চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে হওয়া এই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং তাইওয়ান ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, বিশ্বজুড়ে গত শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও জটিল হয়ে উঠেছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত ‘থুসিডিডিস ফাঁদ’ এড়িয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারব? শি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কৌশলগত স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে গঠনমূলক চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান। তার ভাষায়, আগামী তিন বছর এবং তার পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য দিকনির্দেশনা দেবে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ।
তিনি বলেন, এই সম্পর্ক হবে সহযোগিতাভিত্তিতে ইতিবাচক স্থিতিশীলতা, নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সুস্থ স্থিতিশীলতা, মতপার্থক্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধারাবাহিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তির প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা। শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরস্পরের জন্য লাভজনক। যেখানে মতবিরোধ বা উত্তেজনা রয়েছে, সেখানে সমতার ভিত্তিতে আলোচনা-ই একমাত্র সঠিক পথ।
তিনি জানান, বুধবার অনুষ্ঠিত দুই দেশের সর্বশেষ বাণিজ্য আলোচনায় সামগ্রিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ ও ইতিবাচক ফলাফল এসেছে। একে তিনি উভয় দেশের জনগণ এবং বিশ্বের জন্য সুখবর বলে আখ্যা দিয়েছেন। চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, বেইজিং তার উন্মুক্ত বাণিজ্য নীতি আরও বিস্তৃত করবে।
তিনি মার্কিন কোম্পানিগুলোকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। উভয়দেশের সম্মতিতে তৈরি হওয়া যোগাযোগ পথকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়তে হবে বলেন তিনি। তাইওয়ান প্রসঙ্গে শি জিনপিং বলেন, এটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ইস্যু সঠিকভাবে মোকাবিলা না করা হলে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, তাইওয়ানের স্বাধীনতা এবং অঞ্চলটির শান্তি একসঙ্গে চলতে পারে না, যেমন আগুন ও পানি কখনও এক হয় না।
