বালানি বিভাগের সাবেক একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান, ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে এক বৈঠকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করছে। এই ব্লকগুলো ইজারা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের আগেই ভারত এবং চীন আমাকে ফেলে দেবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন