চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের বহদ্দারহাট বিটি শাখা থেকে জাল রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর ও ভুয়া কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট তৈরি করে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা আত্মসাতের মামলায় এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর তিন আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. ফজলে আজিম খাগড়াছড়ির রামগড় থানার মাস্টারপাড়া এলাকার এ কে এম শাহ আলমের ছেলে। তিনি অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের বহদ্দারহাট বিটি শাখার সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত রয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- মোহাম্মদ রেজাত হোসেন, হামদে রাব্বি মুন্না ও রিপায়ন বড়ুয়া। জানা যায়, ২০১১ সালে বহদ্দারহাট বিটি শাখায় বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রদানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ফজলে আজিম বিভিন্ন ভুয়া রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর তৈরি করেন। পরে জাল কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট ও ট্রান্সফার ভাউচার ব্যবহার করে ব্যাংকের এফডিডি (আলরাজী) খাত থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ২০১৯ সালের ২০শে মার্চ চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০২২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
দুদকের পিপি এডভোকেট রেজাউল করিম রনি জানান, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফজলে আজিমকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া আত্মসাৎ করা ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
