টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নির্ভরতার অন্যতম প্রতীক মুমিনুল হক। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে গতকাল অনবদ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। দেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ৫০০০ রানের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করেছেন তিনি। ১ম ইনিংসে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৯ রান দূরে থেমেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৭তম ফিফটি।
আর চমৎকার এই অর্ধশতকের সুবাদেই ছুঁয়েছেন কাঙ্ক্ষিত সেই জাদুকরী সংখ্যা। স্পিনার নোমান আলীর বল ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে মাইলফলকে পৌঁছান মুমিনুল হক। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন কেবল তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীম। দলের চরম বিপর্যয়ে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা মুমিনুলের সহজাত।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ২ ইনিংসেই দুর্দান্ত জুটি গড়ে দলকে চালকের আসনে বসিয়েছেন তিনি। ১ম ইনিংসে ১৭০ এবং ২য় ইনিংসে ১০৫ রানের অনবদ্য পার্টনারশিপ গড়েন দু’জন। তীব্র চাপের মুখে তার এমন ধারাবাহিকতা আরেকবার দারুণভাবে প্রমাণ করেছে টেস্টে তিনি দলের অপরিহার্য নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়।
ক্যারিয়ারের ৭৬তম টেস্ট খেলতে নেমে এই বিশাল গৌরবের দেখা পেলেন তিনি। এই দীর্ঘ পথ সফলভাবে পাড়ি দিতে তাকে খেলতে হয়েছে ১৪১টি ইনিংস। ১৩ বছর ২ মাস ৩ দিনের ক্রিকেটীয় ভ্রমণ শেষে তিনি এই চূড়ায় পা রেখেছেন। তার আগে তামিম ৭০ ম্যাচে ৫১৩৪ রান করেছিলেন। অন্যদিকে ১০১ টেস্ট খেলা মুশফিক ৬৫৮১ রান নিয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে মুমিনুল সর্বোচ্চ ১৩টি টেস্ট সেঞ্চুরির মালিক হলেও দীর্ঘ ২২ ইনিংস ধরে কোনো শতকের দেখা পাননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে চলমান এই ম্যাচেও সেঞ্চুরির দারুণ এক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ১ম ইনিংসে ৯১ রানে আউট হয়ে যান তিনি।
আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ ছিল ২য় ইনিংসেও। তবে এবারও ব্যক্তিগত ৫৬ রানে শাহিন আফ্রিদির বলে উইকেটকিপারের হাতে সোজা ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
টানা ৫ ইনিংসে ফিফটি তুলে নিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি ফর্মের রয়েছেন। তবে আফসোস সেঞ্চুরি ধরা দিচ্ছেনা।
গতকাল শান্তর সাঙ্গে তার অনবদ্য সুন্দর বোঝাপড়া ম্যাচে বিশাল বড় প্রভাব ফেলেছে দলের বিপদে। তাদের এই জুটির সুবাদেই বাংলাদেশ ১৪৫ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ঘরোয়া লীগ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের কদর রয়েছে সব মহলেই।ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি টেস্ট ঘরানায় দারুণ সাবলীল।
অভিষেক টেস্টে অর্ধশতক করে যে সৌরভ ছড়িয়েছিলেন তার রেশ আজও বিদ্যমান। সময়ের পরিক্রমায় তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ তকমাটা তার নামের পাশে দারুণ মানায়। তবে ২২ ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ হয়তো তাকে কিছুটা পোড়াচ্ছে।

শরীফ হেলাল
২৮ দিন আগেঅনেক অনেক অভিনন্দন 🫶