চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রৌফাবাদ কলোনিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী রেশমী আক্তারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
গত ৭ ই মে দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলিতে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে রাজু নামে এক যুবক নিহত হন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় রেশমী আক্তার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় মা তাকে ২০ টাকা দিয়ে বাসার পাশের দোকানে পান আনতে পাঠিয়েছিলেন। এসময় এলাকায় চার থেকে পাঁচ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু হলে একটি গুলি রেশমীর বাঁম চোখে লাগে। পরে গুলিটি মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চমেকে আইসিইউ শয্যা খালি হলে তাকে সেখানে স্থানান্তর করা হয়।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত শুক্রবার থেকে শিশুটি আইসিইউতে ভর্তি ছিল। সকালে সে মারা গেছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর। নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। পরে প্রতিশোধ নিতে একদল সন্ত্রাসী নগরে এসে রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাদের ছোড়া গুলিতেই প্রাণঘাতীভাবে আহত হয় শিশু রেশমী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিয়াজ-সাবেরা দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রেশমী ছিল সবার ছোট। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, রেশমী ছিল শান্ত ও চঞ্চল স্বভাবের। পড়াশোনার পাশাপাশি বেশিরভাগ সময় ঘরেই কাটাত।
এ ঘটনায় নিহত রাজুর মায়ের দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
