সিলেটে গতকাল বোলারদের পর ব্যাটারদের নৈপুণ্যে সুবিধাজনক অবস্থায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের অনবদ্য সেঞ্চুরির সুবাদে পাওয়া লড়াকু পুঁজির পর নিজেদের কাজটা দারুণভাবে করেছেন বোলাররা। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলামদের বোলিংয়ে সফরকারী পাকিস্তান ২৩২ রানে গুটিয়ে যায়। ৪৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দিন শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১০ রান তুলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সবমিলিয়ে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৬ রানে।
দিনের শেষ বলে মুমিনুল হকের বিদায়টা কিছুটা আক্ষেপ জাগালেও পুরোদিনের নিয়ন্ত্রণ ছিল টাইগারদের হাতেই। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়ের দারুণ অর্ধশতক দলের ভিত মজবুত করেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা জয় এদিন খেলেন ৫২ রানের ঝলমলে ইনিংস। বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে দ্রুত গুটিয়ে দেয়ার পর সাবলীল ব্যাটিং স্বাগতিকদের বড় স্বপ্নের পথে রাখছে। তবে শেষ বিকালে খুররাম শাহজাদের বলে অহেতুক শট খেলে মুমিনুলের সাজঘরে ফেরাটা দলের জন্য কিছুটা অস্বস্তির। শান্তর কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করে প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ার। আজ সকালে বড় সংগ্রহের লক্ষ্যে মাঠে নামবে টাইগাররা।
আগের দিন ব্যাটারদের ব্যর্থতায় টাইগার বোলারদের সামনে ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, হতাশ করেননি তারা। দ্বিতীয় দিন বিনা উইকেটে ২১ রান নিয়ে গতকাল সকালে খেলতে নামা পাকিস্তান শুরুতেই ধাক্কা খায়। তাসকিনের দুর্দান্ত সুইংয়ে পরাস্ত হন আবদুল্লাহ ফাজাল ও আজান আওয়াইজ। এরপর ঘূর্ণি জাদুতে শান মাসুদ ও সাউদ শাকিলকে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে দিশাহারা সফরকারীদের খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন বাবর আজম। সালমান আলি আগাকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তিনি। তবে নাহিদের দারুণ এক স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ৬৮ রানে থামেন বাবর। তার বিদায়ে স্বস্তি ফেরে টাইগার শিবিরে। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তাইজুল। শেষ দিকে সাজিদ খান ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেও তা লিড নেয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। নাহিদ ও তাইজুল তিনটি করে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। মিরাজ ও তাসকিন নেন দুটি করে উইকেট। সবমিলিয়ে বোলারদের আগ্রাসী মনোভাব এবং নিখুঁত লাইন লেন্থ ম্যাচের লাগাম স্বাগতিকদের হাতেই রেখেছিল প্রথম দুই সেশনে।
৪৬ রানের লিড মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান মাত্র চার রান করেই খুররামের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে সেই ধাক্কা সামলে দারুণ এক জুটি গড়েন জয় ও মুমিনুল। বিশেষ করে জয় ছিলেন অত্যন্ত সাবলীল। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলে এই ইনিংসে তিনি খেলেছেন দারুণ সব শট। অফ স্টাম্পের বাইরের বলগুলোকে অনায়াসে বাউন্ডারি ছাড়া করেছেন তিনি। মাত্র ৫৮ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই তরুণ ব্যাটার। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ফ্লিক করে বাউন্ডারি মেরে মাইলফলক স্পর্শ করেন জয়।
শেষ পর্যন্ত ১০টি চারের সাহায্যে ৫২ রান করে আব্বাসের বলেই ডিপ স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন তিনি। এর আগে অবশ্য মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে ৭৬ রানের মূল্যবান জুটি উপহার দেন জয়। তাদের এই যুগলবন্দিতেই মূলত লিড ১০০ পার হয়। তার এই আগ্রাসী ব্যাটিং প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর ভীষণ চাপ তৈরি করে। দিনের শেষ বেলায় যখন মনে হচ্ছিল আর কোনো বিপদ ছাড়াই দিন পার করবে বাংলাদেশ, ঠিক তখনই উইকেট বিলিয়ে আসেন মুমিনুল। অফ স্টাম্পের বাইরের বলটি অনায়াসেই ছাড়তে পারতেন মুমিনুল। কিন্তু অকারণে শট খেলতে গিয়ে ৩০ রানে উইকেট বিলিয়ে দেন তিনি। তার বিদায়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ১৩ রান করা শান্ত।
