চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংকের আমানতকারীরা ‘হেয়ার কাট’ বাতিল, স্বাভাবিক লেনদেন চালু এবং আমানতের অর্থ ফেরতের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে ব্যাংকে তালা দেয়াসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
গতকাল নগরীর এনায়েত বাজার ও জুবলী রোড এলাকায় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ভেতরে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী এসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, একীভূত হওয়া এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা নিজেদের অর্থ উত্তোলন করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
এর আগে, গত সপ্তাহে রোববার ও সোমবার খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ এলাকার পাঁচ ব্যাংকের নয়টি শাখায় তালা দেন আমানতকারীরা। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্বেগ প্রকাশ করলে এর প্রতিবাদে গত ৬ই মে নগরীর কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রাহকদের দাবির আড়ালে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বক্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া গ্রাহকদের অভিযোগ, নির্বাচিত সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারেনি। ‘হেয়ার কাট’র নামে আমানতের একটি অংশ আটকে রাখার সিদ্ধান্তকে তারা বৈষম্যমূলক বলে দাবি করেন।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ও প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রেখে আজ আমরা বিপদের মধ্যে আছি। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। সামনে ঈদ কিভাবে কি করবো দিশাহারা।’ গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক জয়া চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে ব্যাংকে ব্যাংকে ঘুরছি। সন্তানের সেমিস্টার ফি দিতে পারছি না। ধীরে ধীরে টাকা দিলেও লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।’ সরজমিন দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন ব্যাংক শাখার সামনে চেক হাতে অবস্থান নেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তারা অভিযোগ করেন, টাকা তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অথচ তাদের ‘মবকারী’ ও ‘দুষ্কৃতকারী’ আখ্যা দেয়া হচ্ছে।
গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের পর থেকেই আমানত উত্তোলনে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচিতে আমানতকারীরা তিন দফা দাবি জানানÑ অবিলম্বে আমানতের টাকা ফেরত, ‘হেয়ার কাট’ বাতিল এবং সব ধরনের লেনদেন স্বাভাবিক করা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরাও চাই লেনদেন স্বাভাবিক হোক। গ্রাহকদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের কাছেও খারাপ লাগছে। গ্রাহকদের অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছি।’ আমানতকারী এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমাদের টাকায় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেতন হয়, অথচ আমানতকারীদের নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ঈদের আগে টাকা ফেরত না পেলে লাগাতার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।’
