সিলেট টেস্টে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কায় কাঁপছিল বাংলাদেশ। মাত্র ১১৬ রানেই নেই ৬ উইকেট! সেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে রূপকথার এক ইনিংস খেললেন লিটন দাস। বুক চিতিয়ে লড়াই করে তুলে নিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরি। চাপের মুখে খেললেন ১৫৯ বলে ১২৬ রানের এক ‘মাস্টারক্লাস’ ইনিংস। তার ব্যাটিংয়ে ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। তবে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ইনিংসে দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এই ম্যাচে টেস্ট অভিষেক হওয়া তানজিদ হাসান তামিম ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি মুমিনুল হক (২২) ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯)। লাঞ্চের পর টাইগার ব্যাটাররা দ্রুত হারাতে থাকেন। ২৩ রান করে খুররম শেহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীম। মেহেদী হাসান মিরাজও (৪) দ্রুত বিদায় নিলে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে কাঁপতে থাকে বাংলাদেশ। এরপরই শুরু হয় ‘লিটন শো’। খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলতে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
সপ্তম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে (১৬) সঙ্গে নিয়ে যোগ করেন মূল্যবান ৬০ রান। তাইজুল ও তাসকিন (৭) বিদায় নিলেও দমে যাননি লিটন। নবম উইকেটে শরীফুল ইসলামকে নিয়ে গড়েন আরও এক লড়াকু জুটি। এরই মাঝে ১৩৫ বলে ১৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন। শেষ পর্যন্ত হাসান আলীর বলে আউট হওয়ার আগে ১২৬ রানের দারুণ এক ইনিংস উপহার দেন তিনি। লিটন আউট হওয়ার ৩ বল পর শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নাহিদ রানাও (০) বিদায় নিলে ৭৭ ওভারে ২৭৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। শরীফুল ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।
পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন খুররম শেহজাদ, তিনি নেন ১৪ রানে ৪ উইকেট। এছাড়া মেহাম্মদ আব্বাস ৩টি ও হাসান আলী ২টি উইকেট শিকার করেন। ম্যাচের অষ্টম ওভারে ক্যাচ লুফতে গিয়ে মাথায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া পেসার হাসান আলী অবশ্য পরে স্ক্যান শেষে মাঠে ফিরে বোলিং করেছেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৭৮/১০ (৭৭ ওভার); লিটন ১২৬, শান্ত ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২, তাইজুল ১৬, শরীফুল ১২*; খুররম ৪/১৪, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান আলী ২/৪৯।
