গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) এ প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)। গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- গাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ শিক্ষক সমিতির অন্যান্য সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকবৃন্দ। বহিরাগত কাউকে নিয়োগ দেয়া হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ মেনে নিবেন নাÑ উল্লেখ করে মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেনÑ সম্প্রতি বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
তাদের দাবি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বহু সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অধ্যাপক রয়েছেন, যারা প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা রাখেন। এমন বাস্তবতায় বহিরাগত কাউকে এ পদে নিয়োগ দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষকরা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত অস্থিরতা, বিভাজন ও অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের কৃষি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার এক গর্বিত আলোকবর্তিকা। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও পরীক্ষিত শিক্ষকগণের মূল্যায়ন হওয়াটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক প্রত্যাশা। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা, একাডেমিক সংস্কৃতি ও গবেষণার ধারাবাহিকতা রক্ষায় এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা এই প্রতিষ্ঠানের বাস্তবতা, সংকট ও সম্ভাবনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। মানববন্ধন শেষে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও একাডেমিক অগ্রগতির কথা বিবেচনা করে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
