মামলা, ষড়যন্ত্র ও মব সৃষ্টি করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়োগে বাধা সৃষ্টির প্রতিবাদে ও চার দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। তাদের দাবিগুলো আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে না মানলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের ডুয়েট গেটের একটি হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোতে রয়েছে- দ্রুত সময়ে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংস্থাসমূহের উপ- সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ সম্পন্ন, মব সৃষ্টি ও অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি করে যেসব নিয়োগ বন্ধ রয়েছে দ্রুত সময়ও সেসব নিয়োগ সম্পন্ন, ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য নতুন অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে তাদের আল্টিমেটাম, দাবিসমূহ ও বক্তব্য তুলে ধরেন আফসার উদ্দিন, ইসহাক পিকু, সাইফুল ইসলাম শুভ, সাওদা আক্তার, রইসুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মজনু মিয়া, অনিক ও ইমাম হাসান। সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও উল্লেখ করেন- বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প-কারখানা পরিচালনা এবং সামাজিক সমস্যা নিরসনে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিদ্যমান ১৪টি পদকে একীভূত করে ‘উপ-সহকারী প্রকৌশলী’ পদে রূপান্তর করেন এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৩% পদোন্নতি বাধ্যতামূলক করেন।
১৯৯৫ সালে বেগম খালেদা জিয়া সকল পদে কর্মরত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পদসমূহকে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করার নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ৭ কোটি কর্মক্ষম মানুষকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে এবং বেকারত্ব দূর করতে ৭ম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদকালে ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’ নামক একটি সংগঠন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে তাদেরকে নিয়োগ প্রদান এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের নিয়োগ বন্ধের দাবিতে সরকারকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালায়।
গাজীপুরসহ সারা দেশে কর্মরত ৮ লাখ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং ৪ লাখ পলিটেকনিক শিক্ষার্থী রাজপথে নেমে এসে প্রতিবাদ জানালে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলে রাজপথে ব্যর্থ হয়ে বিএসসি ডিগ্রিধারীগণ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্র করে এবং হাইকোর্টে মামলা দিয়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ আটকে রেখেছে। যা দেশের চাকরিপ্রত্যাশী লক্ষাধিক ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে চরম হতাশায় নিমজ্জিত করেছে।
