করোনার পরে চীনে প্লেগের সংক্রমণ, হাই অ্যালার্ট জারি

মানবজমিন ডেস্ক

শেষের পাতা ৭ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৯

করোনার পর বিউবনিক প্লেগ। নতুন মহামারির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চীনে। দেশটির মঙ্গোলিয়া নামক স্থানে এ নিয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। রোববার উত্তর চীনের মঙ্গোলিয়ায় বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত  রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এর আগে দক্ষিণ মঙ্গোলিয়াতেও দুইজনের শরীরে বিউবনিক প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল। এ খবর দিয়েছে ডয়েচে ভেলে। খবরে জানানো হয়েছে, রোববারের ঘটনার পরেই মঙ্গোলিয়া প্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সেখানকার প্রশাসন জানিয়েছে, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত এই অ্যালার্ট জারি থাকবে।
কারণ, বিউবনিক প্লেগ সংক্রমক। দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়তে পারে। গত শনিবার মঙ্গোলিয়া প্রদেশের একটি হাসপাতালে অজানা রোগ নিয়ে ভর্তি হন এক রোগী। শনিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, ওই রোগী বিউবনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়েছেন। বিউবনিক প্লেগ একটি সংক্রমক এবং ভয়াবহ অসুখ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। বিউবনিক প্লেগ বোঝার পরেই চিকিৎসকরা স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন। রোববার তারই জেরে প্রশাসন তৃতীয় স্তরের হাই অ্যালার্ট জারি করে।

১৪ শতকে ইউরোপে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ে। কারো জানা ছিল না কোথা থেকে এর উৎপত্তি। একটা সময়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লো যে ইহুদিরা পরিকল্পিতভাবে এই রোগ ছড়িয়েছে। ইতিহাসজুড়ে সব থেকে বেশি নির্যাতিত জাতি হচ্ছে ইহুদিরা। তাদেরকে নির্যাতনের জন্য বেছে নেয়া হতো মিথ্যা গুজবকে। প্লেগের পেছনে আছে ইহুদিরাই; এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন জায়গায় তাদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। জোরপূর্বক উচ্ছেদও করা হয় অনেককে।
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থার দাবি, গত ১লা জুলাই দক্ষিণ মঙ্গোলিয়াতেও দুইজনের শরীরে বিউবনিক প্লেগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল। একজনের বয়স ২৭, অন্য জনের বয়স ১৭। জানা গেছে, তারা ম্যারমোটের মাংস খেয়েছিলেন। ম্যারমোট হলো এক ধরনের পাহাড়ি মূষিক। মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে অনেকেই এর মাংস খেয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বন্য ইঁদুর এবং ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর শরীরে এক ধরনের পোকা জন্মায়। সেই পোকার মাধ্যমেই বিউবনিক প্লেগের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হয়। দ্রুত এই ব্যাকটেরিয়া একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে বলে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন বলছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা না হলে এই রোগ থেকে মৃত্যু হতে পারে।

মঙ্গোলিয়া প্রদেশে বলা হয়েছে, সামান্য অসুস্থতা থাকলেও চিকিৎসকদের কাছে যেতে হবে। শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাড়িতে বসে থাকা যাবে না। আশঙ্কায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। করোনাতে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ধসে পড়েছে। ফের আরেকটি মহামারির প্রাদুর্ভাব ঘটলে বিশ্বের চেহারা ভয়াবহ হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২০-০৭-০৬ ১৮:৫৭:০৭

পৃথিবীতে এমন কোন জীবজন্তু নাই চায়নিজরা খায় না। মুসলিম খ্রীষ্টান ইহুদি বৌদ্ধ হিন্দু ধর্মে খাদ্য তালিকা আছে । নিষিদ্ধ ও আছে অনেক প্রাণী । কিন্তু চায়নিজরা সব খায়। আর বিশ্বকে বিপদে ফেলে। এই জাতিকে পরিহার করা উচিত ।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

দের স্পিগেলের প্রতিবেদন

বাংলাদেশে মাদকযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে

৮ আগস্ট ২০২০

কাশিমপুর কারাগারে বন্দি নিখোঁজ

৮ আগস্ট ২০২০

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে এক বন্দি নিখোঁজ রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লকআপের পর থেকে ...

সরকার হটানোর দিবাস্বপ্ন দেখছে কেউ কেউ

৮ আগস্ট ২০২০

 পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনাকে ইস্যু করে কেউ কেউ ...



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত