তাইওয়ান নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার বরাতে রোববার (১৭ মে) সংবাদ মাধ্যমটি এই খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপদেষ্টারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, চীনা প্রসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের সবচেয়ে বড় বাস্তব ফল এটি হতে পারে যে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তাইওয়ানে চীনের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
উপদেষ্টাদের শঙ্কা, এতে যুক্তরাষ্ট্রের এআই খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিপ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাদের মতে, বেইজিং সফরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও শি’র দেয়া বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্বে ট্রাম্প সন্তুষ্ট ছিলেন। তবে পর্দার আড়ালে বার্তাটি ছিল অনেক কঠোর।
এক উপদেষ্টা অ্যাক্সিওসকে বলেন, শি মূলত এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন চীন আর উদীয়মান শক্তি নয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। এবং তাইওয়ান চীনেরই অংশ।
ওই উপদেষ্টা আরও বলেন, এই সফরের পর তাইওয়ান ইস্যু আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই বড় সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসার আশঙ্কা বেড়েছে।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখনো অর্থনৈতিকভাবে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে এআই শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বয়ংসম্পূর্ণতা থেকে অনেক দূরে রয়েছে দেশটি।
তবে শি’র সঙ্গে শীর্ষ সম্মেলনের পর কয়েকজন মার্কিন কর্পোরেট প্রধান ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, ইরান ও ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেয়া এবং বাজার উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় ট্রাম্প ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন।
এ ছাড়া কিছু সিইও আশা করছেন, তাদের কোম্পানি চীনে ব্যবসার লাইসেন্স পেতে পারে।
গত শুক্রবার চীন সফর শেষে দেশে ফিরেন ট্রাম্প। শি’র সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানকে চীনের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
শুক্রবার ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, কাউকে স্বাধীন করে দেয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।
চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দখল নেয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি।
