ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছে ফুটবল বিশ্বে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো খেলা নিয়ে যে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে সরাসরি আলোচনায় বসে ফিফা এবং ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই)। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক’ বলে আখ্যা দিয়েছে দু’পক্ষই।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শনিবার ফিফা মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘ইরান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আমাদের একটি চমৎকার ও গঠনমূলক বৈঠক হয়েছে। আমরা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করছি এবং ফিফা বিশ্বকাপে তাদের স্বাগত জানাতে আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ কারণেই মূলত আগামী ১১ই জুন থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। সূচি অনুযায়ী, ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রে।
ইরানি শিবিরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয় চলতি মাসে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসের আগে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এফএফআইআরআই সভাপতি মেহেদি তাজকে ফিরে আসতে হয়। ভিসা থাকা সত্ত্বেও টরন্টো বিমানবন্দরে কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের ‘অগ্রহণযোগ্য আচরণের’ শিকার হয়ে ফিফা কংগ্রেসে অংশ না নিয়েই সবাইকে নিয়ে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হন তিনি।
ইস্তাম্বুলের বৈঠকে ইরানি খেলোয়াড়দের ভিসা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা নিয়ে ফিফা কোনো লিখিত গ্যারান্টি পেয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি গ্রাফস্ট্রোম। তিনি শুধু বলেন, ‘আমরা সব প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে এই মুহূর্তে বিস্তারিত প্রকাশ করার উপযুক্ত জায়গা এটি নয়। সামগ্রিকভাবে বৈঠকটি খুব ইতিবাচক ছিল এবং আমরা এই সংলাপ জারি রাখব।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে কানাডা সরকার ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি)-কে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ধারণা করা হচ্ছে, আইআরজিসির সাথে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতেই মেহেদি তাজকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
বৈঠক শেষে মেহেদি তাজও বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেন। ফিফা কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, তারা ইরানের উত্থাপিত ১০টি পয়েন্টেরই প্রতিটি মন দিয়ে শুনেছেন এবং প্রতিটির জন্য কার্যকর সমাধান উঁকি দিয়েছেন। আল্লাহর রহমতে, আমাদের জাতীয় দল কোনো প্রকার ঝামেলার মুখোমুখি না হয়েই বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবে এবং সেখানে দারুণ ফলাফল বয়ে আনবে।’
এর আগে রাজনৈতিক বৈরিতা এড়াতে ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানায়। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে সাফ জানিয়ে দেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি এবং মাঠেই সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
সব বিতর্ক ও সংশয় একপাশে রেখে মাঠের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ইরান দল। আগামীকাল তেহরান ছেড়ে তুরস্কের উদ্দেশ্যে বিশেষ অনুশীলন ক্যাম্পের লক্ষ্যে রওনা হবে তারা। এরপর জুনের শুরুতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুসন শহরের ‘কিনো স্পোর্টস কমপ্লেক্স বে’ ক্যাম্পে তাদের তাবু টানাবে।
আগামী ১৫ই জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এবং মিশর।
