ফুলের মতো ফুটফুটে শিশুটি। যৌন নিপীড়নের পর তাকে হত্যা করেছে এক পাষণ্ড এমন অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সিলেটে। রাতেই ঘাতকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফাহিমা আক্তার নামের এই শিশুর বয়স চার বছর। বাড়ি সিলেটের সোনাতলা গ্রামে। গত ৬ মে সকালে ফাহিমা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। শুক্রবার তার মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির পুকুর পাড়ের জঙ্গলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফাহিমাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে তার পাশের বাড়ির চাচা সম্পর্কে জাকির নামের এক বিবাহিত যুবক। এ সময় জাকিরের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখে সে। পরে ওড়নাসহ ফাহিমার মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ের ডোবায় ফেলে দেয় জাকির।
এদিকে পুলিশ ফাহিমা লাশ উদ্ধারে করে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। শনিবার ফাহিমার দাফন সম্পন্ন হয়। পুলিশ সোমবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনায় জড়িত ফাহিমার প্রতিবেশী সম্পর্কে চাচা জাকিরকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে ঘাতক জাকিরের ফাঁসির দাবিতে প্রায় দুই ঘণ্টা জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে রাখেন। এক পর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে মধ্যরাতে তারা থানা ঘেরাও কর্মসূচি থেকে সরে যায়। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা গিয়ে সোনাতলা পশ্চিম পাড়ায় ঘাতক জাকিরের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করে। অগ্নি সংযোগের চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় জনতার ইটপাটকেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। গ্রেপ্তার হওয়া জাকির একই এলাকার মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দেয়া হয়েছে। ঘাতক জাকিরকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
