আয়তনে ছোট হলেও বড় স্বপ্ন দেখছে কুরাসাও। ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশটি। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘জি’ তে রয়েছে তারা। গ্রুপপর্বে কুরাসাওয়ের প্রতিপক্ষ জার্মানি, ইকুয়েডর ও আইভোরিকোস্ট। শক্তিশালী এই প্রতিপক্ষকে ভয় পান না দলটির অধিনায়ক লিয়ান্দ্রো বাকুনা। ফিফাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কুরুসাও অধিনায়ক বলেন, ‘বিশ্বকাপে আমরা প্রথমবার খেলবো। কিন্তু আমরা কাউকে ভয় পাই না। বিশ্বকাপে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করতে এসেছি। আমরা নিজেদের খেলাটা খেলবো, প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করবো। আনন্দ উপভোগের মাঝে মনে রাখতে হবে আপনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আমরা প্রতি ম্যাচে ৭-০,৫-০,৪-০ ব্যবধানে হারতে চাই না। আমরা আসলে কী করতে পারি এবং কেন আমরা এখানে তা দেখিয়ে দিতে চাই।’
২০১৬ সালে বার্বাডোসের কাছে হার দিয়ে অভিষেক।
এরপর একের পর এক হোঁচট। কিন্তু দমে যাননি ৩৪ বছর বয়সী বাকুনা। বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নটা এখন বাস্তব। ঐতিহাসিক এই অর্জন নিয়ে বাকুনা বলেন, ‘এটি একটি দারুণ গল্প। আমরা প্রমাণ করেছি একটা ছোট দ্বীপ দেশও বড় কিছু অর্জন করতে পারে। আমরা যখন শুরু করেছিলাম, বিশ্বকাপ ছিল স্রেফ স্বপ্ন। আজ সেই স্বপ্ন আমাদের হাতের মুঠোয়।’ লিয়েন্দ্রো বাকুনার ফুটবল রক্তে। বাবা-মা দুজনেই ফুটবলার ছিলেন। ছোট ভাই জুনিনহো বাকুনাও কুরাসাও দলের অন্যতম বড় ভরসা। ডাচ অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে খেলা জুনিনহোও আছেন। সেই গল্প বর্ণনা করেন এভাবে, ‘আমি ওকে ফোন করে বলেছিলাম-আমার তোমাকে পাশে দরকার।
সে রাজি হলো। নিজের দেশকে ভাইয়ের সঙ্গে মিলে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতির ব্যাপার।’ কুবাসাওকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত আনার পেছনে অভিজ্ঞ কোচ ডিক অ্যাডভোকাটের অবদানও স্মরণ করেন বাকুনা। তিনি বলেন, ‘ আমরা আনন্দ করতে ভালোবাসি, উৎসবে মাততে ভালোবাসি।
কোচ এসে বললেন-সব করো, কিন্তু ফলের কথা মাথায় রাখো। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ১ পয়েন্টের জন্য লড়াই করতে হয়। সেই বিশ্বাসটাই আমাদের আজ এখানে নিয়ে এসেছে।’ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার রাতের কথা মনে পড়লে এখনো রোমাঞ্চিত হন বাকুনা। সেই রাতে গোলপোস্ট আর ভাগ্য যেন কুরাসাওয়ের পাশেই ছিল। অধিনায়ক মনে করেন, সেই গল্পটা যেন আগে থেকেই লিখে রেখেছিলেন সৃষ্টিকর্তা। প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে আসা কুবাসাওয়ের জন্য ‘আন্ডারডগ’ তকমাটা খুব স্বাভাবিক। তবে বাকুনা জানালেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে হারতে বা বড় ব্যবধানে গোল খেতে যাচ্ছি না। আমরা দেখাতে চাই ছোট দেশ হিসেবেও আমরা কী করতে পারি।’
