সিলেটের হাটে পশু আছে, ক্রেতা নেই

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

শেষের পাতা ৩০ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার

পরশু ঈদ। সিলেটের পশুর হাট এখনো ফাঁকা। গতকাল শেষ বিকাল পর্যন্ত জমেনি সিলেটের পশুর হাট। ক্রেতার চেয়ে পশুর সংখ্যা অনেক বেশি। ট্রাকে করে দূর-দূরান্ত থেকে পশু আনা হচ্ছে সিলেটের কাজির বাজার পশুর হাটে। পশুর দামও গতবারের তুলনায় কম। এরপরও ক্রেতা বাজারে না আসায় দুশ্চিন্তায় রয়েছে বেপারীরা। হাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন- সিলেটের পশুর হাটে সাধারণত ঈদের আগের দিন সবচেয়ে বেশি পশু বিক্রি হয়।
কারণ- ক্রয় করা পশু রাখার জায়গা না থাকায় কোরবানি দাতারা আগের দিন এসে পশু কিনেন। এ কারণে এবার সেই প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। সিলেট নগরীর উত্তর অংশে এবার অস্থায়ী ভিত্তিতে কোনো পশুর হাট নেই। আলীয়া মাদ্রাসা ও এমসি কলেজের মাঠে বসেনি পশুর হাট। নগরীর টিলাগড়ে পশুর হাট বসানোর চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে সেই হাট তুলে দেয়া হয়। আশঙ্কা আছে- নগরীর উত্তর অংশে এবার অবৈধ পশুর হাটের ছড়াছড়ি হবে। মেন্দিবাগের জালালাবাদ গ্যাস অফিসের পেছনে একটি পশুর হাট বসানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানেও রয়েছে। সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় এবার সিটি করপোরেশন থেকে একটি মাত্র অস্থায়ী পশুর হাট দেয়া হয়েছে। ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় সেই পশুর হাট অবস্থিত। ওই হাট নিয়ে ট্রাক মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। শেষ পর্যন্ত সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপে ওই হাটের বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির মীমাংসা হয়েছে। সিলেটের ৫ জন কাউন্সিলর এই হাটের দেখভাল করছেন। তবে- গতকাল পর্যন্ত ওই হাটে বিকিকিনি জমে ওঠেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- গতকাল বিকাল ৩টা পর্যন্ত ট্রাক টার্মিনাল হাটে হাতে গোনা কয়েকটি পশু বিক্রি হয়েছে। হাটে থাকা পশুর দাম কম থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। এই অবস্থায়ও ওই হাটে জোরপূর্বক পশু নামানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন উত্তরাঞ্চল থেকে আসা এক বেপারী। তিনি জানান- গত মঙ্গলবার রাতে রাস্তা দিয়ে আসার সময় তার দুই ট্রাক পশু ওই হাটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখন হাট কর্তৃপক্ষ বলছে- কেনা দামের চেয়ে কম টাকায় পশু বিক্রি করতে। এ নিয়েও তাকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। কদমতলী এলাকায় একটি অবৈধ পশুর হাট বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবারই কদমতলী এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে হাট বসানো হয়। এবারো কদমতলীতে পশুর হাট বসানোর জন্য অবকাঠামোগত প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। সিলেটের প্রধান পশুর হাট কাজির বাজার পশুর হাট। গতকাল পর্যন্ত এই হাটে পশু বিকিকিনি শুরু হয়নি। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকেই এই হাটে পশু বিকিকিনির ধুম পড়ে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। গতকাল দুপুরে বাজারে গিয়েও এই দৃশ্য চোখে পড়েছে। হাটের ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন লোলন জানিয়েছেন- আজ সকাল থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত পশু বিক্রি চলবে বাজারে। গতকাল কিছু বিক্রি হয়েছে। পশুর দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। ক্রেতারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু কিনে নিয়ে যেতে পারেন সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান- এবার হাটে তুলনামূলক কম পশু উঠেছে। এ কারণে পশুর যাতে সংকট না হয় সে কারণে উত্তরাঞ্চল থেকে পশু আনা হচ্ছে। রাস্তায় অর্ধশতাধিক ট্রাক রয়েছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত পশু আসতেই থাকবে বলে জানান তিনি। এদিকে- কাজিরবাজার পশুর হাটের বেপারী আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন- এবার বাজারে অনেক পশু রয়েছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে না। অন্যবার এই সময়ে অর্ধেক পশু বিক্রি হয়ে যেতো। কিন্তু এবার দু’একটি ছাড়া সব গরুই অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। সিলেটের বাইরে থেকে আসা বেপারীরা জানান- এবার পশুর ক্রয় মূল্যই পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। এর কারণ- বিক্রেতারাই পশুর দাম হাঁকছেন কম। এরপরও ক্রয় মূল্যের নিচে ক্রেতারা পশুর দাম হাঁকছেন। করোনাভাইরাসের একটি প্রভাব পশুর হাটে পড়েছে বলে দাবি করেন তারা। সিলেটে এবার অনলাইনে পশু বিক্রির হাট বসিয়েছিল প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সেখানে ক্রেতাদের সাড়া মেলেনি। অন্যান্য বছর খামারেই বিক্রি হয়ে যেতো অনেক পশু। কিন্তু এবার অনলাইনেও তেমন সাড়া নেই জানিয়েছেন খামারিরা। এদিকে- সিলেটের লাক্কাতুরা স্কুলের পশুর হাট স্থগিত করে দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্টের আইনজীবী এডভোকেট মুশতাক আহমদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- লাক্কাতুরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের পিটিশনের ভিত্তিতে মহামান্য হাইকোর্ট এই অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেন। পিটিশনে তিনি উল্লেখ করেন- করোনাকালীন সময়ে স্বুল মাঠে পশুর হাট বসালে আশেপাশে এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া ২০০৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে যেটিতে পরিষ্কার উল্লেখ আছে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো মেলা, যাত্রা বাণিজ্যিক লাভমান কোনো কিছু যাবে না। সেই প্রজ্ঞাপনটিও সেক্ষেত্রে ফলো করা হয়নি বলেও তিনি জানান। লাক্কাতুরা স্কুলের মাঠে পশুর হাট নিয়ে আন্দোলনে নামে পরিবেশবিদরা। পরিবেশবিদদের দাবি- সিলেট সদর উপজেলায় একাধিক উন্মুক্ত স্থান থাকা সত্ত্বেও লাক্কাতুরা চা-বাগানে বিদ্যালয়ের আঙিনায় রোপণ করা গাছ নষ্ট করে পশুর হাট কেন?’- এ প্রশ্ন উত্থাপন করে মুজিববর্ষে রোপণ করা বৃক্ষ রক্ষায় হাট সরানোর দাবিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের উদ্যোগে প্রতিবাদী অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। তারা বলেন- লাক্কাতুরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও লাক্কাতুরা চা-বাগান কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আপত্তি সত্ত্বেও লাক্কাতুরায় বিদ্যালয় মাঠে হাটের ইজারা দেয় সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসন। এ কারণে পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্ট

কারণ ছাড়াই বন্ধ করতে চান ডিসি!

৫ আগস্ট ২০২০

সরকারের ব্যর্থতার দায় নির্ধারণে চার দফা প্রস্তাব জেএসডি’র

৫ আগস্ট ২০২০

করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার দায় নির্ধারণে চার দফা প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। ...

প্রাইজবন্ডের ১০০তম ড্র অনুষ্ঠিত

৫ আগস্ট ২০২০

একশ’ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের সর্বশেষ ১০০তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ীর ...

কামারদের দুর্দিন

৩১ জুলাই ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত