চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরটি ছিল বাংলাদেশিদের জন্য এক দুঃস্বপ্ন। মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাপ্রবাহে ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্কে শীতলতা তৈরি হয় বাংলাদেশের। বিশ্বকাপ থেকে কেন টাইগারদের বাদ পড়তে হলো এবং স্কটল্যান্ড কেন তাদের জায়গা নিলো, সে বিষয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলেন তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সাবেক অধিনায়কের দাবি, বর্তমানে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতীয় দলের কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। তামিমের মতে, দু’দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের উন্নয়নের সেরা উপায় হবে একটি সিরিজ। ঘটনার সূত্রপাত আইপিএল চলাকালীন মোস্তাফিজুরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তৎকালীন বিসিবি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ করে।
আইসিসি সেই দাবি নাকচ করলে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে ভারত সফর বাতিল করে বাংলাদেশ। সাক্ষাৎকারে তৎকালীন বোর্ডের সমালোচনা করে তামিম বলেন, ‘আইসিসি যথেষ্ট নমনীয় ছিল, আলোচনার পথও খোলা ছিল। তবে আমরা সঠিক আলোচনার পরিবর্তে একটি বিশ্বকাপ উপহার দিয়ে এসেছি। ১৯৯৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে জেতার পর দেশ যেভাবে উৎসবে মেতেছিল, এবারের ঘটনা তার ঠিক উল্টো। অনেক ক্রিকেটারের হয়তো শেষ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন এভাবেই ভেঙে গেল।’
বোর্ডের বর্তমান অবস্থা এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বেশ ইতিবাচক তামিম। বিসিসিআই সভাপতি মিথুন মানহাসের সঙ্গে নিজের সুসম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সাবেক টাইগার ওপেনার বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি মিথুন মানহাসের সঙ্গে আমি প্রচুর ক্রিকেট খেলেছি। আইপিএলে আমরা একই দলে ছিলাম, আবার ঢাকার লীগগুলোতে খেলতে তিনি অনেকবার বাংলাদেশে এসেছেন। আমাদের মধ্যে চমৎকার হৃদ্যতা রয়েছে। এই নতুন দায়িত্বে থাকাকালীন এখনো তার সঙ্গে বসার সুযোগ হয়নি, তবে আমি তাকে খুব ভালোভাবেই চিনি।’
তামিম আরও বলেন, ‘দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে এক কথায় অসাধারণ। কোনো সমস্যা বা নিরাপত্তার ঝুঁকি নেই, আর ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য তো তা কখনোই ছিল না। ভারত যখন এখানে খেলতে আসে, পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। মানুষ এই লড়াইটা ভীষণ ভালোবাসে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না যে, বিসিবি এবং বিসিসিআইয়ের মধ্যে এখন আর কোনো বড় সমস্যা আছে। পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য এখানে একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন করা সবচেয়ে দারুণ উপায় হতে পারে।’
