সিলেটে সক্রিয় জাল নোট চক্র

ফন্ট সাইজ:

ঈদকে সামনে রেখে সিলেটে সক্রিয় জাল নোট চক্র। ঢাকার একটি গ্যাং সিলেটে এসে স্থানীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে মিশে এই অপকর্ম করছে। এ ধরনের একটি চক্রকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সূত্র বলছে, নগরে আরও কয়েকটি জাল নোট চক্র সক্রিয় রয়েছে। এদিকে, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জাল নোট নেটওয়ার্কের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, ৫০০ টাকার একটি নোট চালাতে পারলে চক্রের নিয়ন্ত্রণকারীরা সদস্যদের ২০০ টাকা দিয়ে থাকে। ঢাকা থেকে জাল নোট ছাপা ও পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে।

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে ওই চক্রের চার সদস্যকে আটকের পর এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা থেকে জাল নোট চক্রের এক সদস্য আটক হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর লালবাজারস্থ একটি আবাসিক হোটেল থেকে ওই চক্রের আরও তিন সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫ লক্ষাধিক টাকার জাল নোট। আটক চারজনই সিলেটের বাইরের। এর মধ্যে দুইজনের বাড়ি শেরপুর, একজনের বাড়ি বরিশাল ও একজনের বাড়ি গোপালগঞ্জ। সিলেটের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তারা জাল নোটের কারবার করে আসছিল। র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, চক্রটি মূলত ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। চক্রের সদস্যরা নানা পন্থায় জাল নোট ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি ৫০০ টাকার জাল নোটে ২০০ টাকা ও ১০০০ টাকার নোটের জন্য ৪০০ টাকা পেয়ে থাকে সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জাল নোট দিয়ে প্রতারণার জন্য চক্রের সদস্যরা বেশির ভাগ টার্গেট করে থাকে ব্যবসায়ীদের। যে দোকানে ব্যস্ততা বা ভিড় বেশি থাকে ওই দোকানে গিয়ে অল্প পরিমাণ জিনিসপত্র কিনে তারা। এরপর মূল্য পরিশোধের জন্য বড় নোট দিয়ে থাকে।

ব্যবসায়ী পরীক্ষা না করে জাল নোট রেখে দিয়ে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দিলেই প্রতারক গা-ঢাকা দেয়। এ ছাড়া বড় নোট ভাঙানোর নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গেও চক্রটির সদস্যরা প্রতারণা করে থাকে। র‌্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেনÑ প্রতারক চক্রের সদস্যরা জাল নোট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাপ্ত টাকা ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়। ওই চক্রের মূলহোতাদের কাছে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে তারা টাকা পাঠায়। সিলেটে এই চক্রের স্থানীয় কোনো এজেন্ট আছে কিনা তা র‌্যাব খতিয়ে দেখছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন