আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা বাজারে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে তিন সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট, জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং মেশিন উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ডিবি’র অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শরীয়তপুরের মো. মজিবুর রহমান (৩৮), পটুয়াখালীর মো. দুলাল মৃধা (৪০) ও নেত্রকোনার মো. মামুন (২৫)। ডিবি বলছে, ঈদ উপলক্ষে পশুর হাট ও বিপণিবিতানে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে চক্রটি দিনরাত তিনটি মেশিনে জাল নোট ছাপাচ্ছিল। এ কাজে তারা একটি ছাপাখানার কর্মীকেও নিয়োগ দিয়েছিল। ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট মজুত করেছে তারা। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাজধানীর উত্তরাপূর্ব থানাধীন সমবায় বাজার (বিডিআর) মার্কেটের সামনে এবং পরে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় ডিবির উত্তরা বিভাগ। অভিযানকালে উত্তরাপূর্ব থানার সমবায় বাজার এলাকায় জালটাকা কেনাবেচার সময় মজিবুর রহমানকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকার জালনোট এবং জাল টাকা বিক্রির ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে মজিবুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুলাল মৃধা ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে আরও ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, তিনটি কালার প্রিন্টার, ফয়েল পেপার, সিকিউরিটি ট্যাগ ও জলছাপযুক্ত কাগজ, আংশিক প্রিন্ট করা এক হাজার টাকার নোট, তরল গাম, কাটার এবং জলছাপ বসানোর ডাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জালটাকা তৈরি করে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিলেন।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাট ও বিপণিবিতানে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, চক্রটি ঈদ সামনে রেখে জালটাকা বাজারে ছড়িয়ে দিতে তিনটি মেশিনের মাধ্যমে অনর্গল টাকা ছাপছিল। এসময় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। চক্রটি জালটাকা ছাপাতে ছাপাখানায় কর্মরত এক কর্মীকেও নিয়োগ দেয়। এ ঘটনায় উত্তরাপূর্ব থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
