গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়ার আর্থিক, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গত ৪ঠা মে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিটি গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে লেখা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রস্থ স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়ার আর্থিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের আলোকে জরুরিভিত্তিতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নজরুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্তকৃত), গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্তৃক লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
বর্ণিতাবস্থায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. গোলাম কিবরিয়ার (চ. দা.) বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক জরুরিভিত্তিতে এ বিভাগকে অবহিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হলো।
সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে গাজীপুর পৌরসভায় সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে যোগ দেন কিবরিয়া। ২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত হলে কৌশলে অফিসের অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুতির মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগপত্রে কিবরিয়ার আর্থিক দুর্নীতিসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি হলো- তার নিজ জেলা পটুয়াখালীতে নিজের নামে স্কুল, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদানের নামে বেয়ারার চেকের মাধ্যমে সাড়ে এগারো লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিবরিয়া বলেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত নজরুল ইসলাম মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তদন্ত করে দেখবেন। এর বেশি কিছু এ এখন বলার নেই। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল হাসান এ বিষয়ে বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তোলা হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
