এইচএসসি পরীক্ষা কবে?

পিয়াস সরকার

প্রথম পাতা ২৯ জুলাই ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫৯

সাবিহা আলম। রংপুর সরকারি কলেজের এই শিক্ষার্থীকে তার বাবা নিয়ে গিয়েছিলেন মানসিক চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক তার প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করেন উদ্বিগ্নতা। যার ফলে প্রয়োজনীয় ঘুম হচ্ছে না। ঘুমে প্রায়ই দেখছেন দুঃস্বপ্ন। সাবিহা এইচএসসি পরীক্ষার্থী। করোনায় গৃহবন্দি সাবিহার সারাদিন কাটে ভীষণ দুশ্চিন্তায়। সাবিহা বলেন, সারাদিন থাকতে হয় বাড়িতে।
এরই মাঝে সারাক্ষণ মাথায় কাজ করে পরীক্ষা। কবে হবে পরীক্ষা? তিনি বলেন, রাতে ঘুমাতে পারি না ঠিকমতো। দুঃস্বপ্ন দেখি, সারা শরীর ঘামে ভিজে যায়। ডাক্তারের কাছে যাবোই না, আব্বু জোর করে নিয়ে গিয়েছিল।
সাবিহার চিকিৎসক মানসিক রোগ বিশেষঞ্জ ডা. ইমতিয়াজ সাব্বির। বসেন রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তিনি বলেন, সাবিহার তেমন কোনো সমস্যা নেই। সর্বক্ষণ পরীক্ষা নিয়ে চিন্তা করায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না। আর ঘুমালেও তা স্বাস্থ্যসম্মত হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, আপনি খেয়াল করে দেখবেন আমরা অনেকেই স্বপ্ন দেখি- পরীক্ষার হলে বসে আছি, কিছু লিখতে পারছি না, পরীক্ষার সময় শেষ হয়ে আসছে কিংবা কলমে কালি নেই। এ থেকে বোঝা যায় আমাদের মাঝে একটা পরীক্ষা ভীতি রয়েছে। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা পিছিয়ে যাবার কারণে তারা স্বভাবতই দুশ্চিন্তা করছেন। আমি এসব পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বলতে চাই- করোনা, পরীক্ষা এসব নিয়ে তারা অনেক চাপে রয়েছে। তাদের একটু চাপমুক্ত রাখুন। তাদের এই সময়টাতে রাগারাগি না করাই উত্তম।
প্রাণঘাতী করোনায় থমকে আছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল প্রায় ১৩ লাখ পরীক্ষার্থীর। ১লা এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা ছিল তাদের এই পরীক্ষা। পরীক্ষা না হওয়ায় বিপত্তিতে পড়েছেন অভিভাবকরাও। রাজধানীর হলিক্রস কলেজের পরীক্ষার্থী মালিহা মিম। তার ব্যাংকার বাবা মমিনুল রশিদ বলেন, লেখাপড়া আর কই? বই খাতা উঠিয়ে ফেলেছে প্রায়। এখন সারাদিন ল্যাপটপ নিয়েই পড়ে আছে। আরেক অভিভাবক তমা সাহা বলেন, পড়তে বসতে বললেই রেগে যায়। আগে বাড়িতে ৩ জন শিক্ষক আসতেন পড়াতে। করোনার কারণে তাদের আসতে না করেছি। প্রথম দিকে পড়তে বসতো এখন ধীরে ধীরে পড়ালেখাই ছেড়ে দিয়েছে।
কিন্তু কবে হচ্ছে এই এইচএসসি পরীক্ষা? ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, করোনার এই সময় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এই অবস্থায় যদি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তবে দেশজুড়ে কয়েক লাখ মানুষ একত্র হবেন। স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা সম্ভব হবে না। পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ অনেকের ভিড় হবে। তাই আপাতত এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সন্তানদের ঝুঁকিতে ফেলা ঠিক হবে না।
এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নেয়া হবে বলে একাধিকবার জানানো হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম আমিরুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। আমরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করছি। কলেজগুলো খুললেই ১৫ দিনের মাথায় পরীক্ষা নেয়া সম্ভব।
এ ছাড়াও পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত এইচএসসি পরীক্ষা হয় দেড় মাসে। এবার তা করা হতে পারে এক মাসে। বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি থেকে এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। আগামীতে করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে পরীক্ষার বিষয়টি।
একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কবে নাগাদ পরীক্ষা হতে পারে এর উত্তর দিতে পারেননি কেউই। সকলেই করোনা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল বলে জানান। একটি কথা উঠেছিলো সিলেবাস কমিয়ে আনার। তবে এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, বিষয় কমিয়ে লাভ কী? করোনার কারণে যদি কখনো এমন পরিস্থিতি দেখা দেয়, কোনোভাবেই এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া যাচ্ছে না, আরেকটি বছর চলে এসেছে বা সময়ে একেবারেই কুলাচ্ছে না, তখন দূরবর্তী একটি সম্ভাবনা হিসেবে বিষয় কমানোর কথা ভাবা যেতে পারে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৭-৩১ ০৫:২০:৩৩

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ বলেছেন প্রাণঘাতি করোনা মহামারির মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে ফেলে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয়। এই বাস্তব সিদ্ধান্তের সাথে সম্ভবত কোনো অভিভাবক দ্বিমত পোষণ করবেননা। যেনে বুঝে তো আর কেউ নিজের সন্তানকে বিপদে পড়তে দিতে পারেননা। সংক্রমণের ঝুঁকিতে থেকে পরীক্ষার্থীরা যদি আতংকে থাকে তাহলে তারা ঠান্ডা মাথায় সুস্থিরভাবে পরীক্ষা দিতে পারবেনা। তবে ঘরবন্দী পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীরা হতাশা ও নিরাশার মধ্যে হাবুডুবু খেতে খেতে তলিয়ে যাচ্ছে। জানিনা হতাশা থেকে কোনো কোনো পরীক্ষার্থী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে কিনা। তা হলে একটি ফুল ফোটার আগেই ঝরে যাবে এবং একটি পরিবারের স্বপ্নসাধ ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। নিজের সন্তানদের করুন অবস্থা দেখে ও তাদের ভবিষ্যৎ পরিনতির কথা ভেবে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার সীমা নেই। অনেক অভিভাবক নির্ঘুম রাত কাটায়। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হলে পরীক্ষা নেয়া সম্ভব নয় সত্য। কিন্তু লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর জীবনের আসল সার্থকতা তাদের শিক্ষা ও দীর্ঘ খাটাখাটুনির প্রস্তুতির পর বহু কাংখিত পরীক্ষার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত। শিক্ষার বন্ধ্যাত্ব অবস্থা থেকে শিক্ষার্থীদের তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে মুক্ত করা উচিত যে কোনো মূল্যে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনলাইনে সমাপ্ত করেছে। কয়েকদিন আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে অনলাইনে এইসএসসি ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নিতে বলা হয়েছে নটরডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ, সেন্ট জোসেফ ও সেন্ট গ্রেগরি কলেজকে। কিন্তু করোনা ভাইরাস মহামারী কবলিত হতাশায় নিমজ্জিত লাখ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার গতি সচল ও অব্যাহত রাখার জন্য অনলাইনে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা কী অসম্ভব ? আইসিটি বিশেষজ্ঞগণকে সম্পৃক্ত করে এবিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা করা এবং কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে পরীক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে পরীক্ষা নেয়া মন্ত্রণালয়ের জন্য একটা যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে এবং একটি অনন্য মাইল ফলকের দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর তা যে কোনো কারণেই হোক, পরীক্ষা দিতে না পারা যে কোনো শিক্ষার্থীর জন্য হতাশার, অপমানের ও লাঞ্চনার এতে সন্দেহ নেই। যেই পরীক্ষায় সাফল্যের সাথে অংশ নিয়ে তারা উচ্চশিক্ষার সোপানে উপনীত হবে সেই পরীক্ষায় সময়মতো অংশ নিতে না পারাটা কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি কষ্টের ও যন্ত্রণার। জন্ম দিয়ে মা-বাবাই শুধু শিক্ষার্থীদের একমাত্র অভিভাবক নয়। সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীও প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবক। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একবার বলেছেন বিষয় সংখ্যা কমিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেবেন। এখন নাকি আবার বলেছেন, বিষয় কমালে লাভ নেই। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। বহু পরীক্ষার্থী ঘরবন্দী থাকতে থাকতে পড়ার ছন্দ হারিয়ে ফেলেছে এবং পাঠ বিমুখী হয়ে গেছে। ঘরবন্দী পরীক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে হবে এবং বিষয় সংখ্যা কমিয়ে দিলে মানসিক চাপ বহুগুণে কমে যাবে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখার যে বিভাগের জন্য যে সাবজেক্ট কম গুরুত্বপূর্ণ বা এমন নয় যে একেবারে না হলেই নয় সেই সব সাবজেক্ট সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরীক্ষার্থীদের জন্য বাদ দিতে হবে এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট আবশ্যিক বিষয়গুলোর পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে এই ঘরবন্দী বিরূপ পরিস্থিতির দরুন চরম হতাশার শিকার পরীক্ষার্থীরা অধিকতর সাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। যেটা তাদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা এবং উন্নত ও মানসিক সুস্থ জীবনের জন্য অত্যাবশ্যক। বিভিন্ন আর্থিক ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার সহায়তা নজর কাড়ে। দুঃসময়ের বিবেচনায় কোমলমতি শিক্ষার্থী-পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাড় দেয়ার মধ্যে এবং অনলাইনে তাদের পরীক্ষা নিতে আর্থিক ও কারিগরী যা যা করা লাগে তার ব্যাবস্থ করার মধ্যে কোনো অন্যায্যতা নেই বরং তা হবে বাস্তব, যৌক্তিক এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

Rayhan

২০২০-০৭-২৮ ১৯:৪৫:০৯

ভাই মেয়েরাই শুধু পরীক্ষা দিবে?

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

অদৃশ্য আতঙ্ক

১২ আগস্ট ২০২০

মুখোমুখি প্রদীপ-লিয়াকত

একে অন্যকে মদ্যপ বলে দায় চাপানোর চেষ্টা

১২ আগস্ট ২০২০

ঢামেকের সেই বিল অনুমোদন হয়নি

রোগীর খাবারই পাঠানো হতো হোটেলে

১২ আগস্ট ২০২০

সিনহার মায়ের কান্না

এটাই যেন শেষ ঘটনা হয়

১১ আগস্ট ২০২০

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি

কোতোয়ালি থানার ওসি’র বিরুদ্ধে মামলা

১১ আগস্ট ২০২০

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



শখ ছিল অ্যাডভেঞ্চারের দেখতে চেয়েছিলেন দুনিয়াটাকে

যেভাবে বেড়ে ওঠেন সিনহা

স র জ মি ন টেকনাফ

‘থানা গরম প্রবেশ নিষেধ’

ঢামেকের সেই বিল অনুমোদন হয়নি

রোগীর খাবারই পাঠানো হতো হোটেলে