আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বড় সাফল্য চায় বিএনপি’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসা বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাফল্য পেতে চায়। সে জন্য দল শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ পেয়ে তাঁরা সরবও হয়েছেন। বিএনপির নেতাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনের দাবি তুলেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কিছু জায়গায় দলীয় প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর আভাস পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনেরও (ইসি) স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি রয়েছে। সরকারের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত পেলে ইসি তফসিল ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
বিএনপির একটি সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের ঘোষণা পাওয়া না গেলেও চলতি বছরের শেষের দিকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিএনপি পরীক্ষা হিসেবে নিয়ে সংসদ নির্বাচনের মতো বড় সাফল্য পেতে চায়। তবে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে এই নির্বাচনের ধরনগত পার্থক্য থাকায় বড় সাফল্যের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ, এখানে স্থানীয় অনেক বিষয়ও প্রভাব রাখে। তাই বড় সাফল্যের জন্য আগেভাগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে এরই মধ্যে নির্দেশ গেছে। নির্দেশমতো দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সরব হয়েছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেছেন। নিজ এলাকায় বিভিন্ন উপলক্ষ ঘিরে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার টানাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও ব্যবহার করছেন তাঁরা।
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে দলের প্রস্তুতি আছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার পর পূর্ণ শক্তি নিয়ে নেতা-কর্মীরা ভোটের মাঠে নামবেন। সরকারের অর্জনগুলো জনমনে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে দাবি করে নির্বাচনে দলীয় নেতাদের জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদ জানান তিনি।
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে না পারলে জাতীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা কমতে পারে। এ কারণে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দল ও সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় নির্বাচনের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কার্যকর কৌশল নিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং সরকারবিরোধী জনমত বড় ভূমিকা রাখলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রাধান্য পায় ব্যক্তির জনপ্রিয়তা, আঞ্চলিক সমীকরণ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা। এবার স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। ফলে ভোটে এসব বিষয় প্রাধান্য পাবে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এই নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও নীতিনির্ধারকদের ভাবাচ্ছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধশতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ কারণে বিএনপি বেশ কিছু আসনে পরাজিত হয়েছে। সরকার গঠনের পরও বিভিন্ন স্থানে নানা কারণে কোন্দল রয়েছে; যা স্থানীয় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ জন্য দলের স্বার্থে কোন্দল ভুলে নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
অবশ্য বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। তাঁরা বলছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর গত তিন মাসে জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী নতুন নতুন ধারা সৃষ্টি করছেন। তিনি যে বাংলাদেশ গড়তে যাচ্ছেন, দলের নেতা-কর্মীরাও সেই পথেই এগোচ্ছেন। জনগণ বিএনপির পাশে আছে এবং স্থানীয় নির্বাচনেও জনগণ বিএনপিকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে।
বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিপক্ষ থাকবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবেই। প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই আমরা কাজ করতে চাই। কারণ, তৃণমূলের ভোট। দলীয় প্রতীক নেই। তবে আমরা বিশ্বাস করি, জনগণ আমাদের সঙ্গে থাকবে।’
ঢাকা মহানগর শাখাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে
দলের জাতীয় কাউন্সিল ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ঘর গোছানোর অংশ হিসেবে এবার ঢাকা মহানগরকে ঢেলে সাজাচ্ছে বিএনপি। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে বেশ কিছু নতুন মুখও দেখা যেতে পারে। সব ঠিক থাকলে পবিত্র ঈদুল আজহার পরেই এই উদ্যোগের প্রতিফলন দৃশ্যমান হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটির মেয়াদ শেষ না হলেও সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের দুজন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া একজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। মহানগর কমিটির তিনজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগেই ঢাকার দুই মহানগরের সাংগঠনিক শক্তি জোরদার করতে চায় বিএনপি। ৯ মে কেন্দ্রীয় বিএনপিসহ সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির চেয়ারম্যানও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার তাগিদ দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর কমিটিতে যুক্ত হতে আগ্রহীরা জোর লবিং ও তদবির শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
প্রথম আলো
‘ঢাকার শিশুরা দিনে ৫ ঘণ্টা থাকে ডিজিটাল স্ক্রিনে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মোবাইল ফোন, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার স্ক্রিনে শিশুরা বেশি সময় দিচ্ছে। এ নিয়ে মা–বাবা বা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি শুধু তাঁর সন্তানের সমস্যা। বাস্তবে এই সমস্যা ঘরে ঘরে। শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার স্কুলপড়ুয়া শিশুদের একটি বড় অংশ মোবাইল ফোন, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের স্ক্রিনে বা পর্দায় চোখ রেখে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা কাটায়। এর ফলে তাদের ঘুম কমে যাচ্ছে, ওজন বাড়ছে, মাথাব্যথা ও চোখের সমস্যা হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
দুই বছর ধরে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৪২০ জন শিশুর ওপর এই গবেষণা করা হয়। গবেষণার ফলাফল ৪ মে জার্নাল অব মেডিক্যাল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ প্রকাশিত হয়েছে।
আইসিডিডিআরবির পাঁচজন এবং ঢাকার টেলি সাইকিয়াট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন নেটওয়ার্কের একজন গবেষক এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন।
এই গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআরবির সহকারী বিজ্ঞানী শাহরিয়া হাফিজ কাকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা বা চোখের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজ বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, বাইরের খেলাধুলার প্রতি অনীহা অথবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোকে মা–বাবার উপেক্ষা করা উচিত নয়।’
গবেষণা প্রবন্ধের শুরুতে বলা হয়েছে, ডিজিটাল ডিভাইস পর্যাপ্ত ও সহজপ্রাপ্য হওয়ার কারণে তা বিশ্বব্যাপী শিশুদের জীবনচর্চার অংশ হয়ে উঠেছে। তারা স্ক্রিনে বেশি সময় কাটাচ্ছে। অর্থাৎ মোবাইল ফোন, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার দেখতে বেশি সময় ব্যয় করছে। শিক্ষা ও বিনোদনের জন্য এমন ডিজিটাল পর্দায় চোখ রাখা যেতে পারে, তা ক্ষতির কিছু নয়। কিন্তু অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুজন শিশু দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যার মতো এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। গবেষণায় আরও বলা হয়, এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের, বিশেষ করে স্কুলের শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং ভালো থাকার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রাথমিক উদ্বেগের কারণ হচ্ছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনকে উৎসাহিত করে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চাইল্ড, অ্যাডোলেসেন্ট অ্যান্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ শিবলি সাদিক প্রথম আলোকে বলেন, সমস্যাটা বৈশ্বিক। তবে বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই গবেষণার ফলাফল বৈশ্বিক গবেষণা ফলাফলের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের ১ থেকে ২ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম হওয়া উচিত নয়। এর জন্য করণীয় ঠিক করা জরুরি।
দুই বছর ধরে গবেষণা
২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ছয়টি স্কুলের ৪২০ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণা করা হয়। তিনটি স্কুল ছিল ইংরেজি মাধ্যমের, বাকি তিনটি বাংলা মাধ্যমের। প্রতিটি স্কুল থেকে ৭০ জন করে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল ৬ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এরা ছিল দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিটি শ্রেণি থেকে ১০ জন করে শিক্ষার্থী নেওয়া হয়। তবে বিষণ্নতায় ভুগছে, উদ্বেগ আছে এমন মানসিক সমস্যা থাকা শিক্ষার্থীদের এই গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
স্কুলে দুজন প্রশিক্ষিত গবেষণা সহকারী এবং একজন গবেষণা পরিদর্শক শিক্ষার্থীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
গবেষকেরা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে, তাদের শারীরিক পরীক্ষা করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কিছু সহজ প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে দেখেছেন তারা কত সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, তারা ঠিকমতো ঘুমায় কি না, তাদের ওজন স্বাভাবিক কি না এবং তাদের আচরণ বা মানসিক স্বাস্থ্যে কোনো সমস্যা আছে কি না।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘লুটপাটের প্রভাব চামড়া’। খবরে বলা হয়, হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তর প্রকল্পে বড় ধরনের লুটপাট হয়েছে। প্রকল্পটির ধাপে ধাপে এরকম অনিয়ম-দুর্নীতির ক্ষতচিহ্ন এখন স্পষ্ট। যুগান্তরের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন ট্যানারি মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দা।
তারা বলেন, বুড়িগঙ্গাকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে সরকার ট্যানারিশিল্পকে সাভারে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নেয়। পরিবেশসম্মত আধুনিক ট্যানারি স্থাপনে ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকার বড় প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু প্রকল্পটির কাল হয়ে দাঁড়ায় ধীরগতি ও দুর্নীতি। ২০০৩ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি জোড়াতালি দিয়ে শেষ হয় ২০২১ সালে। এ দীর্ঘ ১৯ বছরে প্রকল্পের পিডি বা প্রকল্প পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ১৮ জন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে। প্রত্যেকে লুটপাটে ভাগ বসিয়েছে। এ কারণে ট্যানারিশিল্পটি দুর্নীতি ও দূষণের কবলে আক্রান্ত। বুড়িগঙ্গার পর এখন ধলেশ্বরীও দূষণে ধ্বংস হচ্ছে।
এদিকে ট্যানারিশিল্পের লুটপাটের প্রভাব পড়েছে চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে। শতভাগ কমপ্লায়েন্স না হওয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক লেদার ওয়ার্কি গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ আনতে ব্যর্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ট্যানারিশিল্প টিকে থাকতে পারছে না।
কারখানার মালিকরা বলেছেন, বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি ক্ষুদ্র শিল্পের নকশায় স্থাপিত হয়, তাহলে সরঞ্জামের জন্য বরাদ্দ অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হবেই। এত বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিসিকের পরিকল্পনা দিয়ে চলতে পারে না। নিয়ন্ত্রণই হয়েছে ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প দিয়ে। সুফল আসবে কীভাবে? বিসিক ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প নিয়ে কাজ করে। কিন্তু চামড়াশিল্প কখনোই ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের আওতায় পড়ে না। আমাদের একেকটি যন্ত্রাংশের দামই ২ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকার বেশি। চামড়াশিল্পের একটি কারখানা স্থাপন করতে হলে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। এটি কোনোভাবেই ক্ষুদ্র শিল্প নয়। চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে হলে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাভারের চামড়া-শিল্পনগরীতে দৈনিক ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য নির্গত হয়। কিন্তু বর্জ্য পরিশোধনাগারে যে ধরনের সিইটিপি স্থাপন করা হয়েছে, সেটির সক্ষমতা ২৫ হাজার ঘনমিটার-তাও ঠিকমতো কাজ করে না। কারখানার বর্জ্য শোধনাগারে (সিইটিপি প্ল্যান্ট) নিতে পাইপ দেওয়ার কথা ৩০ ইঞ্চি, সেখানে স্থাপন করা হয়েছে ১৮ ইঞ্চি। যে কারণে বিষাক্ত বর্জ্যরে অধিকাংশই চলে যাচ্ছে নদীতে।
৩টি ক্রোমিয়াম (একধরনের রাসায়নিক) শোধনাগার থাকলেও যে সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে, এর একটিও কাজ করে না। অর্থাৎ প্রতিদিন ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে ধলেশ্বরী নদীতে ফেলা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এমন নদীদূষণ হলেও পরিবেশ নিয়ে কারও যেন মাথাব্যথা নেই। এভাবে চোখের সামনে বুড়িগঙ্গার পর ধলেশ্বরী নদীও দূষিত করে তোলা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এসব আধুনিক সরঞ্জাম স্থাপনে ৫০০ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। বাস্তবে নিুমানের সরঞ্জাম বসিয়ে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘নিত্যপণ্যে দ্বিগুণ কর!’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট তৈরি করছে সরকার। সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে হিমশিম খাচ্ছে; আয় না বাড়লেও তারা প্রতিনিয়ত জীবনযাত্রার অতিরিক্ত খরচে রীতিমতো সংগ্রামে লিপ্ত।
ঠিক সেই মুহূর্তে, অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাবের মধ্যেও সরকার বড় বাজেটে বেশি কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে। এটি করতে গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর ধান, চাল, গম, ডাল, আলু. পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য, অন্যান্য নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্র, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল চালানো, মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ আরো অসংখ্য খাতে বাড়তি কর বসানোর প্রস্তাব তৈরি করেছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে নতুন অর্থবছরে মানুষের দিনযাপন আরো কঠিন হবে। খরচের ফর্দ লম্বা হবে।
ভোক্তারা আরো বেশি চাপে পড়বে বলে ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরো জানা গেছে, বাজেটের কাজ প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে। এখন চলছে কাটাছেঁড়া। বড় বাজেট বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নিতে হয়েছে সরকারকে।
তাই এবার করের খাত ও হার বাড়াতে হচ্ছে। তবে এমন সব খাতে করের খড়্গ পড়তে যাচ্ছে, যার ফলে সরাসরি তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
এমনিতেই বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে সীমিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরো বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশ।
এর আগে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১ শতাংশ। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাজেটের দিকনির্দেশনা দিয়ে দিনভর বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে বেশ কিছু বিষয় আবারও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বৈঠক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জানা যায়, আসছে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলেও ঠিকই করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার আয়োজন করেছে এনবিআর। আর তা করতে গিয়ে নিত্যপণ্যেই বসানো হচ্ছে বাড়তি কর। বাজেটে নিত্যপণ্যের স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উৎস কর বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভুট্টা, আটা, মোটা আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, কালো গোলমরিচ, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, ক্যাসিয়া পাতা, কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের ওপর উৎস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হচ্ছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘কৃষকের ক্ষতির পেছনে বিএডিসির বীজও’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ক্ষেতে দুই রকমের ধান। কোনোটি পাকা, কোনোটি কাঁচা। কোনো গাছে শীষই বের হয়নি। ফলে অন্য বছরের তুলনায় ধান কাটতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয় কৃষককে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টি ও উজানের পানি ঢুকে পড়ে হাওরে। ডুবে যায় ধানক্ষেত। এই দুইয়ে মিলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে কৃষক।
গত সপ্তাহে এ প্রতিবেদক সরেজমিন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ও ইটনা, সমকালের স্থানীয় প্রতিনিধিরা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর ঘুরে কৃষি কর্মকর্তা, বীজ পরিবেশক ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পান। ধানের বীজ সরবরাহ করেছিল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।
এ তথ্যের সূত্র ধরে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিএডিসির সরবরাহ করা ব্রি-৮৮ এর বীজের সঙ্গে ব্রি-৯২ জাতের ধানের মিশ্রণ ঘটেছে। আর এটা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গায় বিএডিসির বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে।
বিএডিসির মহাব্যবস্থাপকের (বীজ) দপ্তরের গবেষণা সেলের যুগ্ম পরিচালক ড. মো. নাজমুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'অভিযোগ পাওয়ার পর আমরাও মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করেছি। আমরা বীজের মিশ্রণের উৎস খুঁজে পেয়েছি। মূলত চুয়াডাঙ্গা বিএডিসি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে দুটি বীজের মিশ্রণ হয়েছে। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের জড়িত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকেই শাস্তির আওতায় আসবেন।'
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ব্রি-৮৮ ধান পাকতে সময় লাগে ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন। আর ব্রি-৯২ পাকতে সময় লাগে ১৫০ থেকে ১৫৬ দিন। হাওর অঞ্চলে কৃষক যাতে তুলনামূলক আগে ফসল তুলতে পারেন, সে জন্য ব্রি-৮৮ লাগানো হয়। কারণ সেখানে এক সপ্তাহ-দশ দিনের ব্যবধানে ফসলডুবির মতো বড় বিপর্যয় অতীতে ঘটেছে। এবারও এক সপ্তাহ সময় পেলে কৃষক নিরাপদে ধান ঘরে তুলতে পারত। কিন্তু ক্ষেতে একই সঙ্গে ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯২ জাতের ধান থাকায় কিছু ধান আগে পেকেছে। বাকি ধান পাকার অপেক্ষায় থেকে কৃষক সর্বস্বান্ত। একই প্যাকেটে দুই জাতের বীজ থাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
বিএডিসির সূত্র জানায়, অন্তত ১০০ টন বা এক লাখ কেজি বীজে এমন মিশ্রণের ঘটনা ঘটেছে। তবে দীর্ঘ অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে মিশ্রণ না ঘটা ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকা ধান ঝরে পড়েছে, ডুবেছে কাঁচা ধান
হাওরের কৃষকরা জানেন, যে কোনো সময় পাহাড়ি ঢল নেমে আসতে পারে। কিন্তু এবার সব ধান একসঙ্গে না পাকায় তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। পাকা ধান কাটলে কাঁচা অংশ নষ্ট হতো। আবার কাঁচা ধান পাকার অপেক্ষা করতে গিয়ে পাকা ধান ঝরে গেছে।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার মেউহারি গ্রামের কৃষক ননীগোপাল চন্দ্র সরকার বলেন, 'আমরা ভাবছিলাম, আর দুই-তিন দিন অপেক্ষা করি। তার পর সব একসঙ্গ কাটব। কিন্তু সেই সুযোগ আর পাই নাই। এক রাতে পানি এসে সব তলিয়ে দিল।'
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মপাশা ও মধ্যনগরে এবার প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-৮৮ ধানের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি ধান-৯২ এর মিশ্রণ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মদন গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ১৩ কানি জমিতে ব্রি ধান-৮৮ আবাদ করেছিলেন। এখন তাঁর জমির বড় অংশ পানির নিচে। তিনি বলেন, 'ধান শুরুতে চিনা যায় না। পরে দেখি কয়েক জাতের ধান। কুনুডা পাইক্যা গেছে, কুনুডায় দুধ, কুনুডা কাঁচা। পাকা ধান কাটতে শ্রমিক আনছিলাম। ওরা কইছে, এই ধান কাটতে পারব না। কারণ সব ধান এক রকম না।'
হাবিবুর রহমানের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর কমপক্ষে ৪০০ মণ ধান হওয়ার কথা ছিল। এখন ১০০ মণও পাবেন কিনা, সন্দিহান।
ইত্তেফাক
‘প্রস্তুতি শুরু নির্বাচন কমিশন ও দলগুলোর’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নির্দলীয় স্থানীয় সরকারের (সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো। ইতিমধ্যে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। নির্দলীয় এই নির্বাচনে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে ইসি। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আইনি সংশোধনীর কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রচারণায় পোস্টার থাকছে না—এমনটাই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইসির নীতিনির্ধারকরা। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন ইসির সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, কমিশনের সামনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা। এ নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন শেষ করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৯০টির মতো উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টির মতো পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে।
এখনই নির্বাচন করার উপযোগী। এসব নির্বাচন আয়োজনে আইনগত কোনো জটিলতা নেই। এছাড়া সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় ৬০০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার যে ১৮০ দিন সময়সীমা রয়েছে, তা এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আরো ২ হাজার ৮০০-এর বেশি ইউনিয়ন পরিষদের সময়সীমা শুরু হবে। এ অবস্থায় সরকারের সবুজ সংকেত পেলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করতে পারবে ইসি। যদিও সরকারের তরফে এ বছরের শেষ দিকে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার কথা বলা হচ্ছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সময়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। ঐ আইন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পরিচালনায় বিধিমালায় দলীয়ভাবে ভোটের বিধি-বিধান রয়েছে। এমনকি দলীয়ভাবে নির্বাচনি প্রচারেরও সুযোগ আছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাতিলের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন আইনের ৩২(ক), পৌরসভা আইনের ২০(ক), উপজেলা পরিষদ আইনের ১৬(ক), এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ১৯(ক) ধারা বাতিল করে সংসদে পৃথক আইন পাশ হয়। ঐ আইন অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনের পরিচালনা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী আনার কাজ শুরু হয়েছে। নির্বাচন আয়োজনের আগে এসব সংশোধনী আনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘ইনুর মামলার রায় যেকোনো দিন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা এই মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করতে পারেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে প্রসিকিউশন ও আসামিপরে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। পরে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেমাণ (সিএভি) রাখেন। রায়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। গত ২ এপ্রিল আসামিপরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনুর উপস্থিতিতে গতকাল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মো: আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। আসামিপে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, সিফাত মাহমুদ শুভ ও আবুল হাসান।
শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘হাসানুল হক ইনু ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সব কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। সুপিরিয়র কমান্ড, ইন্ডিভিজুয়াল রেসপনসিবিলিটি এবং ক্রিমিনাল কন্সপিরেসি সব কিছুই আদালতে তুলে ধরা হয়েছে।’
২০২৪ এর ১৯ জুলাই ও ৪ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ইনুর ফোনালাপ প্রমাণ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলে তিনি জানান। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘কথোপকথনের মধ্যে কারফিউ জারি, আন্দোলনকে বিভক্ত করে জঙ্গি কার্ড খেলা এবং কুষ্টিয়ায় পুলিশকে নির্দেশনা দেয়ার বিষয়গুলো ছিল। ছাত্র-জনতাকে হত্যার যে পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তা এই কথাবার্তায় সুস্পষ্ট, যা তিনি অস্বীকার করেননি।’
১৪ দলের বৈঠকে ইনুর উপস্থিতি এবং কারফিউতে তার সমর্থন ছিল দাবি করে তিনি বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জনগণের ভাষা বুঝতে না পেরে উল্টো দমনপীড়ন বেছে নিয়েছিলেন তিনি। জনগণকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করা হয়েছে।’ ট্রাইব্যুনালে ৯ জন সাীর পাশাপাশি ফোনালাপের রেকর্ড, পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন ফুটেজ দাখিল করে সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।
বণিক বার্তা
‘আগামী এক দশকে পদ্মা নদীর গতিপথ আরো বদলে যাবে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ক্রমেই বদলে যাচ্ছে দেশের প্রধান নদী পদ্মার গতিপথ। একদিকে ভাঙন, অন্যদিকে জাগছে চর, কোথাও পারে যুক্ত হচ্ছে নতুন ভূমি।
নদী গবেষকরা বলছেন, আগামী এক দশকে পদ্মার গতিপথে আরো বদল আসবে। এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে জলবায়ু পরিবর্তন ও পদ্মা সেতুর প্রভাব। দেশের প্রধান এ নদীর গতিপথে দ্রুত দেশের ভূপ্রকৃতি, জনজীবন ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নদী গবেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালে পদ্মা নদীর গতিপথ আরো বেশি পরিবর্তনশীল হয়ে উঠেছে। নদীটি এখন আগের তুলনায় বেশি আঁকাবাঁকা ও বহু শাখায় বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রভাবেও নদীর গতিপথ ও গঠন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এর ফলে কোথাও তীব্র নদীভাঙন, আবার কোথাও দ্রুত পলি জমে নতুন চর সৃষ্টি হচ্ছে।
বিভিন্ন সময় পদ্মার ভাঙনের ধরন নিয়ে স্যাটেলাইট ইমেজভিত্তিক একাধিক গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা যায়, পদ্মার ভাঙন ও চর জাগার প্রবণতা প্রায় সমান। কখনো কখনো চর জাগার পরিমাণ বেশিও দেখা গেছে। ২০০৫ থেকে ২০২৫ সালে পদ্মার ভাঙন নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস আর্থ এক্সপ্লোরারের স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০ বছরে পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় ১৫৫ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা বা ১৫ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে নতুন চর জেগেছে ১২৫ দশমিক ২ বর্গকিলোমিটার বা ১২ হাজার ৫২০ হেক্টর। অর্থাৎ এ সময়ে প্রায় ৩০ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা বা ৩ হাজার ৪০ হেক্টর জমি স্থায়ীভাবে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০২৫—এ দুই দশকের মধ্যে পদ্মা নদীর ভাঙন সবচেয়ে তীব্র ছিল ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। মূলত এ সময়কালে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ চলমান ছিল। সেতু নির্মাণের আগে এবং সেতু নির্মাণের পর পদ্মার ভাঙন ও চর জাগার প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
সেতু নির্মাণকালে পদ্মার ভাঙন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এ সময় ১৩৭ দশমিক ৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভেঙে যায়। বিপরীতে চর জেগেছে ৯৮ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার। দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ভাঙা ও গড়ার এ কালপর্বে পদ্মার আয়তন বেড়ে যায় ৩৮ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটার। এ সময়ে নদীর স্থির এলাকাও ছিল ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ২০৮ দশমিক ২৬ বর্গকিলোমিটার। পদ্মা নদীর জলশক্তি, প্রকৃতি নিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তিনজন গবেষকের এক গবেষণায় এসব পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পুরনো ত্রাস নতুন আতঙ্ক’। খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপকূলে আবার জলদস্যুদের উৎপাত শুরু হয়েছে। যারা অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিল, তাদের অনেকেই আবার দস্যুপনায় ফিরে এসেছে। এতে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে নতুন করে দেখা দিয়েছে অপহরণ ও মুক্তিপণ আতঙ্ক। একসময় সুন্দরবনে বাঘের চেয়ে বেশি ভয়ের কারণ ছিল শীর্ষ জলদস্যু মাস্টার, মজনু, ইলিয়াস, শান্ত ও আলম। তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল আরও অন্তত দেড়শর বেশি জলদস্যু। তারা জেলে-মাঝি ও পর্যটকদের জিম্মি করে লুটে নিত সর্বস্ব। স্থানীয় প্রশাসনও তাদের তা-বে দিশেহারা ছিল। আবার তাদের ব্যবহার করে প্রভাবশালী মহলও হয় লাভবান। এসব জলদস্যু দস্যুপনায় ফিরে আসায় সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে।
২০১৬ সালে দলবল নিয়ে ৩২টি জলদস্যু বাহিনী র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বছর পাঁচেক ভালোই ছিল তারা। ভালো ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও। কিন্তু আর্থিক সুবিধা না পেয়ে অনেকেই আবার চলে যায় পুরনো কর্মযজ্ঞে! সুন্দরবনের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও চালাচ্ছে অপরাধ কর্মকা-। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলে-মাঝিসহ সাধারণ লোকজনের মাঝে। পুলিশ ও র্যাবের কপালেও চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। ইতিমধ্যে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। নির্দেশনানুযায়ী, দস্যুদের তালিকার কাজও শুরু হয়েছে। তারপরও থেমে নেই জলদস্যুদের তৎপরতা। জেলেরা প্রায়ই হামলা ও অপহরণের শিকার হচ্ছেন। আবার মুক্তিপণ দিয়েও মিলছে না রেহাই।
পুরনো ডেরায় ফেরার কারণ : অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের একটি বড় অংশ স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিপত্তির মুখে পড়েছে। এর কিছু কারণ চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পর দস্যুদের অনেকেই সামাজিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাদের সন্দেহের চোখে দেখে। এতে তারা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। ফুরিয়ে গেছে সরকারের দেওয়া অনুদান, হয়নি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা। এসব কারণে অনেকে ফের দস্যুতায় ফিরে আসে। অন্যদিকে দস্যুদের অস্ত্রের জোগান দেওয়া মহাজনরাও বেশি আয়ের লোভ দেখিয়ে আবার তাদের বনে পাঠাচ্ছে।
টাস্কফোর্স কার্যক্রম আছে থমকে : পুলিশসংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানায়, অবৈধভাবে গাছ কাটা, বন্যপ্রাণী হত্যা, অপহরণ, মুক্তিপণ না পেয়ে মানুষ হত্যা, ডাকাতি ও ট্রলার ছিনতাইসহ নানা অপরাধ করত জলদস্যু-বনদস্যুরা। দস্যুপনার মাধ্যমে অর্জিত অর্থের ভাগ যেত খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের প্রভাবশালীদের পকেটেও। ২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে র্যাব মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়কারী করে জলদস্যু দমনে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। র্যাবের অভিযানে ২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনের ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ওই সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪৬২টি অস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদ। আত্মসমর্পণের পর তাদের পুনর্বাসনে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অনুদানের পাশাপাশি ১০২টি ঘর, ৯০টি মুদি দোকান (মালামালসহ), ১২টি জাল ও মাছ ধরার নৌকা, ৮টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও গবাদিপশু দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর তারা কোনো সহায়তা পায়নি।
