ইন্টার মায়ামির টানা হারের ক্ষতে প্রলেপ দিলেন লিওনেল মেসি। কানাডার ক্লাব টরন্টো এফসির বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের দিন তিন গোলেই অবদান আর্জেন্টাইন মহাতারকার। এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে বড় জয় এনে দেয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লীগ সকারে (এমএলএস) এক অনন্য রেকর্ড গড়লেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে ১০০ গোলে অবদান রাখতে মেসি সময় নিলেন স্রেফ ৬৪ ম্যাচ। এর মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিলেন ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড সেবাস্তিয়ান জিওভিনসোর রেকর্ড। টরন্টোর হয়ে খেলা জিওভিনসোর এই মাইলফলক ছুঁতে লাগে ৯৫ ম্যাচ। অর্থাৎ, প্রায় ৩১ ম্যাচ আগেই মেসির এই রাজকীয় সেঞ্চুরি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মেসি ৫৯টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৪১টি গোল। তালিকায় রবি কিনের মতো তারকাদের লেগেছিল ৯৬ ম্যাচ। টরন্টোর মাঠে বিরতির পর শুরু হয় মেসি-শো। ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে আর্জেন্টাইন বন্ধুর নিখুঁত পাস থেকে গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। এরপর ৭৩তম মিনিটে মেসির বাড়ানো বল জালে জড়ান সার্জিও রেগুইলন। ঠিক দুই মিনিট পর রদ্রিগো ডি পলের অ্যাসিস্টে স্কোরশিটে নাম লেখান মেসি। এটি তার ক্যারিয়ারের ৯০৭তম গোল। ৭৫ মিনিটের মধ্যে মায়ামি ৪-০ গোলে এগিয়ে যায়। শেষ দিকে দুটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় স্বাগতিক দল। তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে গোলাপি জার্সিধারীরা।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মেসি বলেন, ‘খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। বিশেষ করে, সামপ্রতিক সময়ে আমরা যেভাবে পয়েন্ট হারাচ্ছিলাম, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এই জয়টা পাওয়া খুব জরুরি ছিল।’
২০২৩-এ ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেয়ার পর ক্লাবটির ভাগ্য আমূল বদলে দিয়েছেন মেসি। তার হাত ধরে ২০২৩ সালে ঐতিহাসিক লীগ কাপ জেতে মায়ামি। পরের বছর সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৫ সালে ইস্টার্ন কনফারেন্স শিরোপা
ও এমএলএস কাপ ঘরে তোলে ফ্লোরিডাভিত্তিক ক্লাবটি। এই টানা দুই মৌসুমে লীগের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ এবং ২০২৫ সালের গোল্ডেন বুট জিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মেসি। এই জয়ের পর ১২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের তৃতীয় স্থানে মায়ামি। সমান পয়েন্ট নিয়ে এক ম্যাচ কম খেলা নিউ ইংল্যান্ড পাল্লা দিচ্ছে তাদের সঙ্গে। ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে ন্যাশভিল।
