ওয়ার্ল্ড রিপোর্টার

শিষ্টাচার

মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার

মত-মতান্তর ৮ জুলাই ২০২০, বুধবার

‘Be modest, be respectful of others, try to understand’ Lakhdar-Brahimi.
Etiquette defined as good behavior which distinguishes human beings from animals.

শিষ্টাচার ফরাসি শব্দ ‘এস্টিক’ থেকে এসেছে, যা সংযুক্ত বা স্টিক করার অর্থ। Merriam-Webster.এ সঙ্গায়িত সংজ্ঞা ‘আচরণ সঠিক এবং শালীন উপায় নির্দেশক নিয়ম অর্থাৎ ভাল প্রজনন দ্বারা প্রয়োজনীয় আচরণ বা পদ্ধতি বা সামাজিক বা আধিকারিক জীবনের পরিচর্যা কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি”।শিষ্ঠাচার সম্পর্কিত আলোচনায় অধ্যাপক ড: গোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, গালিগালাজ আর নিকৃষ্ট শব্দ ব্যবহারের ফলে তরুণ প্রজন্ম যারা রাজনীতি করতে আগ্রহী তারাও রাজনীতি বিমুখ হয়ে যাচ্ছে।আর এ সুযোগ সাধারণত গ্রহণ করে রাজনীতির বাইরে থাকা শক্তি”।তাই রাজনীতিবিদের উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা করা উচিত নিজেদের স্বার্থে, দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে।

সহনশীলতা; সমাজ বা রাজনীতিতে ক্রমশ উধাও হয়ে যাচ্ছে অতীত রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও রাজনীতিবিদদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা সৌজন্যবোধ বা ভাষায় ভদ্রতা অটুট ছিল,যা গনতন্ত্র স্থায়িত্বে অপরিহার্য।ভিন্ন মত গনতন্ত্রের ভিত বা মৌলিক ভিত্তি। রাজনৈতিক সভায় একে অপরের সমালোচনা বা তির্যক বাক্য ব্যবহার করলেও ব্যক্তির চারিত্রিক গীবত রাজনীতির কারণেও অতটা অখাদ্য ছিলনা।বর্তমানে শিষ্ঠাচার ও শ্রদ্ধার জায়গায় স্থান পেয়েছে আত্মম্ভরিতা,গ্যাংবাজি বা ক্ষমতালিপ্সা।

গণমানুষের সুবিধার্থে আধুনিক জাতি রাষ্ট্রের উদ্ভব। আর রাজনৈতিক নেতার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যই হচ্ছে সর্বজনীন জনস্বার্থ সংরক্ষণ,কাউকে ঘায়েল করার ক্ষেত্রে অসুন্দর ভাষায় নিন্দা বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার মধ্যে কোন স্বার্থকথা বা আমিত্ব নেই বরং একজন সম্মানিত ব্যক্তির সম্মান রক্ষা করাই আদর্শ রাজনীতিবিদের বৈশিষ্ট্য।সিনিয়রদের কাছ থেকে ছোটরা ভাল ব্যবহার ও মন:পুত আচরণ একটু আদর একটু ভালবাসা আশা করে।আর ভায়ায় মাধুর্যতা রক্ষা করা সকল মহলের স্বকীয় দায়িত্ব।এতে রাজনীতির চর্চা বিকশিত হয় সমাজ উপকৃত হয় রাষ্ট্র লাভবান হয়।

ইদানীংকালে রাজনৈতিক সমালোচনা বা আলোচনায় উঠতি গ্যাংবাজরা তাদের স্বীয় অবস্থান বিবেচনায় না নিয়ে বরং তাদের মনঃপুত বক্তব্য বা বিবৃতি না হলে সিনিয়র নেত্রীবৃন্দের চৌদ্দপুরুষ উদ্ধার এ যেন পেশী শক্তির হোলি খেলা।এমনকি ভাষার মাধুর্যতা রক্ষারও ভ্রুক্ষেপ নেই।যা গ্যাংবাজ বা দুর্বৃত্তায়নে আকৃষ্ট গ্যাংলিডারকে খুশীতে সব শিক্ষাই গৌন। যদিও বলয় রাজনীতিতে সাময়িক তৃপ্তি মেলে কিন্তু স্থায়িত্বকাল স্বল্প ইতিহাসও তাই বলে।বলয় সৃস্টিতে ইন্ধন দাতা বা ইন্ধনকারী দুএকজন ভাগ্যক্রমে প্রমোশন হাকিয়ে থাকলেও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পরবর্তীতে স্নায়ুচাপ বা স্নায়ুরোগে ভোগেন।সৃষ্ঠির রাজনীতিতে যা মোটেই কল্যানকর নয়।

অতীত রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের মধ্যে কি অমায়িক মিল ও শ্রদ্ধা ছিল সিনিয়রদের প্রতি সম্মান ছিল নিখাদ।সনটা ১৯৯৪/৯৫ হবে ঢাকায় জালালাবাদ এসোসিয়েশন বৃহত্তর সিলেটের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সমাবেশ ও আনন্দ উৎসব।জালালাবাদ এসোসিয়েশনের বার্ষিক ডিনার পরবর্তীতে প্রয়াত এম সাইফুর রহমান সাহেব(তখন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী) মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ সাহেবকে শুধু গাড়ীতে উঠিয়ে দেননি বরং যতক্ষন পর্যন্ত সামাদ আজাদ সাহেবের গাড়ী ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউট সীমানায় ছিল ততক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বিদায় জানান । ভিন্ন রাজনৈতিক মতবাদে বিশ্বাসী রাজনীতিবিদদের কি অহিংস আচরণ বা হ্রদ্যতা যা সত্যিই অতুলনীয়। এমনকি সিলেট বিভাগ আন্দোলনের সময় বৃহত্তর সিলেটের সকল সাংসদ মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বে ঢাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে সিলেটকে বিভাগ ঘোষণার দাবী সকল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রসংশিত।ফলশ্রুতিতে সিলেট বিভাগ বাস্তবায়ন তরান্বিত হয়।

যে দেশে রাজনীতিবিদরা অমর্যাদার শিকার হন সে দেশে কল্যান হয় না বরং রাষ্ট্র বা সমাজে অকল্যাণই সাধিত হয় বেশী।কারণ রাজনীতিবিদরাই দেশের কল্যাণ সাধন করেন, সমাজ গঠনে মূখ্য ভূমিকা গ্রহন করেন পরিবার প্রথায় শ্রদ্ধার আসন বৃদ্ধিতে সাহায্য করেন।উল্লেখ্য জহুরলাল নেহরু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পত্নী ভিকারুননিসা নূনের পায়ে পদক পরিয়ে নিজেই সম্মানিতবোধ করেন,যা পরবর্তীতে মালিক ফিরোজ খান তার জবানীতে আত্মতৃপ্তির সঙ্গে উল্লেখ করেন।কি আশ্চর্য ভালবাসা বা সম্প্রীতির শিক্ষা !

ভদ্রতা বা শ্রদ্ধা পরিবার থেকেই অনেকটা রপ্ত করতে হয়।বর্তমান সময়ে একদলের নেতার প্রতি অন্য দলের নেতাকর্মী সম্মান দেখাতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে হয় না। বড়রাও ছোটদের অনেক আদর স্নেহ বা সততার উপদেশ দিতেন।কালের রাজনীতিতে সহমর্মিতা সহনশীলতা এমনকি প্রতিপক্ষ রাজনীতিবিদদের ছেলেমেয়েদের বিয়ে সাদিতে অংশগ্রহন চোখে পড়ার মত ছিল,এখন অনেকটা হিসেবে ! সুস্থ্য সমাজ ব্যবস্থায় রাজনীতিবিদদের আর বলিষ্ঠ ভূমিকা নিতে হবে জাতির স্বার্থে, সমাজের প্রযোজনে, দেশের ভবিষৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল বিনির্মাণের লক্ষ্যে।রাজনীতিবিদরা সচেতন হউন চিন্তায় মননে এই প্রত্যাশায়।

মুহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার
লন্ডন।
Email: [email protected]

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

কথার মারপ্যাঁচ

৩ আগস্ট ২০২০

সফলতার মূলমন্ত্র!

২৭ জুলাই ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত