চট্টগ্রামে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিলো সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন সাংবাদিক বিপ্লব দে পার্থকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে। হুমকির ভয়েস রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ২৪ ঘণ্টা পার হতেই নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ওই সাংবাদিককে নিয়ে পোস্টও দিয়েছেন ইমন। এদিকে, ‘বড় সাজ্জাদের ছোট ভাই ডেভিড ইমন’ পরিচয়ে মোবাইল ফোনে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বাংলা টিভি’র চট্টগ্রাম কার্যালয়ের প্রতিবেদক বিপ্লব দে পার্থ।

বিপ্লব দে পার্থ তার জিডিতে উল্লেখ করেন, শনিবার বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে কাজীর দেউড়ী মোড়ে অবস্থানকালে ০১৭১৫৬৮৬৩৮৫ নম্বর থেকে তার হোয়াটসঅ্যাপে কল আসে। কল রিসিভ করলে অপরপ্রান্ত থেকে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। এ সময় ‘২৪ ঘণ্টার ভেতর গুলি করে হত্যা’ করার হুমকি দেয়া হয়। জিডিতে বিপ্লব দে পার্থের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে জেএমসেন হল, ২য় তলা, শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়, রহমতগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

হোয়াটসঅ্যাপে দেয়া অডিও বার্তায় ডেভিড ইমন সাংবাদিক বিপ্লবকে বলেন, ‘...বোলার (ভিমরুল) বাসা বানিয়ে ফেলবো। পুরো শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে, পরিবার গণনাও করতে পারবে না। যা করার, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে। গুলি মানুষ চেনে না।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব দে পার্থ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাকে সন্ত্রাসী সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করেন সন্ত্রাসী ইমন। প্রথমে তিনি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা নেই জানালে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন। পরে হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা দিয়েও হুমকি দেয়া হয়।’ বিপ্লব দে জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। হুমকিদাতা মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন দাবি করে ডেভিড ইমন ফেসবুকে পোস্ট দেন। এতে তিনি বলেন, পুরো শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে, পরিবার গণনাও করতে পারবে না’ এই হেডলাইনের ওই কথাগুলোর সঙ্গে আমার কথার মিল আছে, কিন্তু ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিপ্লব দে নিজেকে বাংলা টিভি’র চট্টগ্রাম কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দিলেও তার মূল ব্যবসা মাদক। যেহেতু তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে আছেন, তাই বেশি কিছু বললাম না।

ডেভিড ইমন আরও বলেন, এখানে চাঁদা দাবির বিষয়ে যে কল রেকর্ডের কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাকে হুমকির কোনো রেকর্ড নয়। বিভিন্ন সময় নানা পরিস্থিতিতে উত্তেজিত হয়ে কথা বলার সময় অনেক কিছুই বলেছি; তিনি সেখান থেকেই কথা কাটছাঁট করে বা জোড়াতালি দিয়ে এই অডিও তৈরি করেছেন। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। বিভিন্ন সময় নিউজের প্রয়োজনে আমি তাকে টাকাও দিয়েছি। হঠাৎ এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ শুনে আমি নিজেও বিস্মিত। আমি নিজের ব্যাপারে বেশি কিছু বলতে চাই না, তবে তিনি কেন এমনটা করছেন- তা আমার জানা আছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন